চীনে পাড়ার কড়চা

0

Last Updated on

শহর কলকাতার আনাচে কানাচে অনেক ইতিহাস,অনেক রহস্য। আবহমান কাল ধরে বহু ভাষা,বহু জাতি,বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতির লোকেদের মিলনস্থল হল আমাদের এই কল্লোলিনী তিলোত্তমা কলকাতা।

এরকমই একটি জায়গা হল বৌবাজার সংলগ্ন টিরেট্টি বাজার যেখানে এক সময়ে ছিল প্রায় ২০ হাজারের উপর চীন দেশীয় লোকেদের বাস। কালের নিয়মে সে সংখ্যা আজ নেমে দুহাজারে এসে ঠেকেছে। কিন্তু তবুও এই এলাকা নিজের মত করেই আজও শহর কলকাতার ‘কসমোপলিটান’ কালচারের মধ্যে বেঁচে আছে। শোনা যায় প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের সময়কালে নাকি এই এলাকায় প্রথম চীনেদের আগমন লক্ষ্য করা যায়। ওনার সময়কালেই তং আচি নামে এক চীনে ব্যাবসায়ী অছিপুরে চিনির কল বসান। তারপর থেকেই এই এলাকায় চীনেদের আগমন শুরু হয়। আজও অছিপুরে গেলে তং আচির সমাধি আপনি দেখতে পাওয়া যায়। তারপর থেকেই নিকটবর্তী ট্যানারি আর কাঠের আসবাবের কারখানাতে চীনেদের ভীড় বাড়তে শুরু করে। কালক্রমে এই এলাকায় বিশাল সংখ্যক চীনেরা পাকাপাকি ভাবে বসবাসও শুরু করে। এভাবেই কলকাতার বুকে গড়ে ওঠে চীনেপাড়া, তার নিজস্বতা নিয়ে। সেই সঙ্গে চীনদেশের ধাঁচে ব্রিটিশরা আফিমের ব্যাবসাতেও চীনেদের নিযুক্ত করা শুরু করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ব্রিটিশ ভারতে আফিম আমদানী রফতানী বেআইনী ছিল না। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। শুধু রয়ে যায় হরেক রকমের চীনা খাবারের দোকান| যা আজও সমানভাবে প্রিয় শহরবাসীর কাছে| কলকাতায় এক টুকরো চৈনিক পরিবেশ খুঁজতে অনেকেই ভিড় জমান সেসব দোকানগুলিতে|

তবে সবথেকে যে বিষয় ভাবায় তা হল এখানে চীনেদের ধর্মবিশ্বাস। কেউ কেউ ব্রিটিশের সময়তে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী হন তো কেউ বৌদ্ধই থেকে যান। কিন্তু এলাকায় একটি হিন্দুধর্মের ধাঁচে কালী মন্দিরে মা কালি এখনো পূজিত হন। তিব্বতী বৌদ্ধদের মধ্যে ‘তারা’ উপাস্য দেবী হিসেবে পূজিত হন| সে কথা অনেকেরই জানা| কিন্তু তাই বলে ‘হান’ চাইনিজদের মধ্যে কালি উপাস্য হলেন কবে ও কীভাবে সে প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।

লেখক:শিবাজী প্রতিম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here