জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গকে সঙ্গে নিয়েই মোদির মন্ত্রীসভায় বাংলার সম্ভাব্য মুখেরা

0

Last Updated on

বাংলায় বিজেপির অভাবনীয় সাফল্য| আর তারপর থেকেই শুরু জল্পনা| বাংলায় গেরুয়া শিবিরের ব্যাপক সাফল্যের পর প্রশ্ন উঠছে কাদের দেখা যেতে পারে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী সভায়? সূত্রের খবর, জঙ্গল মহল ও উত্তরবঙ্গকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান মোদি| জঙ্গলমহলের চারটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ঝাড়গ্রাম,পুরুলিয়া,বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুরে সাফল্যের জন্যই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকছেন এখানকার সাংসদেরা| নির্বাচন চলাকালীন ১৭টি জনসভা করেছিলেন এরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী| সেই তালিকাতে ছিল ঝাড়গ্রাম,বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার আসনগুলি| এই তিন আসনে জয়ী বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রম,জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং ডাঃ সুভাষ সরকার , এরা প্রত্যেকেই গড়ে ৪০শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন| যার মধ্যে ডাঃ সুভাষ সরকারকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের দৌড়ে আর একটু এগিয়ে রাখছে রাইজিং বেঙ্গল| রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী সুব্রত মুখার্জিকে যিনি পরাজিত করেছেন ৪৯.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে|
নির্বাচনের বেশ কিছু আগে থেকেই মোদির পাখির চোখ ছিল উত্তরবঙ্গ| সেই মর্মে কলকাতার পাশাপাশি শিলিগুড়িতে সভা করেন তিনি| এরপর জলপাইগুড়ি,কোচবিহারের মত লোকসভা আসনগুলিতে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি| এর ফলও পাওয়া যায় হাতেহাতেই| উত্তরবঙ্গের সাতটি আসনই জয়লাভ করে বিজেপি| কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভায় ঠাঁই পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের নব্য বিজেপি সাংসদের মধ্যে কারো কারো| বিজেপি মহিলী নেত্রী হিসবেে দীর্ঘদিন মাটি আঁকড়ে কাজ করা দেবশ্রী চৌধুরি রয়েছেন এর মধ্যে| রায়গঞ্জের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম ও একদা সাংসদ দীপা দাসমুন্সিকর মত হেভিওয়েটদের হারিয়ে ৪০শতাংশের মানুষের আস্থাভাজন হওয়াতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন রায়গঞ্জের এই নব্য সাংসদ| মন্ত্রীত্বের দৌড়ে উঠে আসছে আলিুপরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লার নামও| ৫৪ শতাংশ মানুষের ভোট পেয়ে তিনি শাসকদলের প্রতিনিধিকে অনেকটাই পিছনে ফেলে খুব সহজেই জয় এনেছেন বঙ্গ বিজেপির জন্য| এরমধ্যে মালদহ উত্তরের জয়ী বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে|শোনা যাচ্ছে জলপাইগুড়ির বিধায়ক জয়ন্ত রায়ের কথাও| জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের আসনগুলি বাদ দিয়েও দিল্লিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে আরও কিছু নামের কথাও| পাহাড়ে এতবার ছুটে যাওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যে মোটেও আশ্বস্ত হননি পাহাড়বাসী তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তকে বিপুল জনসমর্থন দিয়ে|তাই তাঁকেও দেখা যেতে পারে মন্ত্রীসভায়| পরপর দুবার নিজের লোকসভা আসনে জিতে সাংসদ হওয়ার পুরষ্কার পেতে পারেন আর একবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে| এবার হতে পারেন পূর্ণ মন্ত্রীও| তিনি আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ো| সূত্রের খবর,রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষমতা বাড়াতে যিনি সাহায্য করেছেন সেই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ মনোনীত হয়েছেন| তবে এখনই কেন্দ্রে মন্ত্রী হিসেবে তাঁকে দেখতে নারাজ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব| তাঁদের মতে, বাংলায় ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিলীপবাবুর সাংগঠনিক এনেক গুরু দায়িত্ব রয়েছে| তিনি দিল্লিতে চলে গেলে তার ক্ষতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে| যদিও “অঙ্ক নয়, রসায়ন জিতেছে “, এই আপ্তবাক্য যার, সর্বপরি তাঁর হাতেই রয়েছে এই রহস্যের চাবিকাঠি| কী রসায়নে মোদি তাঁর নতুন মন্ত্রীসভা গড়ে তোলেন তা জানতে আর কিছু সময়| তাই এখন শুধুই অপেক্ষা|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here