ল্যাবরেটরি বনাম প্রকৃতি

1

Last Updated on

দেবাশিস লাহা

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর এবং উন্নত কয়েকটি দেশের নাম বলুন তো। অবশ্যই আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেইন জার্মানি ইত্যাদি। কেউ কেউ অবশ্যই রাশিয়া, চীন, ভারত এবং ইজরায়েল-এর নামও করবেন। সামরিক শক্তির নিরিখে এই দেশগুলি অবশ্যই অগ্রগামী। আবার অনেকেই নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন ইত্যাদি স্ক্যানডিনেভিয় দেশগুলির নামও করতে পারেন। মাথা পিছু আয়, শিক্ষা ও সামাজিক প্রগতির সূচকে এদেশগুলি অবশ্যই শীর্ষে। কিন্তু আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগে না? আমার তো জাগে। কি প্রশ্ন? অবশ্যই জানাব। তার আগে আপনাদের দিকে আর একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিই। বলুন তো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এবং উন্নত সভ্যতাগুলি কি? আমেরিকা, ইজরায়েলের জন্ম তো সেদিন হল। উত্তর অজানা নয়। সিন্ধু নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ধু সভ্যতা, টাইগ্রিস ইউফ্রেটিস নদীযুগলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মেসোপোটেমিয়া সভ্যতা, নীল নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মিশরীয় সভ্যতা এবং ইয়াং সিকিয়াং নদীকে অবলম্বন করে গড়ে ওঠা চীনা সভ্যতা। জ্ঞান বিজ্ঞান সামাজিক অগ্রগতির শীর্ষে অবস্থান করা এই সভ্যতা অথবা দেশগুলি কোথায় হারিয়ে গেল? শীর্ষ স্থান তো দূরের কথা ক্ষমতা, অগ্রগতির সামান্যতম আলোচনাতেও এদের উল্লেখ পাওয়া যায় না, ( অবশ্যই চীন ছাড়া) কিন্তু কেন? সুপ্রাচীনকালে অর্জন করা অগ্রগতির কয়েক ভগ্নাংশও ধরে রাখলে এদেরই তো এখন বিশ্বসেরা হওয়ার কথা ছিল। কেন এই পরিণতি। আলোচনায় যাওয়ার আগে দেখে নিই এই সভ্যতাগুলির বর্তমান ভৌগলিক অবস্থান কি অর্থাৎ কোন কোন দেশের অধীনে এরা বিরাজমান। সিন্ধু সভ্যতা পাকিস্তানে যা একটি ইসলামী রাষ্ট্র, মিশরীয় সভ্যতা অবশ্যই মিশরে যেটি একটি ইসলামী রাষ্ট্র, মেসোপোটেমিয়া / সুমারিয়ান সভ্যতা ইরাকে । হ্যাঁ এটিও ইসলামী রাষ্ট্র। সন্ত্রাসবাদী আইসিস – এর জন্ম এবং কর্মভূমি। (একমাত্র ব্যতিক্রম চীন। আর তাই এটি এখনও এই জাতীয় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়নি।) এবার নিশ্চয় বুঝেছেন এই ভয়ংকর পশ্চাদগামিতার কারণটি কি? অবশ্যই ইসলামী মৌলবাদীদের আধিপত্য স্থাপন। ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে অগ্রগতির শীর্ষে থাকা রোম্যান বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যটিও মধ্যযুগের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল। সিন্ধু সভ্যতার অগ্রগতি আর্য/ হিন্দুরা ধরে রেখেছিল, মেসোপোটেমিয়া সভ্যতার অগ্রগতিও ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল। অন্তত সাসানিড বংশ ( এঁরাও আর্য ছিলেন এবং অগ্নির উপাসক জরাথুষ্ট্রের অনুগামী ছিলেন) যতদিন ক্ষমতায় ছিল, মিশরীয় সভ্যতার অগ্রগতি রোম্যানরাও ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল, এগিয়েও নিয়ে যেতে পেরেছিল। 633 খ্রিষ্টাব্দ থেকেই সাসানিয়ান সাম্রাজ্যে (পার্সিয়ান সাম্রাজ্যে অর্থাৎ বর্তমান ইরাণ ইরাক সহ ককেসাস এবং খোরাস্তান) ইসলামী আক্রমণ শুরু হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই ৬৫১ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চলের উপর মুসলিম আধিপত্য স্থাপিত হয়। এই আক্রমণ শুরু করেন সেনাপতি খালিদ ইবন ওয়ালিদ। মিশর তখন প্রখ্যাত বাইজেন্টিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত। জ্ঞান বিজ্ঞান শিল্পকলার শিখরে। ৬৪২ খ্রস্টাব্দের মধ্যে সেখানেও ইসলামিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হল। তবু ফতেমিদ কালিফেট ( নবী কন্যা ফতেমার নাম অনুসারে) যতদিন শাসন ক্ষমতায় ছিল, জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার পরিবেশ এবং অনুপ্রেরণা একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। কারণ এটি শিয়া ইসলাম অনুসারী ছিল, যারা জ্ঞান বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে প্রথম থেকেই সুনাম অর্জন করেছিল। কিন্তু সুন্নী ইসলাম অনুসারী আয়ুবী কালিফেট ক্ষমতায় আসার পর মিশরে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার উপর আঘাত নেমে আসে৷ শিয়াদের বলপূর্বক সুন্নীতে রূপান্তরিত করা হয়। আরবী ভাষা না বললে জিভ কেটে নেওয়ার মত কঠোর শাস্তির প্রচলন হয়। তারপর থেকেই মিশর পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। লক্ষনীয় এই যে চীন কখনও ইসলামী শাসনের অধীনে আসেনি। অন্তত মূল ভূখন্ডটি বলতে যা বুঝি। এর অন্যতম কারণ মধ্যযুগে দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী মোঙ্গলদের আবির্ভাব৷ ব্যবসা বাণিজ্যের প্রয়োজনে বেশ কিছু মুসলমান চীনে বসবাস, যাতায়াত করলেও সে দেশটি নিজেদের দখলে আনতে পারেনি৷ ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ শতাব্দী জুড়ে মহাবলী, মহা নির্মম চেঙ্গিস খান থেকে শুরু করে মহাপরাক্রমশালী কুবলাই খান— না জানলে জেনে নিন। ভূখণ্ডের মাপে মোঙ্গলদের প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যটিই এযাবৎ বিশ্বের সর্ব বৃহৎ সাম্রাজ্য।
ভারতের কথা আর নাই বা বললাম। মহম্মদ বিন কাশেমের সিন্ধু জয় থেকে মোহম্মদ ঘোরির হাতে দিল্লী নৃপতি পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয়। তারপর সুদীর্ঘ সাতশ বছর। এরপর প্রায় দুশ বছরের ব্রিটিশ শাসন। ভারত যে এখনও যতকিঞ্চিত এগিয়ে আছে, সে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চাই বলুন বা সামাজিক প্রগতি বলুন, ব্রিটিশ শাসনের অধীনে না এলে সেটিও অধরাই রয়ে যেত। ইসলামিক দেশগুলির দিকে তাকালেই সেটি স্পষ্ট হয়ে যায়। আর চীনে ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেই মাও সে তুঙয়ের নেতৃত্বে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্ভব হয়েছে। নইলে কোনো ইসলামিক দেশ/ ইসলামিক আধিপত্যের দেশে মার্ক্সবাদীরা বিপ্লব তো দূরের কথা নিজের প্রাণ কিভাবে বাঁচাবে ভাবতে ভাবতেই ঘরের ভেতর পায়চারি করে।
কি দাঁড়াল ? পৃথিবীর সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতাগুলির মধ্যে দেড় খানি টিকে আছে। চীন, আর কিছুটা ভারত—[ কিছুটা বললাম এই কারণে,১] সিন্ধু সভ্যতার ভূখণ্ডটি সে নিজের অধিকারে রাখতে পারেনি।২] ভেঙে তিন টুকরো হয়েছে। আর এই টুকরো হয়ে যাওয়াটা অবশ্যই ইসলামের বিজয়।] তাই চীনকে এক আর ভারতকে হাফ ধরছি। অর্থাৎ মোট দেড়খানি।

তবু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর, অথবা সামাজিক প্রগতির সূচকে এগিয়ে থাকা দেশগুলির মধ্যে একটিও ইসলামিক রাষ্ট্র নেই। আর কিছু না হোক সামরিক শক্তিতে ভারত এখন চার নম্বরে। চীনের পরেই।
কি খুব আনন্দ হচ্ছে বুঝি? তা হওয়ারই কথা। ইসলামিক বিশ্বকে পেছনে ফেলে কেমন তরতর করে এগিয়ে চলেছেন। জ্ঞান বিজ্ঞান, ভোগ বিলাস, সহায় সম্পদ সব কিছুতেই অবশিষ্ট বিশ্ব অনেক এগিয়ে।
একথা অস্বীকার করা যাবে না মুসলিমদের মধ্যে দারিদ্র এবং অশিক্ষার হার অন্য যে কোন ধর্মের চাইতে বেশি।এবং এই দেশে যারা ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন, বা হচ্ছেন তাঁদের সিংহভাগই দলিত অথবা অনগ্রসর সম্প্রদায়। আর তাই আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের দলিত সর্বহারা বা প্রলেতারিয়েত শ্রেণি হিসেবেই গণ্য করতে হবে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। যদি ভারতের দিকে তাকাই —-
মুসলিম মাথা পিছু খরচ Rs. ৩২.৬৬, হিন্দু Rs. ৩৭.৫0 , খৃষ্টান Rs. ৫১. ৪৩ Rs. এবং শিখ ৫৫.৩০ প্রতিদিন

হ্যাঁ এটাই সাম্প্রতিক চিত্র। আর এই কারণেই সাচার কমিটির রিপোর্টেও এই বাস্তব প্রতিফলিত হয়েছে। আপনারা সবাই কম বেশি জানেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। এমন কি তফশিলি জাতির মানুষের চেয়েও এই হার অনেক ক্ষেত্রে বেশি। এটা যদি কেবল ভারতেই হোত তবে বৈষম্য কিম্বা নিপীড়নের অভিযোগ উঠতেই পারত। কিন্তু ছবিটা পৃথিবীর সর্বত্রই [তেল উৎপাদনকারি মুসলিম দেশগুলি বাদ দিয়ে] একই । ব্রিটেনে দারিদ্র্যের জাতীয় গড় যেখানে ১৮%, সেই দেশের বসবাসকারী মুসলিমদের মধ্যে সেটাই ৫০%। ২০১৫ সালে আমেরিকার পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি সার্ভে অনুসারে সমগ্র বিশ্বের যত সম্পদ তার ৫৫% খ্রিশ্চানদের দখলে, মাত্র ৫.৮% মুসলিমদের দখলে, ৩.৩ % হিন্দুদের আর ইহুদীদের হাতে ১.১ %!
এবার ভাবুন জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিমরা কত পিছিয়ে আছে ! ২০১২ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে খৃস্টান ধর্মের মানুষের সংখ্যা ২২০ কোটি [পৃথিবীর জনসংখ্যার ৩১.50%] , মুসলিম ১৬০ কোটি [২২.৩২%], হিন্দু ১০০ কোটি [১৩.95%] আর ইহুদী ১ কোটির কিছু বেশি। ইজরায়েলে মাত্র ৬০ লক্ষ ইহুদীর বাস।

কি বললেন ? আরও লাফাতে ইচ্ছে করছে ? অবশ্যই লাফাবেন। তবে আর এক জায়গায় নয়। মানে স্কিপিং নয়। লং জাম্পের কথা ভাবুন। মাইক পাওয়লের মত না পারলেও যতটা পারা যায়। শুনুন, ইসলাম এখনও পর্যন্ত যত দেশ জয় করেছে, যে কটি সভ্যতার উপর নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করেছে তার প্রায় সব কটিই কাগজে কলমে অনেক বেশি শক্তিধর এবং সমৃদ্ধিশালী ছিল। অর্থাৎ চরম এগিয়ে থাকা সভ্যতা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। জ্ঞান বিজ্ঞান শিল্প সাহিত্য যুদ্ধ বিদ্যা সর্ব ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা সভ্যতাগুলিও কিভাবে জয় করা যায়, ইসলাম দেখিয়ে দিয়েছে। রোম্যানদের বাইজান্টাইন সভ্যতা, সাসানিয়ানদের পারসিক সভ্যতাকে অবলীলায় পরাজিত করে ইসলামিক যোদ্ধারা নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করেছে। অভূতপূর্ব একতা,, দৃঢ়তা, সাহস এবং বীরত্বের সামনে তথাকথিত জ্ঞান বিজ্ঞানের সভ্যতাগুলি টিকতে পারেনি। একেবারে গোহারা হেরে গেছে। আরে মশাই বেঁচে থাকলে তো আপনার জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা। নিজেই যদি মায়ের ভোগে চলে যান, তখন কোথায় আপনার ধন কোথায় আপনার সম্পদ ! রোম্যান, পারসিক, ভারতীয়রা কি কম ধন সম্পদ সৃষ্টি করেছিল ? কেন আপনিও তো বানিয়েছিলেন গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গোরু, ধান ভরা মাঠ —ওই যে ওপারে ! ভুলে গেলেন !
চোখ খুলুন বন্ধু। আপনি কেবল ইসলামের পিছিয়ে যাওয়া দেখছেন ! আমি তো এগিয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে মুগ্ধ হচ্ছি, করতালি দিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে সাবাস। উঁহু ব্যঙ্গ ভাববেন না। একদম মন থেকে। প্রমাণ চান ? বেশ শুনুন।

খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী থেকে যাত্রা শুরু করে মাত্র ১৪০০ বছরের বছরের মধ্যে ৫০ টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ,[এদের মধ্যে ৩৯টি ঘোষিত ইসলামিক রাষ্ট্র], পৃথিবীর ভূভাগের প্রায় কুড়ি শতাংশ জুড়ে ইসলামিক শাসন, জনসংখ্যা প্রায় একশ আশি কোটি। পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় ২৫%! কেবল তাই নয় ১৪০০ বছর পরেও এটির বৃদ্ধির হার সবেচেয়ে বেশি। এই পরিসংখ্যানটি কি পিছিয়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান ? কি বললেন ? এসব দেশ যুদ্ধ রক্তপাত হিংসার মাধ্যমে জয় করা হয়েছে? সব মধ্যযুগের ব্যাপার ? আধুনিক বিশ্ব সম্ভব নয় ? তাই বুঝি ? পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি বুঝি মধ্যযুগে জন্মেছে ! তারিখটা ভুলে গেলেন ? কি বললেন ? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইসলামের বিজয় রথ স্তব্ধ হয়ে গেছে ? কারণ এখন যুদ্ধ বিগ্রহ করে দেশ দখলের প্রশ্নই নেই? ভুল করছেন বন্ধু। ইসলাম একটি বিজ্ঞান এবং এই বিজ্ঞানটি এমনভাবে তৈরি যা যে কোনো ব্যবস্থাতেই [সে সামন্ততন্ত্রই হোক ধনতন্ত্রই হোক,আর আধুনিক গণতন্ত্রই হোক] নিজের লক্ষ্যে অবিচল। যতক্ষণ না পর্যন্ত সে ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে তাকে ভাঙার সাধ্য কারও নেই। এই একুশ শতকে দাঁড়িয়েও দেখছি ইসলাম ইউরোপ বিজয়ের পথে । একটির পর একটি দেশে তাঁদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটছে। সীমিত জনসংখ্যার বলেই তাঁরা শরিয়া শাসনের দাবী তুলছেন ! কি বললেন ? পেট্রো ডলার ? সৌদি আরব সহ ওপেক দেশগুলির মদত !ওরাই ইসলামকে মদত দেয়, আর্থিক সাহায্য করে, মসজিদ, মাদ্রাসা বানায়। হা হা হা ! চোখ খুলুন বন্ধু ! এসব নেতিবাচক সমালোচনা করার আগে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, আইডেনটিটি, আচরণ বিধির প্রতি ভালবাসা, ভক্তি এবং আনুগত্যকে দেখুন। ১৯৩৮ সালে সৌদি আরবে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে খনিজ তেল উৎপাদন শুরু হয়। আর ওপেকের জন্ম ১৯৬০ সালে ! তার আগেই তো ইসলাম এত গুলো দেশ জয় করে ফেলেছে বন্ধু ! তখন কোথায় ছিল পেট্রো ডলার ? তথাকথিত শিয়া সুন্নীর দ্বন্দ্ব, সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা অপব্যবহার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা — এমন অজস্র বাধা বিপত্তির মধ্যেও ইসলামের বিজয় রথ এখনও থেমে যায়নি। অন্তর্নিহিত শক্তি না থাকলে এই মাইলস্টোন অর্জন করা সম্ভব? আপনার গবেষণাগার যাই বলুক, হাজার হাজার আবিষ্কার করুক, ম্যাক্রো, মাইক্রো, ন্যানো টেকনোলজির বন্যা বইয়ে দিক, সুপার কম্পিউটারের গতি আকাশ ছুঁয়ে ফেলুক; প্রকৃতির একটি শিক্ষার কাছে এসব তুচ্ছ এবং ম্লান হয়ে যায়। কি সেটি? যে প্রজাতি যত বেশি অপত্য উৎপাদন করে, তার টিকে থাকার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। ক্ষমতাধর ডাইনোসর কবেই বিলীন হয়ে গেছে, শক্তিশালী বাঘও বিপন্ন প্রাণির তালিকায়। কারা টিকে আছে? উত্তর খুব সোজা। বংশবৃদ্ধি যত বেশি, সেই প্রজাতির ততই বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা। মনুষ্য প্রজাতির মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। কারণ তাঁরা এই প্রাকৃতিক সত্যের অনুসারী।

আসুন আপনাদের সঙ্গে আজ একটি দৃষ্টি কোণ ভাগ করে নিই। আপনারা মাঝে মধ্যেই শুনে থাকেন [ইসলামপন্থীরাই বলে থাকেন] কোরআন একটি বিজ্ঞান। নিশ্চয় হাসছেন? না আমি হাসছিনা। আমিও মনে করি কোরআন সত্যিই একটি বিজ্ঞান। কারণ একাধিক প্রকৃতি সঞ্জাত সত্যের উপর এটি দাঁড়িয়ে। বস্তুতপক্ষে ইসলামিক ভাষ্যগুলির সারমর্ম যত পড়ছি ততই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। ১৪০০ বছর আগে জন্মেও যিনি প্রকৃতির সার সত্যটি উপলব্ধি করতে পারেন, তাঁকে সত্যিই শ্রদ্ধা না করে পারা যায়না। ইসলামিক শাস্ত্রগুলিকে নিছক ধর্মগ্রন্থ হিসেবে ভাবলে ভুল করবেন। বাস্তব উপলব্ধির সারসত্য বা নির্যাস এদের মধ্যে নিহিত। নিজের অস্তিত্ব তথা আইডেন্টিটি টিকিয়ে রাখতে হলে, বিজয়ী হয়ে বাঁচতে চাইলে যা যা করণীয় ইসলাম সে কথাই বলে। আর অস্তিত্ব রক্ষা, যুদ্ধ এবং আধিপত্য বিস্তারের উপর লেখা যত আধুনিক শাস্ত্র/ গ্রন্থ আছে [সে মেকিয়াভেলির দ্য প্রিন্সই হোক, অথবা সান ঝু-র আর্ট অফ ওয়ার], ইসলাম এদের চেয়ে সহস্র গুণ শক্তিশালী এবং বিজ্ঞানসম্মত। কারণ প্রকৃতির মূল শিক্ষাটিই সে উপলব্ধি করেছে, অনুশীলন করেছে। কি সেটি ? যুদ্ধ এবং হিংসা, সংগ্রাম এবং লড়াই। এই কারণেই কোরবানি মানে নিছক রক্তপাত নয়, প্রকৃতির শিক্ষা, তাই পবিত্র কর্তব্য। এ যুদ্ধ মানে যদি নিছক মানুষ মারার যুদ্ধ বোঝেন, এই হিংসা মানে যদি নিছক মানুষ খুনের হিংসা বোঝেন, তবে ভুল করবেন। আপনি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কি করেন ? অবশ্যই যুদ্ধ ! জীবন যুদ্ধ। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম। গরম লাগলে ফ্যান বা এসি কেন চালান ? যুদ্ধ, প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। হ্যাঁ প্রকৃতিও এই যুদ্ধের কথা বলে। survival of the fittest ! চার্লস ডারউইন ! এই যুদ্ধ, এই লড়াইটাই বিজ্ঞান, চিরন্তন সত্য। তাই প্রকৃতি বাঘ এবং হরিণ দুইই সৃষ্টি করেছে। যাতে রক্তপাত এবং হিংসার গুরুত্বটি বুঝিয়ে দেওয়া যায়। নইলে কেবল হরিণ জন্ম দিলেই পারত। বাঘ সিংহের কি দরকার ছিল ? ! কি বললেন ? অহিংসা ? বৌদ্ধধর্ম ? গান্ধীবাদ ? হা হা হা ! অহিংসা প্রকৃতি বিরুদ্ধ !এবং চরম অবৈজ্ঞানিক একটি দর্শন। বৌদ্ধরাও আর অহিংসা পালন করে না? মায়ানমার ভুলে গেলেন ? গান্ধিজী স্বয়ং বুঝতেন অহিংসার মত অবৈজ্ঞানিক দর্শন আর দুটি হয়না। তিনি নিজেই ব্রিটিশ সেনাদলে নাম লিখিয়েছিলেন। কি বললেন ? আপনি ব্যক্তিগত জীবনে অহিংসা পালন করেন। হাসালেন ? মাছ মাংস খান না ? মশাকেও ছেড়ে দেন ? জীবাণু নাশক সাবান, স্প্রে ব্যবহার করেন না ? আরশোলার মারেন না ? কালা হিট কেনেন না ? আলবাত করেন। কি বললেন ? এসব ইতর প্রাণী, মানুষ তো নয়। তাই ? বেশ ! আচ্ছা ধরুন আপনাকে বা আপনাদের কেউ মশা মাছি আরশোলা ভেবে নিল ! এবং খুব তাড়াতাড়ি যাতে মারা যায় তার ব্যবস্থা নিল ! তখন কি করবেন ? উঁহু হাসবেন না। এডলফ হিটলার এবং তাঁর নাজি অনুগামীরা ইহুদীদেরকেও এমনই মশা মাছি আরশোলা মনে করে মারতে শুরু করেছিল এবং সরকারি হিসেবে ষাট লক্ষ মানুষকে যমের দুয়ারে পাঠিয়েও দিয়েছিল। খুব তাড়াতাড়ি যাতে নিকেশ করা যায় সেই উদ্দেশ্যে জাইকলন বি নামের একটি সায়ানাইড বেসড কীটনাশকও বানিয়ে ফেলেছিল। হ্যাঁ এটিই গ্যাস চেম্বারে ব্যবহার করা হত। আপনি কি করে নিশ্চিত হলেন আপনাকে/ আপনাদের কেউ মশা মাছি আরশোলা ভাবছেনা? এখন না ভাবলেও দু বছর পরেও তো ভাবতে পারে ! তখন আপনি কি করবেন ? ইহুদীরা লাখে লাখে মরেছিল। কেন মরেছিল ?অসাধারণ মেধা থাকলেও যুদ্ধের প্রস্তুতি ছিলনা। [এখন অবশ্য তাঁরা উপলব্ধি করেছেন।] যুগদ্রষ্টা নবী এই সারসত্যটিই উপলব্ধি করেছিলেন। হে আমার অনুগামীকুল, নিজেকে শক্তিশালী কর। যুদ্ধ এবং প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকো। সেই সঙ্গে এই সত্যটিও উপলব্ধি করেছিলেন, স্থিতাবস্থা মানেই মৃত্যু। সব সময় এগিয়ে যেতে হবে। চরৈবেতি চরৈবেতি। ব্যবসায়িক, সামরিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত যে দৃষ্টিতেই দেখুন এটি সার সত্য। আপনার কোম্পানীটিকে বিজনেস এক্সপ্যাণ্ড করতে হবে, নতুন নতুন সেক্টরে ঢুকতে হবে, তবেই সে টিকে থাকবে ! আপনি যদি ভাবেন, আর বাড়াবেন না। এই পর্যন্তই থাক। কিছুদিন পরেই তার নাভিশ্বাস উঠবে। আর তাই ইসলাম কখনও থেমে যায়নি। এক ভূখণ্ড থেকে আরেক ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বোপরি মহান নবী একতার শিক্ষা দিয়েছেন, জাতপাতের উর্ধ্বে উঠে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিয়েছেন [ইসলামের ভাগ উপভাগ যত হয়েছে সব তাঁর মৃত্যুর পর] আর সেই একতার বলেই এটি এত কম সময়ের মধ্যে এই সাফল্য অর্জন করেছে। আর তাই অ-ইসলামী দেশকে ধর্মান্তরিত করে মুসলমান বানানো সম্ভব হয়েছে, কিন্তু কোনো ইসলামী রাষ্ট্র বা দেশের জনগোষ্ঠীকে সামুহিক ধর্মান্তরকরণ সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ নিজের ধর্ম এবং সংস্কৃতির প্রতি অকুণ্ঠ আনুগত্য এবং ভালবাসা। কি বললেন ? অন্ধত্ব ? হা হা হা ! যা বিজয় এবং আধিপত্যের সহায়ক, তাকে অন্ধত্ব বলা যায় ? ইসলামের আর একটি অনন্য শিক্ষা—ভয়, ভীতি প্রদর্শন। হ্যাঁ এটিও বিজ্ঞান। চাণক্য থেকে মেকিয়াভেলি সবাই একে যথোচিত গুরুত্ব দিয়েছেন। রাজাকে যদি প্রজারা ভয় না করে রাজ্যপাট থাকেনা। একই কারণে সৃষ্টিকর্তাকে যেমন ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে, তেমনই ভয় করার কথাও বলা হয়েছে। দ্বিতীয়টির মাত্রা অপেক্ষাকৃতভাবে বেশি ! কারণ এটিই বেশি কার্যকরী। কি বিশ্বাস হচ্ছে না ? হা হা হা ! নিজের সন্তানকে বুঝি শুধুই ভালবাসেন, একবারও ভয় দেখান নি ! মারেন নি, কিন্তু মারের ভয় ? শাস্তি হয়ত দেন নি, কিন্তু শাস্তির ভয় ? Fear is key to obedience! হ্যাঁ এই শিক্ষাটিও মহান নবী উপলব্ধি করেছিলেন। অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষটি উপলব্ধি করেছিলেন ভেতর থেকে না ভাঙলে ইসলাম কখনও পরাজিত হবেনা। অর্থাৎ কোনো বহিঃশত্রু এই ধর্মের কোনো ক্ষতিই করতে পারবেনা। পৃথিবীর বড় বড় সভ্যতা এবং সাম্রাজ্য নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করার পর প্রখ্যাত ঐতিহাসিক উইল ডুরান্ট লিখেছেন [ বইটির নাম-The Story of Civilization] A great civilization is not conquered from without until it has destroyed itself from within.
অর্থাৎ একটি সভ্যতাকে বাইরে থেকে পরাজিত বা দখল করা যায়না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সে ভেতর থেকে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলছে। হ্যাঁ এই কারণেই ওদিকে রোম্যান আর এদিকে আর্য সভ্যতার পতন হয়েছে। পৃথ্বীরাজ চৌহানের অনেক আগে থেকেই হিন্দু সমাজ ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। যার ফলশ্রুতি চরম অনৈক্য এবং দেশীয় রাজাদের / দলপতিদের মধ্যে অন্তর্কলহ। যা এখনও বিদ্যমান।
এগার খণ্ডের এই বইটি ১৯৩৫ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে একে একে প্রকাশিত হয়। এর অনেক আগেই ইসলাম এই উপলব্ধিটি প্রয়োগ করে। এই মহান ধর্মটিকে যদি কেউ ভেতর থেকে ধ্বংস বা ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তিনি যত বড় মুসলমানই হোন না কেন, তাঁকে যেন উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়। এর চেয়ে বড় বিজ্ঞান আর কি হতে পারে ? এর নমুনাও আপনারা দেখেছেন। কি বললেন ? অন্যায় ? হা হা হা ! কেন বন্ধু? ওয়ান ডে ম্যাচের ব্যাটসম্যান যখন প্রচলিত, কপি বুক শটের বদলে অন্য কোনো ভাবে বলটা সীমানার বাইরে পাঠান, তখন তো বেশ হাততালি দেন ! চিৎকার করে বলেন—Runs are important ! It doesn’t matter how it comes! হ্যাঁ ঠিক তাই !জন লাইলির উপন্যাসের লাইনটিও নিশ্চয় মনে পড়ে গেছে !– All is fair in love in war!
জীবন এবং অস্তিত্ব একটি নিরন্তর যুদ্ধ। ইসলাম এই কালজয়ী সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রকৃতির বুকেও এই একই যুদ্ধ চলছে। বিজ্ঞান মানে নিছক ল্যাবরেটরি নয়, প্রকৃতিও।

তবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা প্রতিদ্বন্দ্বীকে কি পরাজিত করা অসম্ভব ? প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।
একটি ঐতিহাসিক ঘটনার মাধ্যমে উত্তরটি দেওয়ার প্রয়াস করব। হ্যানিবলের নাম শুনেছেন? হ্যানিবল বারকা। হ্যাঁ এই দোর্দোণ্ডপ্রতাপ যোদ্ধাটি কার্থেজের শাসক ছিলেন। বিশ্বের সর্বকালের সেরা সেনাপতিদের তালিকাতে এর নাম এখনও জ্বলজ্বল করছে। প্রায় সমগ্র ইতালি দখল করে ইনি রোম্যান সাম্রাজ্যের ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন। কেউই তাঁকে হারাতে পারছিল না। একের পর এক রোম্যান সেনাপতি খড় কুটোর মত উড়ে যাচ্ছিলেন। মাথা তোলা তো দূরের কথা, হ্যানিবলের সামনে কেউ দাঁড়াতেই পারছিলেন না। অবশেষে এই গুরু দায়িত্ব পড়ল পাবলিয়াস কর্নেলিয়াস সিপিও আফ্রিকেনাসের উপর। হ্যাঁ হ্যানিবলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁকে সেনাপতি করা হল। কারণ আর তেমন কেউ ছিলনা। কর্নেলিয়াস সিপিও-র বাবা এবং কাকা দুজনেই হ্যানিবল বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন। চরম ব্যক্তিগত আঘাত। দু দুটি প্রিয়জন !পঁচিশে পা দেওয়া সিপিও তবু মাথা গরম করলেন না। যার বিরুদ্ধে তাঁকে লড়তে হবে তাঁকে ভালবাসতে শুরু করলেন। প্রায় দুবছর ধরে চলল এই ভালবাসাসি। বুঝলেন না ? বেশ, বুঝিয়ে বলছি। সিপিও মন প্রাণ দিয়ে হ্যানিবলকে স্টাডি করে চললেন। তাঁর সেনা পরিচালনা, পজিশন নেওয়ার কৌশল, বাচন ভঙ্গি, নির্দেশ দেওয়ার কায়দা, পদাতিক বাহিনীকে কিভাবে ব্যবহার করেন, অশ্বারোহীকে বাহিনীকে কোন অবস্থানে রাখেন, হস্তি বাহিনীকে কোন সময় ময়দানে আনেন—অর্থাৎ হ্যানিবলের বিরুদ্ধে রোম্যান সেনা তো বটেই অন্যান্য দেশগুলিও যে সব যুদ্ধ লড়েছে— যাবতীয় একত্রিত করে সিপিও রাতের পর রাত জাগতেন। ভাবনার পর ভাবনা, বিশ্লেষণের পর বিশ্লেষণ। ঘন্টার পর ঘন্টা। মাসের পর মাস। তারপর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যামার মহাযুদ্ধ। যা ব্যাটল অফ যামা বলে খ্যাত। সিপিও হ্যানিবলকে পরাজিত করলেন। বড় ভয়ানক সেই পরাজয়। বিধ্বস্ত হ্যানিবল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেলেন। না, তারপর আর তিনি কখনও মাথা তুলতে পারেননি। পরাজয়ের গ্লানিতে ভুগতে ভুগতে মহাবলী হ্যানিবল অবশেষে আত্মহত্যাই করে বসেন।

1 COMMENT

  1. একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি-ক্রিয়েটিভ, মননশীল, উন্নত সভ্যতা ও সমাজের মানুষ ভীষণ রকমের ভয়াতুর-ঝুট ঝামেলা হীন হয়/হতে চায়, এতটাই নিরীহ হয় যে বিপদ আসছে/আসবে জেনেও অজ্ঞতার সাথে সেটাকে এড়িয়ে যেতে চায়, যার দরুন কোনো আপাদকালীন সমস্যা এলে হয় ওরা মাথা পেতে ওই দলে নাম লিখিয়ে নেয় নতুবা সমর্পণ করার আগেই নিজের জীবন ক্ষোয়াতে হয়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here