অগ্নিশিখার ‘চিত্ত বিনিময়’ কলা-কুশলীদের গুণে হয়ে উঠল চিত্তাকর্ষক

0

Last Updated on

কলকাতার মত বড় শহরগুলিতে নাটককে বাঁচিয়ে রাখা যতটা কঠিন তার থেকে মফঃস্বলের দলগুলির আরও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং | বিনোদনের সব রকম সাধন হাতের মুঠোয় চলে আসায় নাট্যঅনুরাগী মানুষের সংখ্যা প্রায় হাতে গোনা | একটা পূর্ণাঙ্গ নাটক মঞ্চস্থ করতে যে তুলনাহীন পরিশ্রম কিংবা অনুশীলন দরকার পরে সেই অনুসারে তার দর্শক মেলেনা । নাটকের এই মন্দার বাজারে ইসলামপুরের অগ্নিশিখা নাট্যগোষ্ঠীর সদস্যরা শুধুমাত্র নাটকের স্বার্থে সংস্থার চল্লিশতম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তাদের চল্লিশতম নিবেদন করলেন রাধারমন ঘোষের লেখা নাটক “চিত্ত বিনিময়”।

উত্তম সরকারের নির্দেশনায় দীর্ঘদিন বাদে দর্শকরা মনোযোগ সহকারে সেই নাটক বেশ উপভোগ করল । দর্শকদের মনে নাটকটি এমনই দাগ কাটে যে নাটক শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন নাট্যকর্মীর ভালো লাগার বিষয়গুলো তারা জানিয়ে গেল । এখানেই তো প্রকৃত শিল্পের সার্থকতা । ১৫ই সেপ্টেম্বর রবিবার ইসলামপুর বাস টার্মিনাসের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো এই নাটক । শুরুতেই সম্পাদক সুশান্ত নন্দী অগ্নিশিখা নাট্য সংস্থার ইতিহাস তুলে ধরেন দর্শকদের কাছে । দীর্ঘদিন নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য এবং তাঁদের অভিনয়কে স্বীকৃতি দিতে সম্মাননা প্রদান করা হয় প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব ধূর্জটি মুখার্জী, শ্যামলকান্তি নন্দী, তরুণ তুর্কি নাট্যকর্মী পবিত্র চক্রবর্তী ,সম্রাট বিশ্বাস এবং চন্দন পাল প্রমুখ ব্যক্তিত্বদের ।

এই নাটকটির বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘তরঙ্গ’ নামের একটি নারী চরিত্র । সেই চরিত্রে নিজেকে যেন উজাড় করে দিয়েছেন গৌতমী সাহু । ‘উদ্ধব’ নামে এক চাকরের ভূমিকায় পবিত্র চক্রবর্তীও ছিলেন বেশ মানানসই । নারদের ভূমিকায় উজ্জ্বল দত্ত এবং পুরোহিতের ভূমিকায় মনোজ হালদারও কম দক্ষতা প্রদর্শন করেননি । এছাড়াও নন্দীর চরিত্রে বিশ্বজিৎ রায় এবং ভৃঙ্গির ভূমিকায় গৌতম বিশ্বাসের চরিত্র-চিত্রন ছিল নান্দনিক। জামাইয়ের ভূমিকায় জ্যোতির্ময় সরকারের অভিনয় দর্শকমহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে । রামা খানসামার ভূমিকায় যেমন চিরঞ্জিত সরকার নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন তেমনি নীলমণি নামে একটি চরিত্রকে সম্পূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলতেও কোনো কৃপণতা করেননি সঞ্জয় দত্ত । রামদিন চরিত্রে যথার্থ ছিলেন মন্টু মন্ডল । গোবর্ধন চরিত্রটির মধ্যের কৌতুকপূর্ণ দিকটি যথার্থ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নাট্যকার তথা এই নাটকের নির্দেশক উত্তম সরকার । দাদু চরিত্রে শ্যামল কান্তি নন্দী তার অভিনয়ের দীর্ঘ কয়েক দশকের ছাপ রেখে গেছেন । পাশাপাশি বুলবুলি মুখার্জি একজন নতুন শিল্পী হিসেবে তাঁর চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন । একটি সুবর্ণ গোলক হাত বদল হবার পর চরিত্রগুলো যেভাবে অদল বদল হয়ে যাচ্ছে, অভিনয়ের গুনে মুহূর্তেই সেই চরিত্র সেইভাবে বদলে ফেলেছেন অনায়াস দক্ষতায় নাট্য কর্মীরা । যন্ত্রানুসঙ্গে গৌতম মল্লিক ও আলোকসম্পাতে নাটককে শ্রুতিমধুর ও দৃষ্টি নন্দন করে তোলেন নুকু মুখার্জি । রূপসজ্জায় ছিলেন সুষেন বিশ্বাস । উদয় মণ্ডল,কৌশল ঘোষ,শম্পা শেঠ,অর্পিতা দত্ত,মনি শংকর দাস ও জয়ন্ত চন্দ।সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে সুচারু ভাবে সঞ্চালনা করেন মিঠুন দত্ত ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here