“প্রতিটি মানুষই অমর “, বলছে একদল বৈজ্ঞানিকের গবেষণা

0

Last Updated on

মৃত্যুতেই জীবনের সব শেষ নয়, সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন ইউরোপের একদল বিজ্ঞানী । অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রজার পেনরোজ এবং জার্মানি স্থিত ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউটের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা অন্তত তাই বলছে | আমাদের চারপাশের বস্তু জগতে যেখানে আমরা জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি থাকি যা আমরা আমাদের চেতনা দিয়ে বুঝি বা অনুভব করি মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেই চেতনার কাছে সেই জগতের কোনো অস্তিত্ব থাকেনা । কিন্তু সমান্তরাল দুনিয়ায় যা কিনা দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা এবং সময় এই চারটে মাত্রার বাইরের মাত্রা সম্পন্ন জগতে অবস্থান করে সেখানে সেই চেতনা ছাপ রেখে যায় ।

পদার্থবিদ্যায় চারটে মাত্রার বাইরে আরও সাতটি মাত্রার উল্লেখ আছে যা কিনা সাধারণ মানুষের অনুভবের বাইরে । বিজ্ঞানীদের মতে এই সাতটি মাত্রার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সমান্তরাল দুনিয়া বা প্যারালাল ইউনিভার্সের ধারণা, যা জীবিত অবস্থায় মানুষের অনুভবের বাইরে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুয়ার্ট হ্যামেরফ এবং রজার পেনরোজের মতে, মানুষের চেতনার স্তরের তথ্য প্রোটিন সমৃদ্ধ কিছু মাইক্রোটিউবিউলস এই সংরক্ষিত থাকে, যা কিনা মৃত্যুর পরেও থেকে যায় । এই মাইক্রোটিউবিউলসে সঞ্চিত তথ্যই যখন শরীর থেকে বের হয়ে স্থান কালের বাইরের জগতে যাওয়ার উপক্রম হয় তখন তাকে জড়জগতে আমরা মৃত্যু বলে থাকি । আবার অনেক সময় তা না হয়ে পুনরায় শরীরে ফিরে আসলে তাকে মৃত্যুর খুব কাছে গিয়ে পুনর্জন্ম বলে অভিহিত করা বয়ে থাকে বলে গবেষকদের অনুমান ।

আমদের কি আত্মা বলে কিছু আছে ? এই প্রশ্নের উত্তরে রবার্ট লানজা বলে একজন গবেষকের উত্তর, ‘আমরা অমর । জন্ম থেকে মৃত্যু হল পুরোটাই সময়ের মধ্যে আর সময়ের বাইরের জগতের মধ্যে যাওয়া-আসা মাত্র’। আমরা নিজেদের চেতনা দিয়ে একটাই ব্রহ্মাণ্ডকে অনুভব করতে পারি বা বুঝতে পারি, কিন্তু সবকটা মাত্রা বা ডাইমেনশনের কথা ভাবলেই বুঝতে পারা যায় যে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ভিন্ন ভিন্ন ব্রহ্মাণ্ড একই সঙ্গে অবস্থান করছে, যা সাধারণ বোধবুদ্ধি দিয়ে বোঝার অতীত ।

হ্যাঁ, পদার্থবিদ্যার ধারণা থাকলে নিশ্চয়ই তা বোঝা বা অনুভব করা সম্ভব । আর এখান থেকেই প্রাচীন ধর্মগুলির মৃত্যুর পরবর্তী ধারণার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় । তবে কি এই মাইক্রোটিউবিউলসই যা কিনা অনেকখানি ডিএনএর মত সব তথ্য সঞ্চয় করে রেখে মৃত্যুর পরেও অটুট থাকে বলে অনুমান, তাই আত্মা ! এখানেই উঠছে প্রশ্ন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here