কারখানার মারণ গ্যাসে অসুস্থ এলাকার মানুষ, উদাসীন প্রশাসন

0

Last Updated on

কারখানা থেকে বের হচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস | প্রতি রাতেই অসুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসীরা | ভ্রূক্ষেপ নেই প্রশাসনের | মগড়া থানার অন্তর্গত কুন্তিঘাট স্টেশন সংলগ্ন কেশরাম রেয়ন কারখানায় বিষাক্ত গ্যস বের হওয়াকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাঁধলো ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের |

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইদানীং প্রায় প্রতি রাতেই এই কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছাড়া হয় । এর জেরে কারখানা সংলগ্ন গ্রাম গুলিতে গ্যাসের প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু সহ একাধিক গ্রামবাসী । প্রতিদিনের মতই বৃহস্পতিবারও ওই কারখানা থেকে নির্গত গ্যাসের প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক গ্রামবাসী |

চিকিৎসা ও কারখানায় থাকা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়ার আশায় কারখানাতে নিয়ে যাওয়া হয় | যদিও সেখানে গ্রামবাসীদের কোন কথা গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা | এর মাঝেই বেশ কিছু সময় পেরিয়ে যায় |এর কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ ঐ ব্যক্তির মৃত্যু হয় । তাতে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে ওঠে ওই এলাকায় |

মৃত্যুর ঘটনার পর দিন একইভাবে ওই সুতো কারখানা থেকে গ্যাস বেরোতে থাকে শুক্রবার | রাত সাড়ে দশটা নাগাদ কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হওয়ার ফলে শ্বাসকষ্টের জেরে অসুস্থ হয়ে পরে শিশুসহ বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা । ‌এবার এর প্রতিবাদে স্বরূপ বলাগড় থানার অন্তর্গত শেরপুর সংলগ্ন রাস্তা অবরোধ করে গ্রামবাসীরা | অবরোধের জেরে জাতীয় সডজ়কের উপর সার দিেয ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে বহুক্ষণ | সেই অবরোধে কোলে বাচ্চা নিয়ে সামিল হন ঘরের মহিলারাও | তাদের বক্তব্য, নিত্যদিন এই কারখানার গ্যাসের কারণে বাচ্চারা কাশছে,বমি করছএ ,কোন খাবার খাচ্ছে না | ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়এ কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই গ্যাসের চাবি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় বলে জানান উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা | পাকাপাকি সমাধানের আশ্বাসে যদিও ঘন্টাখানেক অবরোধ চলার পর গ্রামবাসীরা সেই অবরোধ উঠিয়ে দেন |

গ্রামবাসীদের দাবি বিষাক্ত গ্যাস বের হওয়ার জন্য মৃত্যুর মুখে চলে যাচ্ছে এখানকার মানুষ, এরই পাশাপাশি চরম ক্ষতি হচ্ছে গাছগুলিরও, গাছের পাতা অকালেই ঝরে পড়ছে | শুকিয়ে যাচ্ছে গাছগুলিও |

মানবসম্পদ ও পরিবেশের ভীষণ ক্ষয়ক্ষতির জন্য শনিবার ওই সুতো কারখানার গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা । গ্রামবাসীদের দাবি একটাই, অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং অসুস্থ গ্রামবাসীদের নুন্যতম চিকিৎসা পরিষেবা কারখানা কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here