সুখে থাকতে আংশিক কাজের নামে যৌবন বিক্রি করছে শহরের স্কুল ছাত্রীরা

0

Last Updated on

উত্তম মণ্ডল

সংসারে টান আছে। টাকার দরকার। সহজ পথ। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে বন্ধু-বান্ধব–যে কাউকে ধরেই হয়ে যাচ্ছে একটা আংশিক কাজের ব‍্যবস্থা। তারপর মেয়েটি রোজ নিয়ম করেই বাইরে বেরিয়ে যায়। টাকা আনে।
কিন্তু কোথায় যায় ?
যায় কোনো হোটেল, ভাড়া বাড়ি, কিংবা বিউটি পার্লার, অথবা কোনো মেসেজ সেন্টারে।
সেখানে টাকার বিনিময়ে যৌবন বিক্রি হয় প্রতিদিন।
এ তো গেল সত্যিকারের অভাবী ঘরের মেয়ের আংশিক কাজের অন্দরমহলের কথা।
কিন্তু এর বাইরে আমাদের অবাক করার মতো কিছু বিষয় সামনে এসেছে, যা সত্যিই ভাবনার।ছেলেরা প্রেম করার আগে আর ছেলের বাবারা ছেলের বিয়ে দেবার জন্য পাত্রী বাছাই করতে যাবার আগে আজকের এই লেখাটি পড়লে একবারে আঁৎকে উঠবেন!
কি সেই বিষয় ?
বিষয়টির নাম হলো,”কমার্শিয়াল সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন্”, বা সংক্ষেপে সিএসই।
১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে যখন টাকার জন্য যৌন ব‍্যবসায় নামানো হয়, তখন তাকে বলে সিএসই। কলকাতাসহ গোটা বাংলা জুড়েই চলছে এই সিএসই।
“ইন্টারন‍্যাশনাল জাস্টিস মিশন” বা সংক্ষেপে আইজেএম-এর একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, এই সিএসই ব‍্যবসায় নামানোর কাজে ভূমিকা থাকে বন্ধু, প্রতিবেশী, পরিবার, প্রেম ও অচেনা লোকের।
আইজেএম, এন সি আর বি-২০১৬ সালে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তার ছবিটি এইরকম :
১) বন্ধুর ভূমিকা : ৪৪ শতাংশ
২) প্রতিবেশী : ২৮ শতাংশ
৩) পরিবার : ১৭ শতাংশ
৪) প্রেমঘটিত : ৬ শতাংশ
৫) অচেনা লোক : ৫ শতাংশ।
ওপরের সূত্র ধরে প্রতি বছর দেশের ১৮ লক্ষ মানুষ নামছে এই আংশিক কাজের নামে যৌবন বিক্রির ব‍্যবসায়।
এ কাজে মেয়েদের গড় বয়স ১৫ বছর।
পাচার হওয়া ৭৯ শতাংশ মেয়েই এই সিএসইর শিকার।
কলকাতার যৌন পল্লীর ০.০৮ শতাংশ শিশুকে এই কাজে ব‍্যবহার করা হয়। এভাবে কলকাতার ১৮ শতাংশ শিশু এই ব‍্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে মেয়ের সংখ্যা ৮০ শতাংশ।
কোথায় হয় এই যৌবন বিক্রির ব‍্যবসা ?
ব‍্যবসা হয় বিভিন্ন হোটেল, লজ, ভাড়া বাড়ি, বিউটি পার্লার থেকে মেসেজ পার্লারে।
আর প্রতিদিন গড়ে ১২ জন খদ্দের আসে এইসব ব‍্যবসাকেন্দ্রগুলোতে।
অভাবে স্বভাব নষ্ট এবং পাচারচক্রের কবলে পড়েই যে অল্প বয়সী সব মেয়েরা এই আংশিক কাজে আসছে, তা কিন্তু নয়। এর একটা অংশ আসছে স্বেচ্ছায়।
মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েরাও আসছে এই কাজে। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, স্কুল ছাত্রীরাও আসছে।
কিন্তু কেন ?
অবশ্যই টাকার জন্য।
কিন্তু কি করে তারা এই টাকায় ?
ভালো পোশাক, দামি মোবাইল কেনে। সেই সঙ্গে উপরি পাওনা পাঁচ তারা হোটেলে খাওয়া-দাওয়া। এককথায় শখ মেটানো হয় এই টাকায়।
বাড়িতে যখন এতটা ভোগ‍্য সামগ্রী মেলে না, তখন বাড়ির বাইরে সেগুলি তারা সহজেই পেয়ে যায়। আর এই সুখের টানেই ইউনিফর্ম পরা স্কুল ছাত্রীরাও মধুচক্রে ভিড় জমাতে আসে।
ধরা পড়লে এদের কাউন্সেলিং করাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। কারণ, এসব কাজকে তারা অন‍্যায় বলে পাত্তাই দিতে চায় না। সবটাকেই ব‍্যক্তি স্বাধীনতা বলে ভাবে।
তাই পুলিশ-প্রশাসন থেকে অভিভাবক, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান সবাইকে নজর দিতে হবে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, বিউটি পার্লার, মেসেজ পার্লার, হোটেল, লজ, ভাড়া বাড়ির অন্দরমহলে। কারণ,বিপদ কিন্তু ওৎ পেতে রয়েছে আমাদের চেনা পরিবেশের বৃত্তের ভেতরেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here