সরকারি অনুষ্ঠানে জেলাশাসকের সঙ্গে একই মঞ্চে হাজির ‘ফেরার ‘ বাবু মাস্টার

0

Last Updated on

সন্দেশ খলির বিজেপি কর্মী প্রদীপ মন্ডলের স্ত্রীর দায়ের করা এফআইআর-এ নাম রয়েছে ডাকসাইটে তৃণমূল নেতা বাবু মাস্টারের | উত্ত২৪পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্যও এই বিপুল পরাক্রমশালী ব্যক্তি | বিজেপি কর্মীর নৃশংস হত্যার পিছনে ঘুঁটি সাজানো থেকে তা নিপুণভাবে সম্পন্ন করার পিছনেও নাকি রয়েছে তাঁরই হাত | অভিযোগ স্থানীয় থেকে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব | চুনোপুঁটিদের ধরা গেলেও পুলিশের খাতায় ফেরার এই তৃণমূল নেতা | অন্তত আদালতে পুলিশের দেখানো রিপোর্টে সে কথারই উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্রের খবর |

চারদিন আগে উত্তর২৪পরগনার লোকসভার দায়িত্ব ভাগ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | তার আগে তৃণমূলের জেলাস্তরের নেতাদের বৈঠকে বাবু মাস্টারের উজ্জ্বল উপস্থিতি নিয়ে হইচই পড়ে গেছিল |
সোমবার আরও কয়েক কদম এগিয়ে সরাসরি সরকারি সভায় এবার হাজির জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য | পুলিশের খাতায় ফেরার থাকা অভিযুক্ত বাবু মাস্টারকে এবার দেখা গেল কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে | উপলক্ষ্য জেলা পরিষদের ৩৩তম বার্ষিক সম্মেলন | সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী |

অনুষ্ঠানের পর সংবাদমাধ্যমকে একবার তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর কথাগুলো বললেন | কিন্তু বেকায়দা প্রশ্নের সামনে আর দাঁড়ালেন না তিনি | প্রশ্ন করলেন, সাংবাদিকেরা কি করে জানলেন যে পুলিশের খাতায় এইআইআর এ তাঁর নাম আছে অথচ পুলিশ তাঁকে ফেরার বলছে ? বুক বাজিয়ে বলে গেলেন ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোন সম্পর্ক নেই| তা নাকি জানেন স্থানীয় বিজেপি নেতারাও | সবটাই আসলে একটা চক্রান্ত | আর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রসঙ্গে তো বেজায় চটে গেলেন | বললেন তিনি অপরাধী নন | আর জামিন নেবেন কিনা তার কৈফিয়ত তিনি মোটেই সংবাদ মাধ্যমকে দেবেন না |

প্রথম বার এই প্রতিক্রিয়ার পর সংবাদমাধ্যম ফের তাঁর কাছে পৌঁছতে আর দাঁড়াতে নারাজ বাবু মাস্টার | বললেন আইনকে তিনি সম্মান করেন | কিন্তু নিশ্চিত পুলিশ কোনভাবেই এখানে তার কোন যোগসূত্র পাবে না | গোটা সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে ঠোঁটে হাসি ধুলিয়ে রাখলেও তিনি যে বেশ অস্বস্তিতে এই ঘটনায় তা ফুটে উঠছিল ছবিতে | কথা শেষে একপ্রকার পুলিশি প্রহরায় তাঁর গাড়ি বাইরে বের করে দেওয়া হল |

এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয় | বিজেপি কর্মী খুনে আর এক অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানকে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো একটি সংবামাধ্যমের সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ,” শাহজাহান ভালো ছেলে | ও এলাকায় খুবই জনপ্রিয় |” বিরোধীদের প্রশ্ন অপরাধমূলক কাজকর্মে তবে কী উৎসাহ দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ? বাবু মাস্টারের বিষয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও কাটমানির প্রসঙ্গের মতই সন্দেশখালির মত এত বড় ঘটনায় যে বাবু মাস্টারের নাম উঠে এসেছে তা কি সত্যি অজানা তাঁর ? বিরোধীরা বলছেন অন্য কথা | দল বিশেষে নাকি বদল যায় তাঁর অবস্থান | ভাটপাড়ায় অশান্তি থামাতে রং না দেখে তিনি কাজ করতে বলেছেন পুলিশকে | তবে সন্দেশখালির ক্ষেত্রে তিনি ঠিক কি অবস্থান নিয়েছেন তা জানতে চাইছে রাজ্যবাসী | তিনি যদি নাও বা জানেন,জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসক একটি সরকারি অনুষ্ঠানে একজন অভিযুক্তকে থাকার অনুমতি দিলেন কীভাবে , উঠছে সে প্রশ্নও | পুলিশ কিছুতেই বাবু মাস্টারের সঙ্গে সন্দেশখালির কোন যোগসূত্র খুঁজে পাবেনা, একাধিকবার দাবি করেছেন স্বয়ং বাবু মাস্টারই | এই আত্মপ্রত্যয়ের পিছনে কী লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোন ইঙ্গিত ? পুলিশ ও প্রশাসনের নীরবতায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের প্রতি বিশ্বাস সাধারণ মানুষের তলানিতে ঠেকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা |

সরকারী অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রশাসন আর জেলা শাসককে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চ আলো করলেন কুখ্যাত রাজনৈতিক চরিত্র যিনি কিনা পুলিশের খাতায় ফেরার । পুলিশও তাকে নিরাপত্তা দিতে কুণ্ঠা করল না । তিনি বাবু মাস্টার । তিনি হাসনাবাদ , ভবানীপুর অঞ্চলের তথা বসির হাটের এক বিস্তীর্ণ এলাকার বেতাজ বাদশা । সন্দেশখালি তে দুই বিজেপি কর্মী খুন ও পাঁচ জন বিজেপি কর্মী বেমালুম গুম হয়ে যাওয়ার পরে যে দুজনের নাম অভিযুক্ত দের তালিকায় জ্বলজ্বল করছিল তাঁর একজন বাবু মাষ্টার ও অন্যজন সেখ সাহজাহান । এই দুই অভিযুক্ত ভাঙ্গিপাড়া গণহত্যার পর থেকেই পুলিশ সূত্রমতে ফেরার ছিলেন । আর সেই বাবু মাস্টার ভাস্বর হয়ে উঠলেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের তেত্রিশ তম বার্ষিক সমারোহ আর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে । বুক বাজিয়ে তিনি পুলিশের সামনে জানিয়ে গেলেন তিনি ফেরার নন এবং সন্দেশখালি ঘটনায় তিনি যুক্ত নন । অর্থাৎ অভিযোগ আনলেই হবে না , আইনের প্রমাণই যে সব কথা নয় তা বাবু মাস্টার বুঝিয়ে দিলেন। তিনি বুঝিয়ে গেলেন তিনি নিজেই আইন। জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তী সবকিছুই দেখলেন ও মন্তব্য না করে বুঝিয়ে দিলেন প্রশাসন এখন কিছু ক্ষেত্রে কার্যত মূক বধির থাকাই শ্রেয় মনে করছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here