বিধায়ককে দুষে বরো চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্মুখ সমরে তৃণমূল কর্মী

0

Last Updated on

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই যেন ছন্নছাড়া লেগেছে শাসক দলকে | নানা জায়গার কর্মীরা তোপ দেগেছেন নিজেদের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে| বর্ধমানের দুই জেলাতেও নানা জায়গায় কান পাতলে শোনা গিয়েছে ক্ষোভের কথা | কয়েকদিন আগে জেলা পরিষদের সদস্যের মুখ থেকে শোনা গিয়েছিল তার উপরতলার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ | আবার শুক্রবার দুর্গাপুরের কর্মীকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে | আবারও তেমনই একটি ‌ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে জেলা নেতৃত্ব |

ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুর জেলা তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে এক তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন ৪নং বরোর চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি | জনৈক তৃণমূলের কর্মী টোটন দাস অভিযোগ করেন,বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়ালের নির্দেশেই তাঁর বাবা প্রশান্ত দাসের চাকরি চলে যায় ইন্ডিয়ান অয়েলের বটলিং প্ল্যান্ট অস্থায়ী কর্মীর পদ থেকে | দীর্ঘ ৩০বছরের এই চাকরি চলে যাওয়ার পিছনে বিশ্বনাথ বাবুর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে ওই বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ব্যানার্জিরও হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করতে থাকেন টোটন দাস | টোটনের সঙ্গে থাকা আরেক তৃণমূল কর্মী নরুল হোতাও টোটন দাসের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলেন, ২০০৭ সাল থেকে তৃণমূল দল করেও তারা কিছু পাইনি |

টোটন দাসের অভিযোগ বিশ্বনাথ পাড়িয়াল কংগ্রেসে যখন যোগ দিয়েছিলেন তখন তাদেরকে দল ছাড়তে বলেন | কিন্তু তারা তৃণমূলকে ভালোবেসে দলে থেকে যান | এরপর বছর তিনেক আগে যখন ফের বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে কংগ্রেস বিধায়ক থাকলেও তৃণমূলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি করা হয় ,তখনই পুরোনো রাগ মিটিয়ে নেয় টোটন দাসের পরিবারের উপর | তার বাবাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করিয়ে দেয় | বলে ওই তৃণমূল কর্মী |

এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে একসময় বিবাদ চরমে পৌঁছয় | তখন তৃণমূল পৌরপিতা তথা বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি টোটনকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করতে থাকেন নরুলও | বিশ্বনাথ পারিয়ালের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চন্দ্রশেখরকে তার বাবার অপসারণের জন্য দায়ী করে এই ঘটনার সূত্রপাত হলেও এরকম কোন অভিযোগই মানতে চানিন চন্দ্রশেখর | তিনি বলেন, টোটন দাস নামে ওই তৃণমূল কর্মী মদ্যপ অবস্থায় ছিল | তাঁর সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন বা বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িযালের কোন প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই | দলীয় অনুষ্ঠানে আসেন এইটুকুই | উপরন্তু টোটন দাসের বাবার চাকুরি যাবার পর তার বাড়িতে বাবাকে দেখাশোনার জন্য টোটনের মাকে তিনি মাইনে দিয়ে রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন চন্দ্রশেখর | বিশ্বনাথ পাড়িয়াল বা চন্দ্রশেখর ব্যানার্জিকে পরে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করার চেষ্টা করা হলে তাদেরকে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি |

দিদিকে বলো-র প্রচার করে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন | কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সেই নেতারাই যখন নিজেদের কর্মীর মুখে হাসি ফোটাতে পারছেন না,তখন তারা কি পারবেন সাধারণ মানুষের সমস্যা দূর করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here