মহাবিশ্ব, স্টীফেন ডব্লিউ হকিন্স ও কতিপয় জিজ্ঞাসা।

0
quasar-and-universe

Last Updated on

সম্বরণ চট্টোপাধ্যায়

মহাবিশ্বের স্বরূপ ও ঈশ্বর আছেন কিনা, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই।ঈশ্বর ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে পৃথিবী বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক স্টীফেন হকিন্স এর বলে যাওয়া শেষ দুটো মন্তব্য বাংলায় লিখলে দাঁড়ায়-
১) আমাদের মহাবিশ্বে অন্তত ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
২) এই অনন্য মহাবিশ্বের অপুর্ব শিল্পকলার আনন্দ নেবার জন্য আমাদের এই একটাই জীবন আছে, আর তারজন্য আমি কৃতজ্ঞ।

কী বন্ধু? সবকিছু কি একদম জলের মত পরিস্কার হয়ে গেল ? কেমন একটা কিন্তু কিন্তু লাগছে না? মনে মনে কোন প্রশ্ন জাগছে না? আমার তো জাগছে।

প্রথমত ‘আমাদের মহাবিশ্ব’ কেন? তাহলে কি মাল্টিভার্স বা বহুমহাবিশ্বের সম্ভাবনা উনি রাখছেন? আর আমাদের মহাবিশ্বের পুরোটা তো দৃশ্যমান নয়। যতটা দেখা যায় বা দেখা সম্ভব তাকে observable universe বলে। বাকিটা observe করাই সম্ভব নয়। এই দৃশ্যমান অংশটি আবার ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে, তবে সেটা অন্য প্রসঙ্গ।

আরও পড়ুন – এবার মন খারাপের হদিশ দেবে ব্লু ব্রেন,২০২৩-এ বাজারে আসছে অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি

মূল প্রশ্নটা হল ‘আমাদের মহাবিশ্ব’ মানে তাহলে এই observable universe, আর সেটা পুরো মহাবিশ্বের ঠিক কতটুকু অংশ তা কেউ জানে না।
সম্ভাবনা দুটো -হয় আমাদের মহাবিশ্ব সসীম অথবা অসীম।
সসীম হলেও এটা হতেই পারে যে দৃশ্যমান মহাবিশ্ব গোটা মহাবিশ্বের তুলনায় সাইজে নগন্য। আর দৃশ্যমান অংশটুকুর ও কতটা আমরা বুঝেছি সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
সম্প্রতি একটা খবর জানা যাচ্ছে, দৃশ্যমান মহাবিশ্বের এক কোনায় ছয় ছয়টা গ্যালাক্সি মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে নষ্ট হয়ে গিয়ে কোয়াসারে পরিণত হয়েছে। কেন হয়েছে বোঝা তো দূরের কথা, এত কম সময়ের মধ্যে এতবড় মহাজাগতিক ঘটনা যে ঘটতে পারে সেটাই কোন বিজ্ঞানী ধারণা করতে পারে নি। সবাই হতবাক হয়ে গেছে।

এবার আসা যাক মহাবিশ্ব যদি অসীম হয়! তাহলে তো কোনদিনই সম্পুর্ন টাকে জানা যাবে না। কারণ অসীমের ধারণাটাই এইরকম। একটা বিরাট বিকট বড় সংখ্যা কল্পনা করুন। সংখ্যাটা যাই কল্পনা করে থাকুন না কেন সেটা শুন্য আর অসীমের মধ্যে শুন্যের অনেক কাছে হবে।

আর যদি বহুমহাবিশ্ব থাকে তাহলে তো আমাদের মহাবিশ্ব অসংখ্য মহাবিশ্বের একটা মাত্র। সেক্ষেত্রেও মহাবিশ্বের সংখ্যা ও
মহা-মহাবিশ্বের বিস্তার অসীম হতে পারে। সসীম হলেও প্রশ্ন আসবে তার বাইরে কি আছে? অর্থাৎ অসীম সবসময় অধরাই থেকে যাবে।

আরও পড়ুন – শবদেহের শালগ্রাম শিলা

মাথা টিপটিপ করছে? বাদ দিন। এবার দ্বিতীয় মন্তব্য টা বিশ্লেষণ করা যাক। মহাবিশ্বের অনন্য শিল্পকলা ( The Grand design of the universe), শিল্পী নেই, অথচ শিল্প আছে। A Grand design without a Great designer! যাই হোক, পদার্থবিদ্যার নিয়মগুলোই হল হকিন্সের মতে সেই শিল্পী। তাই যদি হয়, তবে মহাবিশ্বের কী দায় পড়েছে যে পদার্থবিদ্যার নিয়মগুলো মেনে চলছে? এ প্রশ্নও হকিন্স সাহেব নিজেই করেছিলেন। “I wonder, why does the universe bother to exist?”
কিন্তু সন্তোষজনক কোন উত্তর উনি দিয়ে যেতে পারেন নি।

তারপর আসি ‘একটাই জীবন’ এর ব্যাপারে।
‘পদার্থবিদ্যার কিছু নিয়ম’ অর্থাৎ কিছু শৃঙখলা যেগুলো ‘কেন আছে?’ কেউ জানে না। মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা সেগুলো মেনে চলেছে। কেন মেনে চলেছে কেউ জানে না। আর এই পদার্থবিদ্যার অদ্ভুত নিয়মে বিনা উদ্দেশ্যে হঠাৎ করে আমরা পেয়ে গেছি ‘একটা জীবন’। আর এই ‘একটা জীবনে’ আমরা এই মহাবিশ্বের রঙ্গমঞ্চে দেখছি একটা অনির্বচনীয় ফ্যাশন শো। তাও সম্পুর্ন বিনামূল্যে, না চাইতেই দেখছি এই শো। কে দেখাচ্ছে আমাদের এই শো? আর কেনই বা দেখাচ্ছে? উত্তর নেই। শো শেষে কী আমরা বাড়ি ফিরে যাব? না, তা তো নয়! শো শেষ মানে সব শেষ, The End. পুরো অর্থহীন হেঁয়ালি একটা। তারজন্য আবার কৃতজ্ঞতা! আর হ্যাঁ, কৃতজ্ঞ কার কাছে? Who is the Organiser of the show? পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলোর কাছে? পদার্থবিদ্যা কী নিজেই সচেতন? সে কি কৃতজ্ঞতার অর্থ বোঝে? যদি নাই বোঝে তাহলে সে কিভাবে মানুষ নামক প্রাণীর সৃষ্টি করতে পারে যার কৃতজ্ঞতা বোধ আছে?

আমার এই পোস্ট এর উদ্দেশ্য কখনোই ওনার মত বিরাট মাপের বৈজ্ঞানিক কে চ্যালেঞ্জ করা নয়। সাধারণ মানুষ হিসাবে মনন থেকে উঠে আসা কিছু প্রশ্ন মাত্র।

‘সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর হলে ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করলো?’
এই প্রশ্নটাই ঈশ্বর বিশ্বাসী দের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় বাউন্সার।
উত্তরে পালটা প্রশ্ন করতে চাই- সবকিছুই পদার্থবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে বা প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে যখন, তাহলে সেই নিয়ম গুলো কে কবে তৈরি করল? এগুলো যদি নিজে নিজেই তৈরি হতে পারে, omnipotent, স্বয়ম্ভু হতে পারে, তবে ঈশ্বর নয় কেন?
আর মহাবিশ্ব সৃষ্টি বলে কিছু যদি না থাকে, অর্থাৎ মহাবিশ্ব যদি চিরকাল বিদ্যমান থেকে থাকে, তাহলে সৃষ্টিকর্তা থাকার কোন প্রশ্ন নেই ঠিকই, সেক্ষেত্রে চিরকালীন একটা শক্তি বা অস্তিত্ব বিরাজ করছে, তাকেই পরম কর্তা বা Supreme power বলতে অসুবিধা কী?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here