ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জেলা নেতৃত্বকে নিশানা পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল নেতার

0

Last Updated on

নজরুল মঞ্চ থেকে সপ্তাহের প্রথমেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণের উদ্দেশ্য বার্তা দিয়েছিলেন তিনি সরাসরি সমস্যা শুনবেন মানুষের | চেষ্টাও করবেন তা সমাধানের | তবে কতটা পারবেন তা কি আর বলা যায় | নজরুল মঞ্চের সভা দেখে যে কেউ ২০বছরের পুরোনো দলটির ভোলবদলের ঠাওর করতে পারবেন | স্ট্র্যাটেজি মেকার পিকের সুসজ্জিত বেশভূষার ছেলেদের অবাধ বিচরণ সহ একেবারে ঝকঝকে লুকের এই সভা কতটা সাফল্যমন্ডিত হয়েছে তা সময় বলবে | কিন্তু যে ক্ষোভের বারুদের উপর বসে রয়েছেন তার দলের অভ্যন্তেরর নেতা-নেত্রীরা ,তাদের সামলাতে পি কে কি পরামর্শ দেবেন এখনি ?

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য এবং ওই জেলারই প্রাক্তন ছাত্রপরিষদ সভাপতি নুরুল হাসান | তিনি তাঁর ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইল অ্যাকাউন্টটিতে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বদের সম্বন্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন । তিনি যা লিখেছেন তা এক্কেবারে অ্যাটম বোমার সমান বলেই মনে করছে দুই বর্ধমান জেলার ঘাসফুল শিবির । তাঁর পোস্টে ওই জেলার দন্ডমুন্ডের কর্তাদের একাংশ সোজাসুজি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন । তিনি লিখছেন “ জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারা দিদির একটা কথাও শুনবে না এরা দিদি কে ভুল বুঝিয়ে দলটা কে শেষ করবে, দিদি যতই বলুক পুরোনোদের গুরুত্ব দাও,এরা দিতে দেবে না কারণ ওদের গুরুত্বটা তবে শেষ হয়ে যাবে | আর ইনকামটা বন্ধ হয়ে যাবে,দল চুলোয় যাক এটাই এদের মনোভাব ।
#এরপরব্লকসভাপতিদলটাকেনিয়েকিভাবেব্যবসাআরএকেরপরএকদুর্নীতিকরেযাচ্ছেপ্রমাণসহলিখবো.
ক্রমশ” ।

পোস্টের মূল অংশের পর যে কথাটি তিনি হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে লিখেছেন তা ওই অংশের থেকেও অনেক বেশি অস্বস্তিকর দলীয় নেতৃত্বের কাছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা | নিজে জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ায় দলের আভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক অনেক খবর তিনি জানেন | সেক্ষেত্রে তা সর্বসমক্ষে চলে এলে বিরোধীদের হাতে একটা জোরালো অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে বলে মনে করছেন তাঁরা |

আর এই পোষ্টের পরেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পড়েছে পুর্ব বর্ধমান জেলায় । এর আগেও তিনি একটি পোষ্ট করেছিলেন জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে । দ্বিতীয়বারের জন্য একই পন্থা নেওয়ায় অবশ্য একটুও অনুতপ্ত নন নুরুল হাসান | তাঁর মন্তব্য, তিনি কোন কিছু অসত্য লেখেননি | আর তা নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই | বললেন,”দলের নাম ভাঙিয়ে যারা খাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে লিখেছি | দলের বিরুদ্ধে আমি কিছু লিখিনি | দলের ভালো চাই বলেই লিখেছি |”

স্বাভাবিকভাবেই এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক| এভাবে দলের নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য দল কোন পদক্ষেপ করেনা তা অবশ্য সময় বলবে | তবে লোকসভা ভোটের বিরোধীদের মাথাচাড়া দেওয়ার পর যে শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তৃমমূল নেত্রী যেতে চাইছেন নিজের মাটিকে ফের শক্ত করার জন্য ,এই নুরুল হাসানদের জন্য তা কতটা বাস্তবায়িত হতে পারবে তার উত্তরও সময়ই দেবে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here