উত্তরে অতিবৃষ্টি দক্ষিণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে জেরবার বঙ্গের মানুষ

0

Last Updated on

দক্ষিণবঙ্গে গত দশ বছরে এমন উষ্ণতম জুলাই দেখা যায়নি | অন্তত আবাহাওয়া অফিসের রেকর্ড সেকথাই বলছে | শনিবার ৩৭ ডিগ্রী তাপমাত্রা ও তার সঙ্গে বাড়তে থাকা আর্দ্রতা নাভিশ্বাস তুলেছে শহরবাসীর | ঠিক তার উল্টোছবি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির | লাগাতার বৃষ্টিপাতে জলবন্ধী লক্ষ লক্ষ মানুষ | প্রতিটি নদীরই জল বইছে প্রায় বিপদ সীমার উপর দিয়ে | যে কোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে গ্রামের পর গ্রাম ।

এমনই আশঙ্কায় দিন গুনছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের হাপতিয়াগাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের চিতলঘাটা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা । উত্তরবঙ্গে একটানা বর্ষণে শুধু যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে তাই নয়, প্রাণ হাতে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা । তাই তাঁরা পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতির শরণাপন্ন । এছাড়া এলাকা পরিদর্শনে যান হাপতিয়াগাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মহম্মদ সাকির আহমেদ সহ বিডিও অফিসের প্রতিনিধি দল ।

স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ । মহম্মদ সাকির জানান,তিনি প্রশাসনের সাথে কথা বলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সম্পূর্ণ আস্থা দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের উচিৎ ছিল অনেক আগেই এর ব্যবস্থা নেওয়া ।

হাপতিয়াগাছ এলাকায় প্রতিবছর নদীগুলি বৃষ্টির জলে ফুলেফেঁপে ওঠে।ব্যতিক্রম হয়নি এবছরও । কুলিক নদীতে প্রায় ৩১.২০ডি. এল,নাগর নদীতে প্রায় ৩১.৫৪ডি.এল,গামারী নদীতে প্রায় ২৬.১০ডি.এল, মহানন্দা নদীতে ৭৩.৮৮ডি.এল,ডাউক নদীতে ৬৬.০৫৫ ডি.এল জল বহন হচ্ছে । স্বাভাবিক ভাবেই এক একটি নদীতে মারনরূপ নিয়েছে। ফলে বাসিন্দা সহ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ । বাসিন্দারা দিনের পর দিন অনিদ্রায় কাটাচ্ছেন,বাকিটা প্রশাসনের হাতে ।

ইতিমধ্যেই গোয়ালপোখরের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি । প্রবল বর্ষনে সুধানী নদীর জলে প্লাবিত হয়ে পড়ল উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা । গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। গোয়ালপোখর ব্লকের বিভিন্ন স্কুলে ত্রাণ শিবির খুলেছে জেলা প্রশাসন । প্রশাসন থেকে বিলি করা হচ্ছে ত্রানসামগ্রী । গোয়ালপোখরের বন্যা পরিস্থিতি সরোজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং দুর্গত মানুষদের পাশে গোয়ালপোখরের তৃনমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম রব্বানি ।

ওই এলাকায় দুকুল ছাপিয়ে গিয়েছে সুধানী নদীর জল । প্লাবিত হয়ে গিয়েছে চাকুলিয়া, তড়িয়াল, শকুন্তলা, জনতাহাট এবং গোয়ালপোখর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা । বাড়ি ঘরে বন্যার জল প্রবেশ করায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ ৷ ব্লক ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ার বেশ কয়েকটি স্কুলে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। রাতেই দুর্গত মানুষদের নিয়ে আসা হয়েছে ত্রান শিবিরে । আশ্রয়হীন মানুষ ত্রানশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, চাল ও অন্যান্য সামগ্রী দুর্গত মানুষদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠির মহিলাদের দিয়ে রান্না করা খাবারও দুর্গতদের পরিবেশন করা হচ্ছে। ত্রান শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া শিশু ও দুর্গত মানুষদের চিকিৎসার ব্যাবস্থাও রেখেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ।

পাহাড়েও ধস অব্যাহত | তাতেও বাড়ছে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ | বঙ্গ লাগোয়া সিকিম,নেপালেও অতি বৃষ্টিতে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রতিদিন | নদী ছাড়াও ফুঁসছে পাহাড়ি ঝোরাগুলিও |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here