মুখ্যমন্ত্রীর চমকের কৌশল কি আবার ফিরল ? প্রশ্ন বিরোধীদের

0

Last Updated on

সোমবার ফিরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন অবিলম্বে করতে বস্তি সাফাইয়ের কাজ | মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই শুরু হল কাজ । হাওড়ার বস্তিতে গিয়ে সেখানের অ-ব্যবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার । মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ আসার পরই হাওড়ার ২৯ নং ওয়ার্ডে রাউন্ড ট্যাঙ্ক লেনের বস্তির হাল ফিরল । মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরসভার প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান তথা ২৫ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দাসের নেতৃত্বে সেখানে সাফাই ও নিকাশির কাজ শুরু হয় । এদিন বিশ্বনাথবাবু নিজে উপস্থিত থেকে ২৯ নং ওয়ার্ডের ২ নং রাউন্ড ট‍্যাঙ্ক লেনে ও অন্যান্য জায়গায় ময়লা, জমা জল, আবর্জনা পরিস্কার করানোর কাজে নামেন ।

সোমবার দুপুরে হাওড়ায় প্রশাসনিক সভায় যোগ দিতে আসার পথে মুখ্যমন্ত্রী ফোরশোর রোডের পাশে দু’নম্বর রাউন্ড ট্যাঙ্ক লেনের বস্তিতে আচমকাই চলে আসেন । সেখানে এসে ঘরে ঘরে ঢুকে বস্তির মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। জানতে চান তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা । সেখান থেকে ফিরে হাওড়ার শরৎ সদনের প্রশাসনিক সভায় এসে ওই বস্তির নিকাশি ব্যবস্থা, জমে থাকা আবর্জনা, শৌচাগারের অবস্থা সম্পর্কে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সেখানে কাউন্সিলর কেন এতদিন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি জানতে চান তিনি। মন্ত্রী অরূপ রায় থেকে শুরু করে পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণাকে দ্রুত বিষয়টি দেখতে বলেন।

এরপরই মন্ত্রী অরূপ রায় ওই ওয়ার্ডের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ দাসকে বিষয়টি দেখতে বলেন । মঙ্গলবার ভোর থেকেই ওই বস্তিতে জঞ্জাল সাফাই, নর্দমা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয় । চলে টয়লেট সাফাইয়ের কাজ । রাস্তায় ছড়ানো হয় ব্লিচিং । আবর্জনার স্তুপ পরিষ্কার করে বুজে থাকা নিকাশি নালার হাল ফেরানো হয় । এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিশ্বনাথ দাস বলেন, ” মন্ত্রী অরূপ রায়ের ফোন পেয়ে আজ সকালে আমি ওই বস্তিতে যাই । আমি যেহেতু বোরো চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২৯ নং ওয়ার্ডের দেখভাল করতাম, তাই মন্ত্রী আমাকেই বিষয়টি দেখতে বলেন । এদিন সকালেই তাই আমি রাউন্ড ট্যাঙ্ক লেনের বস্তিতে যাই । ”

প্রসঙ্গত বিশ্বনাথবাবু জানান, ওই বস্তি এলাকাটি পোর্ট ট্রাস্টের জায়গায় রয়েছে । বস্তির বেহাল অবস্থায় মানুষ খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে বসবাস করে । এতগুলি পরিবারের জন্য মাত্র মাত্র চারটি পায়খানা রয়েছে । নর্দমার অবস্থাও খারাপ । পাঁচিল ভেঙে পড়েছে । দীর্ঘদিন যাবৎ নর্দমা সাফাই হয়নি । ভোর ৬টা থেকে সাফাই কর্মীদের নিয়ে পুরো বস্তি এলাকা পরিষ্কার করা হয় । চুন এবং ব্লিচিং ছড়ানো হয় ওই এলাকায় । বাথরুম পায়খানা সাফাই করা হয়েছে । ৩০-৩২ জন সকাল থেকে এই সাফাইয়ের কাজে নেমেছেন । মাটি, কাদা, গ্যাস দুর্গন্ধ হয়েছিল । মু্খ্যমন্ত্রী তদারকিতে স্বাভাবিকভাবেই খুশি বস্তিবাসী |

মু্খ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই মন দিয়েছিলেন বাংলার কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে | তাই যখন-তখন না বলে চলে যেতেন যেখানে -সেখানে | বিষেষ করে প্রথম দফার মমতা সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি দফতরে হানা দেওয়ার প্রবণতাতে তটস্থ হয়ে থাকতেন উচ্চ পদস্থ সরকারি আধিকারিকেরা | সামনে পুরসভা ও তারপর বিধানসভা ভোটে সরকারের ভালো ফল হবে কি হবে না এই দোলাচলের মধ্যে আবারও কি তিনি শুরু করলেন জনমোহিনী সেই কৌশল ? প্রশ্ন করছেন বিরোধীরা |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here