গ্রাম দখলের লড়াইয়ে দুপক্ষের বোমাবাজিতে সরগরম পারুই

0

Last Updated on

লোকসভা ভোটের পর রাজ্যের নানা জায়গা তেকে রাজনৈতিক যে অশান্তির খবর প্রতিদিন আসছে ,তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বীরভূম| প্রতিদিনই জেলার নানা জায়গায় তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাপন | বৃহস্পতিবার রাত অাটটা নাগাদ বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বনসংখ্যা পঞ্চায়েতের ডোমাইপুর গ্রাম | অভিযোগ,গ্রাম কার দখলে থাকবে তা নিয়ে বোমাবাজি পাল্টা বোমাবাজি চালায় তৃণমূল ও বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা |

বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ,বিনা প্ররোচনায় গ্রামে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্যই বৃহস্পতিবার রাত আটটা নাগাদ গ্রামের একাধিক জায়গায় বোমাবাজি করে শাসকদলের দুষ্কৃতীরা | । বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি গ্রামের অভ্যন্তরে কমপক্ষে ৪-৫টি বোমা ছোঁড়ে বলে জানান ওই মুদি ব্যবসায়ী | দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান তিনি | সকালে দোকান খুলে দেখেন তার দোকানের সব জিনিসই তছনছ করে গিয়েছে ওই দুষ্কৃতীরা | যদিও কারা এর সহ্গে যুক্ত তা তিনি বলতে সাহস করেননি ক্যামেরার সামনে | তবে এলাকা যে বিজেপির প্রভাব বেসি তা অকপটে বলেন তিনি | সেই জন্য কি বোমাবাজি,তা বুঝতে পারছেন না মুদি ব্যবসায়ী উদয় ঘোষ | দোকানের পাশাপাশি চাষীপাড়াতেও বোমাবাজি চলে | রাত আটটার পর গভীর রাতে আরও একবার চড়াও হয় দুষ্কৃতকারীরা |
অন্যদিকে পাল্টা তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পম্পা চৌধুরীর বাড়িতে একদল লোক বোমাবাজি করে বলে অভিযোগ করেন সংবাদমাদ্যমের সামনে | প্রতিবন্ধী স্বামী থেকে নাবালক ছেলেকে মারধরের অভিযোগও করেন পম্পাদেবী | তবে উদয়বাবুর মত ভয় পাননি তিনি । সরাসরি বলেন বোমাবাজি করেছে বিজেপি সমর্থকরা । ভাঙচুর করা হয়েছে তার দুটি বাড়ি থেকে সাইকেলও | আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোটরবাইকেও । যদিও সংবাদ মাধ্যমের সামনে সেই ভাঙচুরের কোন নমুনাই তুলে ধরতে পারেননি তিনি | নর্দমায় এক টুকরো ইট ছাড়া তেমন কিছুই চোখে পড়েনি কারোর | এতে পম্পা দেবীর বক্তব্য, পুলিশ এসে নাকি ভাঙচুর হওয়া সব জিনিসই থানায় নিয়ে গিয়েছেন | দেখা মেলেনি ঝামেলায় প্রায় হার্টফেল হয়ে যাওয়া তাঁর প্রতিবন্ধী স্বামীরও | রাতে আর এক দফা বোমাবাজি হয় সতাঁর বাড়ির সামনেই | অবিকল উদয়বাবুর মতই বলেন পম্পাদেবীও |

উভয় দলের পক্ষ থেকেই তাই থানায় এই ঘটনার অভিযোগ করা হয়েছে পৃথকভাবে | অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে পারুই থানার পুলিশ। নতুন করে যাতে অশান্তি সৃষ্টি না হয় সেজন্য এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ।

ঘটনা যাই হোক, পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক দলের উর্ধ্বে উঠে এলাকায় শান্তি পবজায় রাখা তাঁর আশু কর্তব্য বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষেরা | বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর দোষ না চিপায়ে প্রশাসনকে ততপর হতে বলার দায়িত্বও যে তাদেরকেই নিতে হবে ,বলছেন সাধারণ মানুষ |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here