রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণ কাড়ল রক্তাক্ত সন্দেশখালি , আতঙ্কে ঘরছাড়া মানুষ , দর্শক প্রশাসন

0

Last Updated on

কেউ কেউ বলছেন একেবারে নন্দীগ্রামের কায়দায় বিরোধীদের জব্দ করছে তৃণমূল সরকার | কেউ বলছেন ভোটপ্রচারে গিয়ে দলনেত্রী বলেছিলেন , “সব দিকে নজর রাখছি, ভোট মিটলে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব|” এই কি তবে সেই বুঝে নেওয়া ? গন্তব্য সন্দেশখালি | বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ব্লক-২ এর বিডিওকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যেই যে জায়গা সংবাদ শিরোনামে | সেই রেশ কাটতে কাটতেই শনিবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠল সন্দেশখালি-১ নং ব্লকের ন্যাজাট থানার হাটগাছি | যার সূত্রপাত বিজেপির পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে | বিজেপির অভিযোগ,তাদের দলীয় পতাকা লাগাতে গেলে কর্মী ও কার্যকর্তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা | এলাকায় ডাকসাইটে তৃণমূল নেতা বলে পরিচিত শেখ শাহজাহানের নেতৃত্বে চলে এই আক্রমণ | তিন বিজেপি কর্মীর চোখে সরাসরি গুলি করে তাঁদের খুন করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা | তাতে বিজেপির তিন কর্মী সুকান্ত মন্ডল, তপন মন্ডল , প্রদীপ মন্ডলের মৃত্যু হয় ওখানেই| এঁদের মধ্যে একজন মন্ডল সভাপতি ও অন্য দুজন শক্তি প্রমুখ বলে বিজেপি সূত্রের খবর | রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে রাতের অন্ধকারকে উপেক্ষা করেই নদীপথে ঘর ছাড়তে থাকেন সাধারণ গ্রামবাসীরা | বিজেপির স্থানীয় সূত্রের খবর এই তিনজন ছাড়াও বিজেপির অপর কর্মী সঞ্জয় মন্ডল,দেবদাস মন্ডল ও প্রদীপ মন্ডলদের শনিবার ওই হামলার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না| | যদিও এই পুরো ঘটনার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব | তাঁদের মতে , তৃণমূল ব্লক স্তরের একটি মিটিংয়ের ওপর আকস্মিক হামলা চালায় বিজেপির দুষ্কৃতীরা | সেখানে তাঁদের এক কর্মী কায়ুম মোল্লাকে খুন করে বিজেপি কর্মীরা | দুপক্ষের বাক কাজিয়া যখন চরমে তখন সেখানে উপস্থিত পুলিশ ছিলেন দর্শকের ভূমিকায় | উপরন্তু বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা জানান, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সুবিধে করিয়ে দিতে সঙ্গে এসেছিলেন পুলিশ ও সিভিক পুলিশেরা| তাদের সামনেই এই বর্বরোচিত কাজ হয়েছে বলে বলছেন গ্রামবাসীরাও |

গোটা ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের উচ্চ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে | এত গুলো প্রাণহানির পরও চুপ করে কেন আছেন পুলিশ মন্ত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ? বিডিও নিগ্রহ থেকে বিরোধী নিধন এসব ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর চুপ থাকায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তবে কি প্রশাসনিক দায়িত্বের ওপরে নিজের দলকে দেখছেন তিনি? দলীয় শাসন কায়েম করতে ঘটনার পরও পৌঁছতে দেওয়া হচ্ছে না মূল স্রোত সংবাদ মাধ্যমকেও ?

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব | যার জেরে রাজ্যের কাছে পুরো ঘটনার রিপোর্ট চাইতে পারেন মন্ত্রী অমিত শাহ | তাঁর আগে রবিবারই রাজ্য বিজেপির আট জনের প্রতিনিধি দল সন্দেশখালিতে পৌঁছবেন বলে জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here