জিজেএমের বিমলপন্থীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ রোশন গিরি

1

Last Updated on

বছর দুয়েক আগের কথা| অশান্ত পাহাড়কে চক্রান্ত করে বিমল গুরং ও তার সহযোগীরা উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে| এই অভিযোগে রণংদেহী মূর্তি নিয়েঠিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়| পুরোনো জিটিএ চেয়ারম্যান বিমল গুরুং ও তার ছায়াসঙ্গী রোশন গিরিকে পাহাড় ছাড়া করার অভিযোগও উঠেছিল তখন পুলিশমন্ত্রীর বিরুদ্ধে| তখন ওই সব অশান্তি,পাহাড় বনধের পিছনে তিনি বিজেপির হাত দেখেছিলেন| যদিও তদানীন্তন সাংসদ এসএস আলুওয়ালিয়াকে পাহাড়ের সেই দুর্দিনে দেখা যায়নি বলে ক্ষোভ উগরে গিয়েছিলেন পাহাড়বাসীরাই| এরপরের কাহিনী সবার জানা| একদা বিমল ঘনিষ্ঠ বিনয় তামাংকে জিটিএ প্রধান করার পর পাহাড়ে আবার শান্তি ফিরে এসছে বলে দাবি করে থাকেন শসক দলের নেতারা| আর তাতে নেত্রীরই হাত যশ বলে মনে করেন তাঁরা| মাঝে পেরিয়েছে লোকসভা ভোট| তাতে বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সাংসদ হওয়া|

বিমল গুরুং ও তাঁর সঙ্গী ও সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির আত্মগোপনের পরেও একাধিক বার্তা দিয়েছেন | সোচ্চার হয়েছেন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে| মঙ্গলবার সেই অজ্ঞাতবাস থেকেই রোশন গিরির এক প্রেস বার্তায় জানান, পাহাড়ে জিজেএমের বিমল পন্থী সদস্যদেপ উপর পুলিশি অত্যাচার চলছে| বিশেষত দার্জিলিং পৌরসভা বিমলপন্থী কাউন্সিলরা সংক্যাগুরু হয়ে কার্যত পৌরসভা দখলের উদ্যোগ নেওয়ার পর এই অত্যাচার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রোশন গিরির| পৌরসভার পুরোনো বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার দিনই তাঁদের মুখপাত্র বিপি বাজগেইনকে গ্রেফতার করা হয় বলে উল্লেখ করেন বিবৃতিতে| ২৯তারিখ অনাস্থা পেশের পর পরিবর্তনকামী বিমল পন্থী পৌরপিতা নোমান রাইয়ের বাড়িতে ৩১শে মে দুষ্কৃতীরা হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়| জিজেএমের বিমল পন্থী মহিলা মোর্চা নেত্রী মঞ্জুলা সুব্বাকেও গিনা কারণে ভুয়ো মামলায় গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ করেন রোশন গিরি| এর চেয়েও মারাত্মক অভিযেগ প্রাক্তন এক সেনা কর্মী যার বয়স ৮০এর কাছাকাছি, সেই প্রবীণ নাগরিক আরপি ওয়াইবাকেও পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে পুলিশ নির্মমভাবে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন জিজেএমের সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি | এই নির্যাতনের খবর সংবাদ মাধ্যম অবধি পৌঁছতে যাতে না পারে তার জন্য ছবিও তুলতে বাধা দেওয়া হয় পরেরদিন আদালত চত্বরে| তাঁদের কর্মীদের উপর নেমে আসা এই সব অত্যাচারকে তিনি গণতন্ত্রের বিরোধী বলে মনে করে সরাসরি দ্বারস্থ হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে| একই চিঠি পৌঁছন রাজ্যপাল কেশরি নাথ ত্রিপাঠীর কাছেও | কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের কর্মী ও পরিবারের উফর হওয়া অত্যাচারের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি করা হয়েছে বিবৃতিটিতে|

যদিও যুযুধান দুই পক্ষ তৃণমূল কংগ্রোস ও বিজেপি শিবিরের নেতারদের কাছ থেকে এই নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি| তবুও রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা লোকসভা ভোট পরবর্তী যে হিংসা রাজ্যের সমতলে ছড়িয়েছে, তা এবার কি পাহাড়েও ছড়িয়ে পড়বে? দিনের পর দিন অশান্ত পাহাড় বনধের সেই ছবিটা ফেরার আগেই সক্রিয় হোন রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন,বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লষকেরা|

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here