কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, কান পাতলে নামাজের পাশাপাশি শোনা যাবে মঙ্গলারতির শব্দও

0

Last Updated on

ভারতের তিয়াত্তরতম স্বাধীনতা দিবস সদ্য অতিক্রান্ত। এবারের স্বাধীনতা দিবস অন্যবারের স্বাধীনতা দিবসের তুলনায় অনেকটাই আলাদা কারণ ২০১৯ এ ভারত ‘ এক নিশান এক বিধান’ এর দিকে পা বাড়িয়েছে, ৩৭০ ধারার সংস্কার এবং ৩৫ক আইনের অবলুপ্তি ঘটিয়ে।
কাশ্মীরে তেরঙা পতাকা তুলতে গিয়ে নিহত গৌহর আহমেদ ভাট কিংবা তেরঙার সম্মান রাখতে গিয়ে খুন হওয়া ঔরংজেবের মতো অজস্র মানুষের বলিদান আজ সার্থকতা পেল, নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপে।
বলাই বাহুল্য যে কাশ্মীরকে বাকি ভারতের থেকে আলাদা রাখার যে চক্রান্ত ভারতে পাকিস্তানের চিরাগ জ্বালিয়ে রাখা জওহরলাল নেহেরু এবং শেখ আবদুল্লা রচনা করেছিলেন আজ থেকে সত্তর বছরেরও আগে, ৫ই অগাস্ট রাজ্যসভায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পেশ করা বিল সেই বাতির তেল কেড়ে নিয়েছে। তার পাশাপাশি এই বিল জাগিয়ে তুলেছে জাতীয়তার সেই সুমহান আলোকস্তম্ভ, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদান যার প্রথম শিখা।
একটা স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে শ্যামাপ্রসাদকে বন্দী করে রেখে, বিনা চিকিৎসায় তাঁকে মরে যেতে বাধ্য করে, যারা ভেবেছিল যে প্রতিবাদের আগুন নিভিয়ে দেওয়া যাবে, তিনশো সত্তর ধারার অবলুপ্তিতে আজ তাদের উত্তরসূরিদের প্রাণ বড় কাঁদছে। কাশ্মীর আর অবশিষ্ট ভারতের মধ্যের দেওয়াল ভেঙে পড়ায় তারা আতঙ্কিত!
ভারতে থেকে, ভারতেরটা খেয়ে পরে ভারতের সর্বনাশ করার যে চিরন্তন চেষ্টা তারা চালিয়ে গেছে ও যাচ্ছে, কোনও শাস্তিই তার জন্য যথেষ্ট নয়। তিয়েন-আন-মেন স্কোয়ারে হাজার হাজার মানু খুন হবার পর এরা নড়ে বসেনি, বরং ‘ওটা চিনের অভ্যন্তরীন ব্যাপার’ বলে কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
আরও আগে রাশিয়ার ট্যাংক যখন পোল্যান্ড, চেকোস্লোভাকিয়ার মানুষদের দলে পিষে শেষ করছিল, তখন এরা উল্লাসে ফেটে পড়ছিল নিজের নিজের ড্রয়িং রুমে। স্বাধীনতার পরপরই পশ্চিম কিংবা পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল এই বিশ্বাসঘাতকদের একটা বিরাট অংশ। কিন্তু কোনওদিন এদের লেখা কিংবা কথায় নোয়াখালি অথবা চুকনগরের হিন্দু গণহত্যা নিয়ে একটি শব্দও থাকেনি। কেউ জিজ্ঞেস করতে পারে, এমন পরিসরটুকুও নির্বিচারে বন্ধ করে দিয়ে এরা ভারতে পাকিস্তানপন্থীদের তীর্থক্ষেত্র আলিগড়ে বসে, ইতিহাস রচনার নাম করে, ভারতের মানুষের উপর নাদির শাহ আর তৈমুর লংদের নৃশংস অত্যাচারকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে এসেছে।
তখন ভারতের তখতে বসা জেহাদী চাচা ছিল এদের পৃষ্ঠপোষক, আজ মিয়া হাবিব কিংবা নোবেল সেনের জন্য অফুরন্ত পেট্রোডলার আছে।
কিন্তু এই মরুভূমির কৃপাপ্রাপ্তরা ভুলে যায় যে সাধারণ মানুষের রক্ত আর কান্নার দাগ পেট্রোলের চাইতে ঘন।
তাই লাখো পণ্ডিতের খুন এবং পণ্ডিত রমণীদের ধর্ষণে প্রত্যক্ষ মদত যোগানো আবদুল্লা মুফতিদের আর তাদের পিছনে থেকে ভরসা যোগানো ভারতের শাহেনশাহ পরিবারের লোকদের তাবত প্যাঁচ পয়জার মাটি করে দিয়ে কাশ্মীর আজ, শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও, ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংগ। এখন কাশ্মীরের শালবিক্রেতা যেমন বরাবরের মতোই কলকাতায় আসতে পারবেন, দক্ষিণ ভারতের একটা ছেলেও দোসা বিক্রি করতে কাশ্মীরে যেতে পারবে।
শাহ ফয়জল কিংবা ইউসুফ তারিগামির মতো সুপ্ত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সেই দশাই হবে যে দশা লক্ষ লক্ষ পণ্ডিতের রক্তে হাত রাঙানো গিলানি কিংবা লোনদের হয়েছে।
পাকিস্তানের আই এস আই এবং মাওইস্ট, যারা ভারতে চিরকাল হাতে হাত ধরে কাজ করে এসেছে, এবার নিজেদের খুনি হাতগুলোয় হাতকড়া আবিষ্কার করবে আর নতুন ভোরের সন্ধান পাবেন কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ, যে ভোরে কোনও ভারতবাসী আর ভারতীয় সেনার দিকে, পাকিস্তানের পয়সায়, পাথর ছুড়বে না, যে ভোরে আজানের ধ্বনির পাশাপাশি মংগলারতির শব্দও শোনা যাবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here