#কুবুদ্ধিজীবীরাতফাৎযাও

0

Last Updated on

ফলিতস্তাবদষ্মাকং কপটপ্রবন্ধঃ ।
মনোরথসিদ্ধিরপি বাহুল্যান্মে ভবিষ্যতি ।
যতঃ এতম্ভ্যোংকৃত্যমানস্য মাংসাস্বগনুলিপ্তানি
অস্থানি ময়াকশ্বাং প্রাপ্তব্যানি ।
স চ মৃগস্তং দৃষ্টেক্সিাসিতে ক্ৰতে—সখে ছিন্ধি তীবন্মম বন্ধনম্। সত্বরং ত্রায়স্ব মাম্। যতঃ ।
আপৎস্থ মিত্রং জানীয়াদ যুদ্ধে শূরমুণে শুচিম্‌।
ভাৰ্য্যাং ক্ষীণেষু বিত্তেষু ফলিতস্তাবদষ্মাকং কপটপ্রবন্ধঃ । চ বান্ধবান ॥

যখনই কোন দেশ যুদ্ধে যায় বা যেতে বাধ্য হয় তখনই দেখা যায় একদল লোক সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধাচারণ করে। এই বিরুদ্ধাচারণ নানা রকম হতে পারে । সরাসরি বলতে পারে যে, না, আমাদের দেশ যুদ্ধ করে ঠিক করেনি । আমাদের দেশে অন্যায় করেছে। দেশের মানুষের এই যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রের পাশে কোনোভাবেই দাঁড়ান উচিত নয় ।

আবার প্রচ্ছন্নভাবে নানা রকম কূটতর্ক তুলে দেওয়া হয়| দেশের যুদ্ধং দেহি মনোভাবটি উচিত না অনুচিত সেই সম্পর্কে মানুষের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন,- হ্যাঁ , আমাদের সেনানীরা বীরের মতো লড়ছে তাদের সর্বতোভাবে সমর্থন করা উচিত । তবে কিনা যুদ্ধ সৈন্যরা চালু করেনি। করেছে,রাজনৈতিক প্রভুরা এদের উদ্দেশ্য কত দূর সাধু কত দূর অসাধু তা খতিয়ে দেখা দরকার । তাছাড়া যুদ্ধের খরচও ব্যাপক, খরচ বাঁচিয়ে দেশবাসীর মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিলেই ভাল হয় । চলতে থাকে এই ধরনের দু-মুখো কূটতর্ক ।

যারা সরাসরি যুদ্ধের বিরোধিতা করে তাদের মধ্যে অধিকাংশই দেশদ্রোহী । তাদের অনেকে নিজের বাড়িতে শত্রুপক্ষের পতাকা উড়িয়ে থাকে| অথবা সময় অসময় দেশ ও জাতির বিরোধিতা করে থাকে। যুদ্ধে নাই বা হোক,খেলায় শত্রুদের দেশ জিতলে অসম্ভব আনন্দ পায় ।

অনেক সময় ভোটের লোভে এই ধরনের দেশদ্রোহীদের সরকার কিছু বলে না তার ফলে দেশদ্রোহীরা আরো বেশি উৎসাহ পেয়ে যায় ।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বহু দেশের মধ্যে কুবুদ্ধিজীবী বা দেশদ্রোহী মানুষের আধিক্য বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল। এরা সরাসরি নিজ নিজ দেশের বিরোধিতা করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্রিটেনের অসওয়াল্ড মোসলি। এই ব্যক্তি তাঁর পুরো যুদ্ধকাল টা জেলে কাটান। মার্কিন কবি ছিলেন এজরা পাউন্ড ।

উইলিয়াম জোয়েস নামে একজন দেশদ্রোহী জার্মানিতে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং বার্লিন বেতার থেকে মিত্র শক্তির বিরুদ্ধে প্রচার করছিলেন। এর চালু নাম ছিল লর্ড হ হ । পরবর্তীকালে এই ব্যক্তির দেশদ্রোহিতার অপরাধে ফাঁসি হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান আমেরিকান বান্ড এবং আমেরিকা ফাস্টার নামে দুটি সংস্থা খুলে কূটতর্ক তুলে মার্কিনদের যুদ্ধ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন । এদের মধ্যে বিখ্যাত বৈমানিক লিন্ডবারগও ছিলেন| এদের চাপ এত বেশি ছিল যে পার্ল হারবারের ঘটনা ঘটা পর্যন্ত আমেরিকা যুদ্ধে যোগদান করতে পারেনি করলে সম্ভবত বহু আগে যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত ।

ভারতে এই ধরনের কুবুদ্ধিজীবীদের প্রথম দেখা গিয়েছিল ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে চীন-ভারত যুদ্ধের সময়। তার মধ্যে একজন ছিলেন আচার্য্য বিনোবা ভাবে । এই ব্যক্তি ভূমি আন্দোলনে খ্যাত ছিলেন। লোকে যদিও বলে এই ব্যক্তি বিবেক তাড়িত। যদিও তা নিয়ে পরে বহু বিতর্ক হয়েছে।

এই সব কুবুদ্ধিজীবীরা এতই নিরেট মাথার হয় যে ভারত চীন যুদ্ধের সময় এই ব্যক্তি বলেছিলেন ” এত শক্তি, রক্ত ক্ষয় না করে কিছু বাচ্চা ছেলে মেয়েকে চীন সীমানায় পাঠিয়ে দেওয়া হোক। তারা চীনা সৈন্যদের চলে যেতে বললে তাদের কথা চীনারা ফেলতে পারবে না । ফলে যুদ্ধ থেমে যাবে।”

এর কিছুদিন আগেই এই বিনবা ভাবে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি, কালী দেবী নিয়ে অত্যন্ত গর্হিত কিছু বলার জন্য বাঙালি হিন্দুদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন|

যদিও ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে আসল খেলা দেখিয়েছিল আমাদের বঙ্গীয় লাল দল । তখন লাল দল ভাগ হয়নি । চিনা আক্রমণ নিয়ে ডাঙ্গে ও রনডিভের মধ্যে জোর ঝগড়া চলছে । সেই সময় লাল রঙের দলটির বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বলেছিলেন যে, “অত হাজার ফুট উঁচুতে কে কাকে আক্রমণ করছে তার আমরা কি জানি ? ” কি আশ্চর্য,এরাই আমাদের দেশের নুন খায়?

আমাদের দেশের ৪২জন সেনা তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। প্রতিনিয়ত সীমানায় যে সমস্ত সেনারা তাদের জীবনকে উৎসর্গ করে, তাদের সমস্ত কিছুকে উৎসর্গ করে, আমাদের দেশের নিরাপত্তা কে বজায় রাখছেন যে সেনারা বীরের মতো লড়েই যাচ্ছেন,যারা সেই সীমান্তে রোদে, জলে, ঝড়ে, বরফের মধ্যে থেকে আমাদের জীবনের ছোট বড় আনন্দ দৈনন্দিন জীবনের সুস্থতাকে বজায় রাখছেন। সেই সমস্ত সেনাদের বিরুদ্ধে অনবরত কুবুদ্ধিজীবীরা তাদের বিভিন্ন কাজকর্ম দেখিয়ে যাচ্ছে!

কেউ বলে চলেছেন ,” এই সমস্ত সেনারা তো জীবন দেওয়ার জন্যই মাইনে পায়”| কেউ বলছে, ” আদৌ পাকিস্তান থেকে আঘাত করা হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার”, কেউ তো শত্রু দেশের জন্য ‘জিন্দাবাদ’ নাড়া দিচ্ছে…

আমাদের সেনানীরা মরণপণ করে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়ছেন ও প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছেন। তখন এই সমস্ত কুবুদ্ধিজীবীদের এই বিভিন্ন কুকর্ম করে চলেছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ শিল্পী ও রাজনৈতিক। ব্যবসা ভালো বোঝে। ব্যবসায় ভাঁটা যাতে না পড়ে তাই তাদের বেচে খাওয়া শিল্পকে শান্তির বার্তা করতে চাইছে।

এই দেশ বিরোধী কথা গুলি সাধারণ হেঁটো লোকের কথা নয়। যারা বলছেন তাদের গুচ্ছের ডিগ্রি আছে।
তারা কেউ নিজেদের সর্বহারা বলছেন,কেউ বলছেন আবার মাটির সরকার। জনসাধারণের খরচে এনারা বহুবার বিদেশে বেরিয়েছেন। বিভিন্ন মিটিং মিছিল করেছেন, সেখানে মিটিংয়ের নামে পিকনিক হয়েছে। এছাড়া তো বিভিন্ন চিটফান্ড, স্ক্যাম করে জনগনের রক্ত শুষেছেন। এদের নিজেদের জীবন ভোগ বিলাসে কাটে।

কুবুদ্ধিজীবীরা বিনা উদ্দেশ্যে কোন কাজ করেন না। তারা যে কূটতর্ক তুলছেন তার পরিষ্কার উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের মধ্যে সেনা, তাদের এই দেশকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে সন্দেহ জাগানো, দেশের মানুষের মধ্যে অবান্তর ব্যাপারে মন কষাকষি তৈরি করে দেওয়া, আমাদের দেশে সাফল্যকে খাটো করে দেখা ও ক্ষয়ক্ষতিকে বিশাল করে দেখানো|

এবার এই কুবুদ্ধিজীবীদেরকে কিছু কীর্তি প্রসঙ্গে আসি। বুদ্ধিজীবী দু’রকমের হয়-এক তো ,আমরা বানাই আর দুই, কিছু লোক স্বঘোষিত হয়। তো আমরা যাদের বানাই আর যারা স্বঘোষিত হয় তারা দুজনের কোনভাবেই ভদ্রলোক নন।এই যেমন তাঁরা দুই দেশের শান্তি কল্যাণের জন্য চোখের জল ফেরা শুরু করে দিয়েছেন। এই যে ৪২ জন সেনা মারা গেলেন তাতে যদি আমাদের ভারতীয় সেনারা এখন পাকিস্তানকে আক্রমণ করে তাহলে সেটা ঠিক হবে না| তারা নিজেদের কথা দেশের সাধারণ মানুষের মুখের উপর বসিয়ে দিলেন। বলতে শুরু করলেন যে, সাধারণ মানুষের এতে সায় নেই, যুদ্ধবাজ ভারতের রাজনীতিকদের কুচক্রান্তেই যুদ্ধ হচ্ছে।

কিন্তু কুবুদ্ধিজীবীদের তো এসবের ধর্তব্যের মধ্যেই নয়। এরা শান্তি কল্যাণ চায় ,নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে হবে |

ভারত পোখরানে পরমাণু বোমা ফাটিয়ে মহাপাপ করে ফেলেছেন। ভারতীয় সেনাদের জন্য কিছু করতে গেলে, যুদ্ধ সংক্রান্ত কিছু করতে গেলেই তখন নাকি ভারতের সমস্ত অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা শুরু হয়ে যায় । তখনই এরা ভাত চেয়ে বেড়ায়।

কুবুদ্ধিধারীদের কে বোঝাবে বলুন তো যে ভারতে যখন পোখরানে বোমা ফাটানো হয়েছিল তার কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তান চাঘই পাহাড়ে বোমা ফাটিয়েছিল। তার মানে পাকিস্তান এতদিন চুপ করে বসে ছিল না, তার মানে এটা তারা গোপনে বোমা বানাচ্ছে। না হলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পারমাণবিক বোমা বানাতে পারে না কেউ?

নাকি পাকিস্তান বাস্তবিক দেউলিয়াপনায় পৌঁছেছে বলে এই সব কুবুদ্ধিজীবীদের এত রাগ?

১০০কোটি মানুষের দেশ তো কোথাও পাওয়া যায় না। আবার এরকম দেশের বেইমান মানুষও অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। যে মানুষ থুড়ি দেশজ নাগরিক ,এত বিরোধিতা ,এত খারাপ কিছু ,পাকিস্তানকে সাপোর্ট করার , পরেও চীনের চেয়ারম্যানকে তাদের চেয়ারম্যান বলে। চীনের আইফোন মায়ের আদরের থেকেও বেশি দামি হয়ে ওঠে। মাও কে সমর্থন করে সন্ত্রাস করে, দেশদ্রোহ করে।

এমন একটি দেশ , যে দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য সন্ত্রাসবাদী সংগঠন , সন্ত্রাসবাদ ও সমর্থন করা দেশগুলিকে অবলীলাক্রমে সাপোর্ট করে । দেশকে টুকরো করার নাড়া লাগায়। দেশ রক্ষাকারী সৈন্যবাহিনীকে খুনির তকমা দেয়। এমন একটি দেশ,যেখানে উড়ালপুল ভেঙে মানুষ মারা গেলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সাংসদ বলে ওঠেন মানুষের প্রাণের দাম উড়ালপুলের দামের কাছে কিছুই নয় ।

কে বা কাদের কথা বলছি নিশ্চয় উপলব্ধি করতে পারছেন। হ্যাঁ অতিশিক্ষিত জেএনইউ বা জেইউ এর উগ্র বামপন্থা আদর্শে যুক্ত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’। সঙ্গে রয়েছে ‘পাপ্পু’ যুক্ত কংগ্রেস। যে কানহাইয়া পাস তো করতে পারে না কিন্তু দেশবিরোধীতা করে নোংরামি ষোলো আনা করতে পারে।

এমন একটি দেশ পাবলিকের টাকা চুরি করা অভিনেতা ,রাজনৈতিক নেতাগণ মানুষের কাছে ভগবান বলে বিবেচিত হয় ।

ভুলে যায় সেইসব সেনাদের যারা এই দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন । যাদের জন্য সেই মানুষ গুলোই রাতের বেলা নিশ্চিন্তের ঘুম ঘুমায় সেই সেনা , সেই মাতৃভূমিকে গালাগালি দিতে দিতে তারা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যায়।

যখন পুরো দেশ সেনাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন, তখন কুবুদ্ধিজীবীদের কে অধিকার দিল স্বদেশ আর শত্রুদেশকে এক আসনে বসানোর? কে অধিকার দিয়েছে দেশবাসীর মন নষ্ট করার? জনগণ ( এরমধ্যে দেশদ্রোহী দের ধরবেন না। ভোটাধিকার থাকলেই কেউ সুস্থ নাগরিক হয় না।) কিন্তু এখন জাগরিত…

কে গৌরী লংকেশ আমি চিনি না। কে কানহাইয়া আমি সত্যিই তাকে তেমন চিনি না। আমি মাও লেনিন মহান স্তালিন চে ফিদেল কালবুরগি কাউকে না । বিশ্বাস করুন কাউকে না। শুধু বামপন্থী নামে একটা দলের নাম শুনে আসছি। বাড়ির ছাদ থেকে দেখেছি টাঙ্গি বল্লম নিয়ে লাল সারি দেওয়া মিছিল। কাটারি নিয়ে একজন কংগ্রেসের হাত কাটছিল। ভোটের দিন সামনের কংগ্রেস বাড়িতে প্রতিবার বোম পড়ত। যারা সাম্যবাদ মুখে বলে কিন্তু তাদের থেকে বড় বুর্জোয়া কিছুই নেই।

বাম নকশাল মাও দের জানা অজানা কেচ্ছা। কেরালায় হিন্দুত্ববাদী হত্যা। আখলাক মরলে লাখ লাখ। ইন্দ্রজিৎ মরলে ফক্কা। আজ বামপন্থী অতিবামপন্থীরা কেউ যেমন তোতন দাস,ইন্দ্রজিৎ এদের চেনে না। আবার আমি যেমন তাদের চিনি বা চিনে গেছি। তেমন বিশ্বাস করুন আমি গৌরী লংকেশ কে চিনি না। ইচ্ছাও নেই। যে দেশ মায়ের বিরোধিতা করতে পারে। যে দেশের রক্ষক মরলে আনন্দ করতে পারে তার বেঁচে থেকে কি লাভ?

উপর থেকে দেখলে মনে হয়, সবাই ধর্মনিরপেক্ষতায় মগ্ন…. কারোর ভেতরে কোনো পাপ নেই… কোথায়ও কোনো সমস্যা নেই…. কিন্তু সত্যিই কি তাই? উত্তর খুজবে সময়|

লেখক:দুর্গেশনন্দিনী
(বি:দ্র:লেখকের মতামত একান্ত ব্যক্তিগত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here