ক্যানসার নিরাময়ে নতুন পদ্ধতি ইমিউনোথেরাপির সাফল্যের হার অনেক বেশি

0

Last Updated on

ক্যানসার, শব্দটা শুনলেই যে কোনো গড়পড়তা মানুষের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে যেতে বাধ্য। এমনই মারণ রোগের চিকিৎসা যে দুর্লভ এমনও না । সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই প্রথম ‘কেমোথেরাপি’র উদ্ভব হয় বলে জানা যায় । পরে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গেই এসেছে এই রোগের নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিও । পরের দশকে ‘কেমোথেরাপি’র সঙ্গে সঙ্গে ‘রেডিয়েশন থেরাপিও’ জনপ্রিয় হয় । কিন্তু এই দুই চিকিৎসা পদ্ধতিতেই যে কোনো স্টেজের ক্যানসারকে সারিয়ে তোলার ক্ষমতা চিকিৎসকদের কাছে আজও অধরা থেকে গেছে । একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসারকে এই দুই সাবেকি পদ্ধতিতে সারিয়ে তোলা গেলেও তা যখন ‘মেটাস্ট্যাসিস’ বা আক্রান্ত অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে তখন তা সারিয়ে তোলা দুষ্কর হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে এই দুই পদ্ধতিতে ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয় ভীষণভাবে, কারণ ক্যানসারের খারাপ কোষের পাশাপাশি কিছু ভালো কোষেরও ক্ষতিসাধন হয়।

ক্যানসারের চিকিৎসায় গত দুই দশকে আরেকটি নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কার হয়েছে । আমাদের দেশে এখনো অনেকাংশের অজানা সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন এই পদ্ধতিটি হল ‘ইমিউনোথেরাপি’। সম্প্রতি গত বছরে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলও এই পদ্ধতির হাত ধরেই এসেছে। এই পদ্ধতিতে কোনোরকম শল্য চিকিৎসা ছাড়াই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীনভাবে রোগীর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ানো হয় শুধুমাত্র ওষুধ প্রয়োগ করার মাধ্যমে । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে গেলে তা শুধুমাত্র ক্যানসারেরে খারাপ কোষগুলিকেই আক্রমণ করে নষ্ট করে ফেলে, ভালো কোষকে আক্রমণ না করেই । ফলে রোগীর চিকিৎসা চলে সম্পূর্ণ ব্যাথা-যন্ত্রনা বিহীন ভাবেই যা সাবেকি পদ্ধতি দুটিতে কল্পনারও অতীত ।

তবে এই চিকিৎসা এখনও ভারতের মত দেশে জনপ্রিয় না হওয়ার কারণে তা তুলনায় ব্যায়বহুল অনেকটাই । সে সঙ্গে এটাই সত্যি যে দেশের তাবড় ক্যানসার হাসপাতালে ‘ইমিউনোথেরাপি’র কোনো পরিকাঠামো তৈরি হয়নি । কাজেই এ পদ্ধতি কিছু বেসরকারি ক্লিনিকেরই হস্তগত এখনও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here