চাষে গুরুত্ব কমছে বলদ গরুর, বাড়ছে ট্রাক্টরের চাহিদা।

0

Last Updated on

নিম্নচাপের জেরে অবশেষে বর্ষা এসেছে বঙ্গে। শ্রাবণের বাদল দিনে চাষিরা  জোর কদমে মাঠে নেমে পড়েছেন চাষের কাজে। কথায় বলে, এ সময় চাষিদের মা মরলেও কুলো আড়। অর্থাৎ মা মারা গেলেও তাকে ঘরে কুলো চাপা দিয়ে ঢেকে আগে যেতে হবে চাষের কাজে। তারপর কাজ শেষ করে তবে হবে মায়ের সৎকার। আগে ব‍্যঙ্গ ক‍রে বলা হতো, তিন বলদের চাষ। তিন বলদ মানে  হালের দু’দিকে দুটো বলদ আর মাঝে মানুষ। তাকেও খাটতে হয় বলদের সঙ্গে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, চাষের কাজে গুরুত্ব কমছে বলদের, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে ট্রাক্টর বা কলের লাঙ্গলের। চাষিরা বলছেন, এখন ক্ষমতা কমেছে মানুষের। তাই মানুষ মুনিষ কেউ আর এখন আগের মতো খাটতে পারে না। সেজন্য এখন আর বলদ গরুর চাহিদা নেই। তাছাড়া গরু পোষাও বেশ ঝামেলার কাজ। তার চেয়ে সাতশো টাকা ঘন্টা দিয়ে ট্রাক্টর লাগানো ভালো। গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই দেখা যাচ্ছে,এরকম-ই ছবি। জমির মালিকরা জানাচ্ছেন, এখন আর ভালো হেলে মুনিষ পাওয়া যায় না। তাই বলদ গরু দিয়ে চাষ করা কমে গেছে। এখন আমরা ঘন্টা পিছু সাতশো টাকা দিয়ে ট্রাক্টর ভাড়া করে চাষ করছি। তাহলে চাষের কাজে বলদ গ‍রুর ব‍্যবহার কমেই যাচ্ছে ক্রমশ। গোহাটগুলিতে বর্ষার আগে এঁড়ে বাছুরের প্রচুর চাহিদা ছিল একসময়। কারণ, চাষের কাজে তারাই ছিল ভবিষ্যতের বলদ। কিন্তু কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, গোহাটেও ক্রমশ কমে আসছে এঁড়ে বাছুরের চাহিদা। এর মূল কারণ সেই ট্রাক্টর। ট্রাক্টর আসায় চাষিরা আর বলদ পুষতে আগ্রহী নন। গোয়াল ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যন্ত্র জায়গা করে নিচ্ছে এখন চাষির ঘরে। শুধু জমি চষাই নয়, পাকা ফসল ঘরে তুলতেও এখন ব‍্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক্টর। ব্রাত‍্য হয়ে পড়েছে এখন গ্রামের প্রাচীন যান–গোরুর গাড়ি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here