পশ্চিম দুর্গাপুরের কংগ্রেস বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়ালের আর্জি ” দিদিকে বলো “

0

Last Updated on

লোকে বলছে পিকের কথাতেই নাকি জনসংযোগে জোর দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো | জেলার নেতা-নেত্রীদের সে কথা জানিয়েও দিয়েছেন | তাই সপ্তাহের প্রথম থেকেই জেলায় জেলায় নেতারা সাধারণের দরজা দরজায় পৌঁছে বলছেন দিদিকে বলুন | মানে যে কোন রকম সমস্যা হলেই দিদিকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বা সরাসরি দেয় ফোন নম্বরে যোগাযোগ করুন | হাওড়ায় মন্ত্রী অরূপ রায় বুধবার যেমন সেই প্রচারে মন দিয়েছিলেন, তেমন এদিনই দুর্গাপুরের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বিশ্বনাথ পারিয়াল একটি সাংবাদিক বৈঠক আয়োজন করে দলনেত্রীর এই বার্তা পৌঁছে দিতে চান দুর্গাপুরের সব মানুষের কাছে | কিন্তু তাতে আর খবর করার কি আছে ? সেটাই তো স্বাভাবিক|

বিশ্বনাথ বাবু দলীয় প্রচার তৃণমূল নেত্রীর হয়ে করলেও তিনি এখনও বাস্তবে কংগ্রেসের বিধায়ক | পশ্চিম দুর্গাপুরের | কিভাবে? অবলীলায় বললেন, “পশ্চিম দুরগাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করে কংগ্রেস এবং সিপিএম এর জোটপ্রার্থী হিসেবে আমি বিধায়ক ঠিকই , তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই | তবে কংগ্রেসের যে ৪৪জন বিধায়ক সেবার জিতেছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘটা করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন |” তিনি তা করেননি ঠিকই | কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন তাঁকে তাও জেলার শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি করল তা তাঁদেরকেই জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন বিশ্বনাথ বাবু |

কংগ্রেসের বিধায়ক দুর্গাপুরের পৌরনিগমের একটি ঘরে বসে দলীয় বার্তা মানষের কাছে পৌঁছোচ্ছেন তা মেয়র জানেন কি | কাজে দুর্গাপুরের বাইরে থাকা মেয়রকে ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, তিনি এই সম্পর্কে নাকি কিছুই জানেন না | তাছাড়া তাঁর অনুমতি ছাড়া অন্য দলের বিধায়ক হিসেবে তিনি যদি এই সাংবাদিক বৈঠক করে থাকেন তা নীতিগত ভাবে ঠিক হয়নি বলেও তাঁর মত |

লোকসভা ভোটের ফলাফলের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা নেত্রী পদ্ম শিবিরে যাওয়া নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে,সেই সময় বারবার প্রশ্ন করা হচ্ছিল বিধায়ক থেকে অন্য দলে নাম লেখালে বিধানসভায় স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশের মুখে পড়তে হবে না তো তাঁদের ? সে নিয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন শাসক দলের একাধিক নেতা | কিন্তু বিশ্বনাথ পারিয়ালকে কেন সেই নিয়মের আওতায় বাইরে রাখলেন ? যদি ধরে নেওয়া হয় যে উনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেননি,তবে বাইরের এক লোকের হাতে নিজেদের শ্রমিক সংগঠন চালানোর দায়িত্ব কীভাবে সঁপে দিলেন নেত্রী ? প্রশ্নের উত্তর জানা নেই বিশ্বনাথ বাবুর নিজেরই |

অন্দেরর খবর বলছে তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতার আশীর্বাদেই একদা দল থেকে দূরে চলে যাওযা এই নেতা আবার দলের কাছে ফিরে আসে | কিন্তু বিধায়ক পদের লোভ সামলাতে পারছেননা | আর দ্বিতীয়বার যদি ফের নির্বাচিত না হন,সেই ভয়ও রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা | তাই এমনভাবেই কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস দুই ঘরই সামলাচ্ছেন বিশ্বনাথবাবু |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here