মূর্তি ভাঙার রাজনৈতিক তরজা কি প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার ফিকির শাসকের?

0

Last Updated on

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিক শাহের রোড শো চলাকালীন বিদ্যাসাগর কলেজের বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর কেটে গিয়েছে ২৪ঘন্টারও বেশি সময়| এই ঘটনার পর নিন্দার ঝড় উটেছে দেশ জুড়ে| সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে বেশ কিছু ছবি| যার ব্যাখ্যা প্রত্যেকেই নিজের নিজের মত করছেন| যুযুধান পক্ষ ভিডিও ক্লিপিংসগুলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলেছেন| মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো ঘটনার পর পরই গিয়ে পৌঁছন ঘটনাস্থলে| সেখানে গিয়ে বলেন,ভিন রাজ্য থেকে আসা বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডারাই ভাঙচুরের মত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত| উল্টোদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন বাংলাতে গণতন্ত্র ভূ-লুন্ঠিত হচ্ছে| সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচনে যাতে তৃণমূল সুপ্রিমোকে ভোটের প্রচার করতে না দেওয়া হয় তাঁর জন্য বিজেপির তরফ থেকে আবেদন করা হবে বলেছেন তিনি| ফেসবুকের মত সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার পরপরই এক ছাত্রের পোস্ট ঘিরে প্রথম সন্দেহ দানা বাধে| কি ছিল সেই পোস্টে? জনৈক বিরাজ নারায়ণ প্রশ্ন তোলেন,বিদ্যাসাগরের যে স্ট্যাচুটি ভাঙা নিয়ে এত তরজা তা আসলে রয়েছে কলেজের অন্দরে| তবে কীভাবে বিজেপি সমর্থক দুটি গেট ভেঙে ঢুকে পড়ল? যদি মেনে নেওয়া হয় যে বিজেপির সমর্থকেরা মূর্তি ভেঙেছেন কলেজের সিসিটিভি কেন খতিয়ে দেখা হচ্ছেনা? ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে একদল যুবককে ইট ছুঁড়তে দেখা যাচ্ছে এবং তাদের ইটের অভিমুখ অবশ্যই কলেজের দিকে| কিন্তু সেই একই ছবিটি খতিয়ে দেখলে কলেজের ভিতর থেকে উড়ে আসা ইঁটও চোখে পড়বে সহজে| প্রশ্ন কলেজের ভিতর থেকে তবে কারা সেই ইট মিছিলের দিকে ছুঁড়লেন? নিন্দুকেরা বলছেন এসবই পূর্ব পরিকল্পিত| সেখানে নাকি আগে থেকেই ইট-পাটকেল জড়ো করার কাজ করেছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকেরা| আর সেই মূর্তি ভাঙার কারিগরদের নাকি দেখা গিয়েছিল সাংবাদিক সম্মেলনরত তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছাকাছিই|

এগুলি সবই তদন্ত সাপেক্ষ| তবে তদন্ত না হয়েই কীভাবে ৫২ জনকে গ্রেফতার করে ফেলল পুলিশ প্রশ্ন করছেন অনেকে| শাসকদলের ছাত্রসংগঠনের উস্কানির তত্ত্ব আরও খানিকটা জোরদার করেছে তারা নিজেরাই| কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যখন মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে এগোচ্ছিল,তখন অমিত শাহকে কালো পতাকা দেখিয়েছিলেন একদল তৃণমূল সমর্থক| এই ঘটনার পর সেখানেও একপ্রস্থ্ উত্তেজনাকে প্রশমিত করতে হয় পুলিশকে লাঠিচার্জের মাধ্যমে| প্রশ্ন উঠছে, এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের কী আরও খানিকটা সতর্কতা প্রয়োজন ছিলনা? বিদ্যাসাগর কলেজে যখন দুপক্ষের ইটবৃষ্টি চলছে,তখন ওই চত্বরের কর্তবরত পুলিশ অফিসারেরা কোথায় ছিলেন? ২৪ঘন্টা কেটে গেলেও পুলিশ কেন মূর্তি ভাঙার মূল অভিযুক্তকে জনসমক্ষে আনতে পারলেননা? প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এই দায় কী এড়াতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তাই মূর্তি কারা ভেঙেছেন সেই নিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে যুদ্ধের আগে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারও তাঁরই কী কাজ নয়? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here