প্লাস্টিক যুগ, আমাদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতের স্বচ্ছ ভারত

0

Last Updated on

প্লাস্টিক যুগে বাস করে সেই প্লাস্টিককেই দায়ি করছি আমরা !
সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্লাস্টিকের সঙ্গে আমাদের দিন শুরু হয়। টুথব্রাশ থেকে টুথপেস্ট। তারপর চানঘরে প্লাস্টিকের মগ থেকে বালতি, ট‍্যাপকল।
কলম থেকে চশমা।
এরপর অফিসে গিয়ে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে অন্-ডিউটি। শেষে বাড়ি ফিরে রাতে প্লাস্টিকের মোড়ক খুলে ওষুধ খেয়ে শুতে যাওয়া।
সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত প্লাস্টিক ঘিরেই আমাদের বেঁচে থাকা।
এতক্ষণ যেসব প্লাস্টিকের কথা বললাম, এর সবগুলোই হলো কমোডিটি প্লাস্টিক। এগুলো মাটিতে মেশে না, কোনো ব‍্যাকটিরিয়া এগুলোকে খায় না, বরং জমে জমে একদিন পাহাড় হয়।
প্লাস্টিক নিয়ে আরও একটি ভয়ংকর বিপদ-বার্তা আমাদের সামনে এসেছে। প্লাস্টিক ভেঙে কণা কণা হয়ে ভূ-গর্ভস্থ জলে মিশছে। আমরা পান করছি প্লাস্টিক জল। কিন্তু কেন বাড়ছে প্লাস্টিকের ব‍্যবহার?
জনসংখ্যা বাড়ছে। ১৮০০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়েছে ১ বিলিয়ন। এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য খাদ্য চাই, বাসস্থান চাই এবং তার যোগান দিতে চাই শক্তি। লোহা-ইস্পাত তৈরিতে যে পরিমাণ শক্তি লাগে, তার থেকে অনেক কম শক্তি খরচ করে আমরা বেশি পরিমাণ প্লাস্টিক পাই। তাই ক্রমাগত বেড়েছে প্লাস্টিকের ব‍্যবহার।
প্লাস্টিকের ব‍্যবহার কি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব এই মুহূর্তে?
উত্তর, না।
তাহলে কি করতে হবে?
আমাদের গ্রহণযোগ্যতার দিকে বেশি করে নজর দিতে হবে। যেমন, ধরা যাক, একটা প্লাস্টিকের টেবিল বা চেয়ার কিনলে সেটা প্রায় বছর পাঁচেক চলে যায়। পাঁচ বছরের আগে সেই টেবিল-চেয়ারকে আমরা ফেলে দিই না। কিন্তু প্লাস্টিকের ক‍্যারি ব‍্যাগ আমরা রোজ বাজার থেকে ঘরে আনি আর রোজ ফেলে দিই। বিপদ এখানেই।
তবে বর্তমানে স্টার্চ উপাদান ব‍্যবহার করে যে প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য।
ভবিষ্যতে আমাদের এই পদ্ধতির ভেতরেই ধীরে ধীরে ঢুকতে হবে। এটাই সমাধান।
সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মথুরায় “স্বচ্ছতাই সেবা ” কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ২৫ জন মহিলা সাফাই কর্মীর সঙ্গে নিজের হাতে ময়লা প্লাস্টিক পরিস্কার করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রসংঘের এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ২০২২ সালের মধ্যে দেশে একবার ব‍্যবহারের প্লাস্টিক (single use plastic ) নিষিদ্ধ করবে ভারত। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, বিশ্বেরও একাজ করা উচিত।
সেইমতো আগামী ২ রা অক্টোবর,গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকেই ৬ টি প্লাস্টিক পণ্যের উপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এই ৬ টি নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের তালিকায় রয়েছে—প্লাস্টিক ব‍্যাগ, কাপ, প্লেট, ছোট বোতল, স্ট্র এবং নির্দিষ্ট ধরণের স‍্যাচেট। জানা গেছে, এর ফলে প্রায় ৫ শতাংশ প্লাস্টিকের ব‍্যবহার কমে যাবে দেশে, যার পরিমাণ প্রায় ১৪ মিলিয়ন টন।
শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই সে ডাকে সাড়া দিয়েছেন বরুণ ধাওয়ানের “কুলি নং-১”-এর সিনেমার কলাকুশলীরা। ওই সিনেমা তৈরির সেটে কোনো রকম প্লাস্টিক ব‍্যবহার করা হয়নি। এমনকি, এই সিনেমার সেটের কলাকুশলীদের নিজস্ব স্টিলের বোতল রয়েছে। ফিল্ম জগতের এই সিদ্ধান্তকে টুইট করে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
২০১৮ সালে আইন করে ভারতের বড়ো রাজ‍্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্লাস্টিক। মুম্বাইয়ের বীচগুলিতে ভীষণভাবে প্লাস্টিক দূষণ ঘটছিল। ম‍্যানহোল, নালা প্লাস্টিকে আটকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল বর্ষায়। মহারাষ্ট্র সরকার আইন করে বন্ধ করেছে প্লাস্টিক। মহারাষ্ট্রের দোকান-বাজার- রেস্তোরাঁয় প্লাস্টিক ব‍্যাগ-বোতল-থার্মোকলের থালা ব‍্যবহার করা যাবে না। সেখানে প্লাস্টিক হাতে দেখলেই প্রথমে জরিমানা ৫ হাজার, দ্বিতীয়বার ১০ হাজার এবং তৃতীয়বার ৩ মাসের হাজতবাস।
তবে সেখানকার বাসিন্দারা ধীরে ধীরে প্লাস্টিক ছাড়তে অভ‍্যস্ত হয়ে গেছেন এখন। কাপড়ের থলি হাতেই তারা এখন বাজারে যান।
মহারাষ্ট্রবাসীরা আগেই শুরু করেছেন। সিনেমার কলাকুশলীরাও শুরু করলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের বাকি অংশ শুরু করলে ক্রমশ প্লাস্টিক মুক্ত এক সুস্থ দেশের ঠিকানা হবে আমাদের ভারত। সেদিকেই এগোচ্ছে দেশ। আমাদের মানসিকতার বদল ঘটানো দরকার। তবেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের “স্বচ্ছ ভারত।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here