‘ভীমরুল’ কামড়ালে দিলীপ কি করবেন ?

0

Last Updated on

শাসক শিবির ভেঙে পদ্ম শিবিরে যাওয়া অব্যাহত | দিল্লিত বসে সাংবাদিক বৈঠকে প্রথম সারির রাজ্য বিজেপি নেতা বলেছেন শনিবার অর্থাত ১লা জুন আরও কিছু বিধায়ক যোগ দেবেন গেরুয়া শিবিরে | কিন্তু ইতিমধ্যেই তৃণমূল থেকে আসা লাভপুরের বিধায়ক মণিরুল ইসলামকে নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব | ইতিমধ্যেই বিতর্কিত এই নেতাকে নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে রাজ্য বিজেপির কয়েকজন নেতা | দলের অন্দরের খবর, মণিরুল ইসলামকে দলে যে নেওয়া হচ্ছে, সেকথা জানানো হয়নি কোথাও | নিয়মানুযায়ী, কাউকে দলে নিতে গেলে প্রদেশ কমিটিতে এই যোগদান নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয় | এ ক্ষেত্রে কোনও আলচোনাও হয়নি বলেই জানাচ্ছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা | বরং দু- তিনজন নেতা তাঁদের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এই বিতর্কিত কাজটি সুকৌশলে ও অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সেরে ফেলেছেন বলে ক্ষুব্ধ দলেরই কট্টরপন্থীদের একাংশ | তাঁদের মতে প্রদেশ কমিটিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এভাবে এক বিতর্কিত নেতাকে নেওয়ার পিছনে কি অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে ?

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিতর্কের ঝড় উঠেছে ইতিমধ্যেই | অনেকেরই প্রশ্ন, হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া তৃণমূলের বিধায়ককে এভাবে দলে জায়গা দিলে বিজেপি কি পারবে দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ? শাসক শিবিরকে ভাঙতে গিয়ে তৃণমূলে কংগ্রেসের মতই বেনোজল দলে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন না তো ? কারণ ২০১৪ ও ২০১৫ সালে গোটা জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে মনিরুল তাঁর হিংসাকে সমর্থন করে যে বার্তা দিয়েছিলেন এবং নিজে হাতে খুন করার প্রকাশ্য স্বীকার করেছিলেন,দেশ জুড়ে তাতে কুখ্যাত হয়েছিলেন সেইসময় | এখন গেরুয়া উর্দি পড়লেও তাঁর ভাবমূর্তিকে কি পাল্টাতে পারবেন? লাভপুরের সাধারণ মানুষ কি তাঁকে আর বিশ্বাস করতে পারবেন? বীরভূমের লাভপুরের বিজেপি-কর্মী সমর্থকেরা ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মনিরুলকে দলে নেওয়ার বিরুদ্ধে | তাঁদের মতে, মনিরুল ও তাঁর ছেড়ে আসা দল তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষ লোকসভা ভোটে ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে| সেই মনিরুল ইসলাম এখন জার্সি বদল করে বিজেপিতে | তাঁদের মতে, এর জেরে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উল্টো ফল পেতে হবে বিজেপিকে | দলের অন্দর ও বাইরে ওঠা বিতর্ককে মাথায় রেখে রাজ্যের কার্যকর্তারা চাইছেন, পরবর্তীকালে যাতে কোন ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিবর্গের সিদ্ধান্তে মনিরুল ইসলামের মত বিতর্কিত কোন নেতাকে অন্য দল থেকে বিজেপিতে আনা না হয় | কারণ ব্যাক্তিগত স্বার্থচরিতার্থের জন্য দলকে বিপন্ন করার অধিকার কারোরই নেই এই দলে| বিজেপিতে গণতন্ত্রই অগ্রাধিকার পায় | তাই রাজ্য কমিটিতে এই সব অতি স্পর্শকাতর বিষয়ের উত্থাপন, আলোচনা ও পাশের মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হোক, আর তাঁর দিকেই খেয়াল রাখুক রাজ্য বিজেপির সব নেতারা | চাইছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাও |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here