‘স্মার্ট ইজ দ্য নিউ সেক্সি’

0

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম
অনেকেই হয়তো বুঝবেন বা বুঝছেনও কি বলতে চাওয়া হয়েছে হেডিংটাই।

হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন। সেই সমস্ত মানুষদেরই কথা বলছি যারা বিপরীত লিঙ্গের সেই সমস্ত মানুষ যাদের বুদ্ধিমত্তার কারণে তাদের প্রতি যৌনভাবে আকৃষ্ট হন। পোষাকি ভাষায় যাকে নেটিজেনরা চেনেন ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’ বলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেল নিবাসী এক ইঞ্জিনিয়ার, নাম ড্যারেন স্টলডার এই শব্দটি উদ্ভাবন করেন ১৯৯৮ সালে। সেই সিয়েটেল যা কিনা কার্ট কোবেনের জন্য গোটা বিশ্ব চেনে।
‘সেপিয়েন’ আর ‘সেক্সুয়াল’ এই দুটো শব্দ থেকে এর উৎপত্তি। ‘সেপিয়েন’, এই ল্যাটিন শব্দটির শব্দের ইংরিজিতে মানে হল ‘Wise’ বা ‘Judicious’ যার বাংলা প্রতিশব্দ করলে দাড়ায় বুদ্ধিমান। আর সেক্সুয়াল হল সেক্সুয়ালিটির বিশেষণ।

একুশ শতকের শুরু থেকেই পুরুষ ও মহিলাদের যৌনতাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা শুরু হয়। এই শতকের শুরুর দিকে কেতাদুরস্থ, পুঁজিবাদী সংস্কৃতিতে অভ্যস্থ শহুরে পুরুষদের যৌন আবেদনকে মেট্রোসেক্সুয়াল নাম দেওয়া হয়। তারপর এল রেট্রোসেক্সুয়ালিটি। অতটাও নতুন ফ্যাশনে অভ্যস্থ নয় বরং পঞ্চাশ বা ষাটের দশকের মত পোষাক আষাক পরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পুরুষেদের মধ্যেও অনেক মহিলা অন্যরকম যৌন আবেদন খুঁজে পেলেন। এ প্রসঙ্গে বলা ভালো ষাটের দশককে অনেকে যৌবনের দশক বলতেন। একের পর এক কিংবদন্তী রক ব্যাণ্ড এবং যুগান্তকারী সব শিল্পীদের উত্থান ঐ সময়েই বলে। তারপর এল
গ্যাস্ট্রোসেক্সুয়ালিটির যুগ। যে সমস্ত পুরুষেরা সাবেকি ধারণা ছেড়ে বেরিয়ে এসে ঘর-সংসারের দায়িত্ব বা রান্নাবান্না সামলাতে পারতেন তাদের মধ্যেও নাকি অনেকে যৌন আবেদন খুঁজে পেলেন। সেকারণেই এরকম অদ্ভুত নামে তাদের ভূষিত করা হল। এই যৌন আবেদনের বিবর্তনে শেষ সংযোজন হল আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়।

এখন প্রশ্ন হল এই শব্দের পিছনে রহস্যটা কি ! বা কেনই বা কিছু সংখ্যক মানুষের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন এরকম হবে! প্রথমত বলে রাখি শব্দটির উৎপত্তির মতই এই বিশেষ ধরণের মানুষের উপর কাজকর্মের ইতিহাসও খুবই আনকোরা নতুন । মনস্তাত্তিক কারণই দায়ী বলে এ বিষয়ে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মত। কেউ কেউ মনে করেন কম বয়সে বেড়ে ওঠার সময় যখন শারীরিক বা মানসিক বিকাশ হয় একটি শিশুর বা একজন কিশোরের তখনই নাকি তা পরবর্তী জীবনে সে যখন যৌবনে বা তারুণ্যে প্রবেশ করে তখনকার সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন ঠিক করে দেয়। উদাহরণস্বরুপ যেমন কোনো শিশুকে হয়তো তার মা বা বাবা ছোটো বয়সে বারবার বোকা বা বুদ্ধিহীন বলে ডাকেন সেই শিশু বা কিশোরের সবসময় প্রবণতা লক্ষ করা যায় বড় হয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কিছু করার বা তার মধ্যে সত্যি সত্যি যে জিনিসটির অভাব সেই জিনিসটি তার সঙ্গী বা সঙ্গীনির মধ্যে খোঁজার। তবে এর বিপরীতও হতে পারে। যেমন একজন বুদ্ধিমান বা বুদ্ধিমতী ব্যাক্তিও তার সঙ্গী বা সঙ্গীনি নির্বাচনের মধ্যে শারীরিক বৈশিষ্ট্যর চেয়ে বুদ্ধিমত্তার খোঁজ বেশি করতে পারেন।
কোনো কোনো সমাজবিদ আবার সময়ের সাথে মানুষের যৌন চাহিদার মধ্যেও পরিবর্তন আসার কথা বলেন। একটা সময়ে নারীরা যখন অধিক পুরুষ নির্ভর ছিলেন তখন তাদের যৌন চাহিদা একরকম ছিল, আর এখন তার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য সে নিজের উপরই নির্ভরশীল তাই তার যৌন চাহিদার মধ্যেও বদল এসেছে বলে কেও কেও মনে করেন।

স্যাপিওসেক্সুয়াল যারা তাদের মধ্যে কারো কারো আবার নানারকম অদ্ভুত সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিরও প্রবণতা লক্ষ করা যায়৷ যেমন মিলনের আগে ফোরপ্লের সময় নানান বুদ্ধিদীপ্ত কথোপকথন। কবিতা, গান, বা বিতর্কের মাধ্যমে ফোরপ্লেকে জমিয়ে তোলার প্রবণতা ইত্যাদি । তবে সব স্যাপিওসেক্সুয়াল সম্পর্ক যে যৌন মিলন অবধি গড়াবে এমনও না। কারণ একটাই, এই সম্পর্ক শরীর দেখে হয়নি। হয়েছে ভিতরের মানুষটাকে দেখে, তার বুদ্ধিমত্তাকে দেখে।