ক্রিকেটের ভগবান ও কয়েকটি এক টাকার কয়েনের গল্প

0

Last Updated on

১৯৮৪ সাল। মাষ্টার ব্লাষ্টার তখন মাত্র ১২। মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকা ‘বান্দ্রা ইষ্টে’র ‘সাহিত্য সহবাস কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি’র ছোট্ট ছেলেটাকে সবাই ভীষণ দুরন্ত, ছটফটে সচিন বলেই চেনে। একরত্তি ছেলেটা বাড়ির কাছের স্কুলেই পড়ত। নতুন কোনো ছেলে স্কুলে ভর্তি হলেই তার সঙ্গে ঝামেলা পাকানোয় সে ছিল ওস্তাদ। ছোট্ট সচিন আবার টেনিস খেলতে ভালোবাসে। ক্রিকেটের সঙ্গে তার তখনও পরিচয় হয়নি। মার্কিন টেনিস তারকা জন ম্যাকেনরোকে নিজের আইডলও বানিয়ে ফেলেছে সে। ছোটো বয়সের এই দুরন্তপনা দেখে দাদা অজিত ঠিক করেন শিবাজী পার্কের তৎকালীন মুম্বইয়ের বিখ্যাত ক্রিকেট প্রশিক্ষক রমাকান্ত আচারেকরের কাছে নিয়ে যাবেন। প্রথম দিন ভালো খেলতে না পারা দেখে দাদা আচারেকর কোচকে পরামর্শ দিলেন ও যখন খেলবে তখন ও যেন তাকে দেখতে না পায়। পেলে নাকি নিজের পুরোটা দিয়ে দুরন্ত ছেলেটা খেলবে না। যেমন শোনা তেমন কাজ। সচিনকে ব্যাট করতে বলে আচারেকর লুকিয়ে গেলেন গাছের আড়ালে এবং সচিন যথারীতি আগের বারের চেয়ে ভালো খেলে দেখিয়েও দিল। ব্যাস সেইদিনই আচারেকরের শিবাজী পার্কের কোচিং-এ সচিনের হাতেখড়িও হয়ে গেল। এদিকে ছাত্রের ক্রিকেটে আগ্রহ দেখে আচারেকর দাদারের ‘সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরে’ সচিনকে ভর্তি হতে বললেন। কথামত কাজও হল। সে যুগে মুম্বইতে লোকাল ক্রিকেট আর সারদাশ্রমের ক্রিকেট টিম কার্যত সমার্থক ছিল। বাড়ি, স্কুল সে সঙ্গে সকাল এবং সন্ধ্যে দুবেলা কোচিং ক্লাস, ছোট্ট সচিনের পক্ষে খুব চাপের হবে বলে দাদারেই কাকুর বাড়িতে থাকার ব্যাবস্থাও হল। ব্যাস তারপর থেকে প্র্যাকটিস আর প্র্যাকটিস। কোনো বিরাম নেই। প্র্যাকটিসে ক্লান্ত হয়ে গেলে মাঝে মাঝে রমাকান্ত একখানা এক টাকার কয়েন রেখে দিতেন ব্যাটিং এণ্ডের স্টাম্পের উপর। দিয়ে বোলারের উদ্দেশ্যে বলতেন যে সচিনকে আউট করবে সে ঐ একটাকার কয়েনটা পাবে। এদিকে সচিনও প্রবল জেদী। সে কিছুতেই আউট হবে না। এভাবে প্র্যাকটিসের সময় ফুরিয়ে এলে বেশিরভাগ দিনই দেখা দেখা যেত সে আউট হয় নি৷ এরকমভাবে একটাকা করে বহুদিনের জমানো পয়সাগুলো কিশোর সচিন জমিয়ে রাখতো।

তারপর বাকিটা ইতিহাস। ক্রিকেটের সব বিভাগে অতুলনীয় কীর্তির অধিকারী সচিন আজ ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। কোচ রমাকান্তও আজ এ দুনিয়ায় নেই। পরবর্তী জীবনে নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে বহুবার কোচ রমাকান্ত আচারেকরের কথা স্মৃতিচারণ করার সময় ওই আউট না হওয়ার পুরষ্কার হিসেবে পাওয়া কয়েনগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তারকা সচিন।

১৯৭২ সালে আজকের দিনে জন্মানো ক্রিকেটের ভগবানকে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ।
শিবাজী প্রতিম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here