চোর ধরতে পুলিশ নয় , গুণীন ডাকার নিদান গ্রামের মোড়লেরই

0

Last Updated on

লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বাড়তে থাকা হিংসার ফলে রাজ্যবাসী আস্থা তলানিতে ঠেকেছিল পুলিশের উপর | বেশ কয়েকটি ঘটনায় তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে | বেলদার এই ঘটনা একেবারে পুলিশের উপর চরম অনাস্থার ছবি তুলে ধরল | চোর ধরতে খবর যাওযা উচিত কোথায় ? স্থানীয় থানাতে | সেখানে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরই মিলতে পারে সমাধান সূত্র | এমনটাই সাধারভাবে হওয়ার কথা | কিন্তু না | চোর ডাকতে ডাক পড়ল গুণিনের | তবে গুণিনকে এদিন দেখা যায়নি । তার খোঁজ চালাচ্ছে বেলদা থানার পুলিশ ।

বুধবার বেলদা থানার বড়মাৎকতপুর গ্রামের ঘটনায় হতবাক স্থানীয় পুলিশ কর্তারা । বুধবার গ্রামে মুকুল মাইতির বাড়িতে চলছিল গুণিন ডেকে পুজোর প্রস্তুতি । প্রতিবেশীরা জানা মঙ্গলবারও পুজো হয়েছে । কিন্তু কীসের এই পুজো ভেবে পাচ্ছিলেন না প্রতিবেশীরা | খোঁজ নিয়ে জানা যায় বাড়ির মালিক পুজো করছেন চোর ধরার জন্য । আর পুলিশ প্রশাসনে না জানিয়ে গুণিন ডেকে চোর ধরতে অনুমতি দেন নাকি সেই গ্রামেরই দুই মোড়ল । আর সেই মতোই চলছিল প্রক্রিয়া ।

জানা যায় গৃহকর্তা মুকুল মাইতির স্ত্রীর সোনার গয়না চুরি যায় কয়েকদিন আগে । তবে চোরের খোঁজ পাচ্ছিলেন না তাঁরা । সিদ্ধান্ত নেন গুণিন ডেকে কাঠিচালার মধ্য দিয়েই চোর ধরা পড়বে । একবিংশ শতাব্দীতে মধ্যযুগীয় কুসংস্কার ও বুজরুকিতে মেতে যায় গোটা গ্রাম। পুজো দেখতে মেলা মানুষের ভিড় । এদিন জানতে পেরে পুজো বন্ধ করে পুলিশ ।

গ্রামে করা হয় সচেতনতার কর্মসূচি । বেলদা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুমনকান্তি ঘোষ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামের বড়মাৎকতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জুনিয়র হাইস্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে সচেতন করেন তিনি । তবে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি । নারায়ণগড়ের বিডিও বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, সচেতন কর্মসূচি নেওয়া হবে |

সচেতন কর্মসূচির কথা বলে বিষয়টা লঘু করে দেখলেও পুলিশের উপর আস্থা যে মানুষের কমছে তার পর্তিফলন এই ধরনের ঘটনার মধ্যে দিয়ে ঘটছে বলে সমাজতত্ববিদদের মত | শুধুই অন্ধ কুসংস্কার নয়,এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ ও পুলিশের পারস্পরিক নির্ভরতার অভাববোধ,বলছেন তাঁরা |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here