বিশ্ব উষ্ণায়ন ও আমরা

0

Last Updated on

সম্বরণ চট্টোপাধ্যায়

-পৃথিবীটা নাকি ক্রমশ গরম হচ্ছে?

-হ্যাঁ, তা তো হচ্ছেই।

-কি করে হয়? পৃথিবীটা ক্রমশ কি সুর্যের ঘাড়ে গিয়ে উঠছে নাকি?

-না না, সূর্য থেকে দূরত্ব একই আছে। মানে ওই গড় দূরত্ব পনেরো কোটি কিলোমিটার এর মত।

-তাহলে? গরম হয়েই চলেছে মানেটা কি? খামোখা গরম হতে যাবে কেন?

-খামোখা নয়, কারন আছে। তার আগে বলুন তো, সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ কোনটা?

-বুধ গ্রহ।

-আচ্ছা। তাহলে বুধ গ্রহই হবে সবচেয়ে গরম, মানে উষ্ণতম গ্রহ। তাই তো?

-হ্যাঁ, মানে তাই হবে।

-না। উষ্ণতম গ্রহ হল শুক্র। বুধ নয়।

-কেন?

-ওইটাই তো ব্যাপার। কোন গ্রহের উষ্ণতা অর্থাৎ পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা (surface temperature) কত হবে, সেটা শুধুমাত্র গ্রহটি থেকে সূর্যের দূরত্বের ওপর নির্ভর করে না। আরো অনেক বিষয় আছে যাদের ওপর নির্ভর করে।
শুক্রগ্রহের বায়ুমন্ডলে আছে প্রচুর পরিমানে কার্বন ডাই অক্সাইড আর সালফিউরিক অ্যাসিডের বাষ্প। এই গ্যাসীয় উপাদানগুলো শুক্রপৃষ্ঠের তাপকে মহাশুন্যে বিকির্ণ হয়ে যেতে বাধা দেয়। ফলে পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা এত বেশী থাকে যে এটিই উষ্ণতম গ্রহ হয়ে গেছে।

-বুঝেছি, তারমানে পৃথিবীও এভাবেই গরম হচ্ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যাচ্ছে বলে।

-ঠিক তাই। একে বলে গ্রীনহাউস এফেক্ট, আর এই ধরনের গ্যাসগুলোকে বলে গ্রীনহাউস গ্যাস।

-কেন? এরকম নাম কেন?

-শীতপ্রধান দেশে অতিরিক্ত ঠান্ডার জন্য চাষবাসের অসুবিধা হয়। এই অসুবিধা দূর করার জন্য কাচের বড় বড় অর্ধগোলাকার ঘর তৈরি করা হয়। এই ঘরগুলোকে বলে গ্রীনহাউস। কারন ওগুলোর মধ্যে সবুজ ফসল ফলানো হয়। কাচের আবরণের ভেতর দিয়ে আলো ও তাপ ভেতরে ঢোকে ও গাছ গুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু ভেতরের মাটি থেকে বিকিরণ করা তাপের তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ( frequency of radiated heat wave) অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় তা কাচ ভেদ করে বেরতে পারে না। ফলে কাচের ওই ঘরগুলোর ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের থেকে বেশী থাকে।
কার্বন ডাই অক্সাইড এর মত কিছু গ্যাস আছে যেগুলো ঠিক এই গ্রীন হাউসের কাচের আস্তরণের মত কাজ করে। সূর্যের তাপ এই গ্যাসের মধ্যে দিয়ে এসে ভূপৃষ্ঠ কে গরম তো করে, কিন্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে নির্গত তাপকে মহাকাশে ফিরে যাবার আগেই আটকে দেয়। ফলে ভূপৃষ্ঠ পুরোপুরি ঠান্ডা হতে পারে না। এইজন্যই এই গ্যাসগুলোকে গ্রীনহাউস গ্যাস বলে।

-বোঝা গেল। কিন্তু বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড তো আছে মাত্র ০.০৪%, কতই বা আর বাড়বে?

-হ্যাঁ, এই গ্যাসটির উষ্ণায়ন ক্ষমতা সর্বাধিক।
এখন বাতাসে গ্যাসটির পরিমান হয়েছে ০.০৪১৫% বা ৪১৫ পিপিএম। কিন্তু সমগ্র মানব সভ্যতার ইতিহাসে এটাই বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের সর্বোচ্চ পরিমান।
কাজেই ব্যাপারটা মোটেই হালকা নয়।

-কিন্তু গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর পরিমান বাড়ছে কেন?

-এককথায় বলতে গেলে, মানুষের ক্রিয়াকলাপের জন্য। মানুষ ক্রমাগত বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি (fossil fuel) যেমন কয়লা, পেট্রল, ডিজেল, LPG, কেরোসিন ইত্যাদি জ্বালিয়ে চলেছে আর এই প্রত্যেকটা জ্বলার ফলে উৎপন্ন হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড যা বাতাসে মিশছে। যে জ্বালানি টা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নীচে চাপা পড়ে ছিল, সেটাকে মানুষ মাত্র একশো বছরে পুড়িয়ে প্রায় শেষ করে ফেলেছে। আর সেইসঙ্গে বাতাসে যোগ করেছে বিপুল পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড।

-তা, পৃথিবী কতটা গরম হয়েছে? মানে ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা কতটা বেড়েছে?

-গত একশো বছরে এই তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় এক ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।

-মোটে ! ফুস্ ! এইটুকু তাপমাত্রা বাড়ার জন্য এত হইচই?

-হ্যাঁ, এইটুকু তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলেই সুমেরু আর কুমেরুর সমস্ত বরফ গলে যেতে পারে। আর তার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ উঠে আসবে প্রায় কুড়ি ইঞ্চি।

-মোটে কুড়ি ইঞ্চি! হা হা হা, তাতে কী হবে? ওতো বোঝাই যাবেনা!

-উঁহু, ব্যাপারটা মোটেই অত সহজ নয়। মহাদেশগুলো সমুদ্রের সঙ্গে বিভিন্ন নদী দ্বারা যুক্ত আছে। সমুদ্রতীরের অনেক বড় বড় শহরই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সামান্য বেশী উচ্চতায় আছে। সেই শহরগুলোর রাস্তা ও জমিতে জল উঠে আসবে জোয়ারের সময়। বসবাসের যোগ্য থাকবে না শহর গুলো।
শুধু তাই নয়, মেরু অঞ্চলের বরফগলা জল সমুদ্রে মিশলে সমুদ্রের জলের লবনের ঘনত্ব কমে যাবে। ফলে মারা পড়বে বিপুল সংখ্যক সামুদ্রিক প্রানী।

-সমুদ্রের প্রাণী মরলে মরবে, তাতে আমাদের কী? আমরা তো আর সমুদ্রে থাকি না!

-সমুদ্রের ইকোসিস্টেম বিঘ্নিত হলে আর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে, বদলে যাবে পুরো পৃথিবীর জলবায়ুটাই। আর এই গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ ডেকে আনবে মহাপ্রলয়। ভয়ঙ্কর সাইক্লোন, বিধ্বংসী ভুমিকম্প, মহা সুনামী, বন্যা, মহামারী, মড়ক!

-বাপরে! তাহলে উপায়?

-এখনই সচেতন হওয়া আর কাজ শুরু করা।

-কী কাজ? গাছ লাগানো?

-অনেক দেরি হয়ে গেছে বন্ধু। শুধু গাছ লাগিয়ে আর এই প্রলয়কে আটকানো যাবে না। পৃথিবীর সমস্ত শক্তিশালী দেশের শাসকদের বুঝতে হবে যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং একটা জ্বলন্ত বাস্তব, আর বিকল্প জ্বালানীর সন্ধান ও ব্যবহারই এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।

-বিকল্প জ্বালানী, মানে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি?

-শুধু বিদ্যুৎ চালিত বললে কিছুই বোঝায় না।
বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে কিভাবে সেটাই আসল।
প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তিনভাবে
১. তাপবিদ্যুৎ (thermal power)
২. জলবিদ্যুৎ (hydel power or hydro electric)
৩. পরমাণু বিদ্যুৎ (nuclear power).
এদের মধ্যে তাপবিদ্যুৎ তৈরি হয় প্রধানত কয়লা পুড়িয়ে। ফলে সরাসরি কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে মেশে।
পরমাণু বিদ্যুৎ সেদিক থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন না করলেও তাপ উৎপাদন কারী নিউক্লিয়ার রিয়াকশন (exothermic nuclear reaction) হয় বলে পরিবেশ উত্তপ্ত করে।
একমাত্র জলবিদ্যুৎ ই বিকল্প জ্বালানি হিসাবে ধরা যেতে পারে।
বর্তমানে বায়ুপ্রবাহ কে কাজে লাগিয়ে wind mill এর সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে যে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে সেটাও অবশ্যই বিকল্প শক্তি।

-কিন্তু তাহলে এইগুলো ব্যবহার করলেই তো হয়। শুধু শুধু কয়লা আর পেট্রোলিয়াম পোড়াচ্ছে কেন মানুষ?

-এককথায় বললে অর্থনৈতিক কারনে। ওই বিকল্প জ্বালানি গুলো সস্তা নয়। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ তাপবিদ্যুৎ এর চেয়ে বেশী।
তাছাড়া প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বা জলপ্রপাত ছাড়া বানিজ্যিক ভাবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই এর ব্যবহার সীমিত।
wind mill দিয়ে তৈরি বিদ্যুৎ একেবারে দূষণ মুক্ত (green energy). কিন্তু প্রবল ও নিরবিচ্ছিন্ন বায়ুপ্রবাহ ছাড়া এই বিদ্যুৎ তৈরি করা যায় না। তাই এটাও আংশিক সমাধান মাত্র। তাছাড়া এর অত্যধিক ব্যবহারে পৃথিবীর নিয়ত বায়ুপ্রবাহ গুলো ক্রমাগত বাধা পেলে পৃথিবীর আবর্তন বেগ ধীরে ধীরে কমে যাবে। তার ফল হতে পারে বিধ্বংসী (catastrophic).

-তাহলে উপায় কী?

-একাধিক উপায়ের কথা ভাবতে হবে। সৌর বিদ্যুৎ (solar power) হল একটা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় (promising) বিকল্প জ্বালানী। সোলার সেল গুলি সূর্যের আলো ও তাপ কে শুষে নিয়ে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সৌরকোষ (solar cell) গুলো ক্রমশ আরো উন্নত আর সস্তা হচ্ছে। প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে এর বহুল ব্যবহার হচ্ছে। তবে এখনও অনেক পথ চলা বাকি।

-তবে আর কি? সমাধান তো প্রায় হয়েই গেছে।

-না। বিদ্যুৎ যে ভাবেই তৈরি হোক না কেন, বিদ্যুতের ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা কমন প্রবলেম আছে।

-সেটা কি?

-সেটা হল, বিদ্যুৎ কে জমিয়ে রাখা যায় না। তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচ করে ফেলতে হয়। অল্পসল্প অবশ্য জমিয়ে রাখা যায়, তবে সেটা রাসায়নিক শক্তি (chemical energy) হিসাবে।

-মানে ব্যাটারি?

-একদম ঠিক। এখন এই তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি নানা রকম হয়। তবে গাড়ি চালানোর উপযুক্ত যে ব্যাটারি তাকে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বলে। তড়িৎ শক্তিকে ব্যাটারি তে রাসায়নিক শক্তি হিসাবে সঞ্চয় করে রাখা হয়।
কিন্তু এর একটা প্রধান অসুবিধা হল ওজন।
তেলের গাড়ি যেমন একবার ট্যাংক ভর্তি তেল নিয়ে নিলে শয়ে শয়ে কিলোমিটার ছুটতে পারে, ব্যাটারি চালিত গাড়ি (electric car) তা পারবে না। বিরাট বড় আর বিশাল ভারি হতে হবে সেই ব্যাটারি। আর ব্যাটারি হাল্কা আর ছোট হলে বারেবারে দাঁড়াতে হবে ব্যাটারি রিচার্জ করার জন্য।

-তাহলে উপায়?

-আবিষ্কার করতে হবে কোন তরল বা গ্যাসীয় জ্বালানি, যেটা হবে সহজলভ্য, পরিবেশবান্ধব, গ্রীনহাউস গ্যাস উৎপাদন কারী নয় এমন এবং সর্বোপরি সস্তা।

-এমন কিছু কি পাওয়া গেছে বা পাবার চেষ্টা হয়েছে?

-হ্যাঁ, অবশ্যই। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ (biological waste) থেকে তৈরি হচ্ছে বায়োগ্যাস। তাছাড়া উদ্ভিদ থেকে পাওয়া বায়োডিজেল ও অ্যালকোহল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে।

-তবে আর কি? সমাধান তো হয়েই গেছে।

-না। এই জ্বালানি গুলোর তৈরির কাঁচামাল গুলো বানিজ্যিক উৎপাদন এর জন্য যথেষ্ট পরিমানে পাওয়া বা সংগ্রহ করা কষ্টসাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে এগুলোর লার্জ স্কেল প্রোডাকশন ইকোনমিক নয়। হ্যাঁ, সেই অর্থই অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারচেয়ে পেট্রোলিয়াম মাটির তলা থেকে তুলে আনার কাজটা অনেক সস্তায় করা যায়।

-যা ব্বাবা! এতো মহা গেরো!

-হ্যাঁ, সে তো বটেই। তবে এমন একটা বিকল্প নিয়ে বর্তমানে গবেষনা চলছে যেটা অত্যন্ত সহজলভ্য, পৃথিবীতে প্রচুর পরিমানে আছে, একদম দূষন বর্জিত, কোন গ্রীনহাউস গ্যাস উৎপন্ন করবে না উলটে মূল জ্বালানিটাকেই পরিবেশে ফিরিয়ে দেবে।

– এ তো আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো শোনাচ্ছে। কী সেই অত্যাশ্চর্য বিকল্প শুনি!

-শুনলে চমকে যেতে পারেন। বিকল্প জ্বালানিটার নাম জল। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, আমাদের অতি পরিচিত জল।

-জল!!?? মানে, যে জল আমরা রোজ খাই, চান করি, যে জল দিয়ে আগুন নেভাই, সেই জলই কিনা হবে বিকল্প জ্বালানী? এ আবার হয় নাকি? গুল মারছেন না তো?

-না। একদম সিরিয়াসলি বলছি। জল রাসায়নিক ভাবে দুটি মৌলিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন। এদুটি উপাদানের মধ্যে হাইড্রোজেন ই হল মূল জ্বালানি আর অক্সিজেন হল জ্বলতে সাহায্যকারী গ্যাস। কিন্তু জল নামক যৌগ রাসায়নিক টি অত্যন্ত সুস্থিত (stable compound)। তাই জলকে ভেঙে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন পাওয়াটা সহজ নয়। হাই ভোল্টেজের বিদ্যুৎ প্রবাহ তীব্র ভাবে চালালে অবশ্য জল ভেঙে যায়। এই প্রক্রিয়াকে hydrolysis বলে। কিন্তু তাতে তো কোন লাভ নেই, কারন শক্তি খরচ করেই যদি শক্তি পেতে হয় তাহলে আর লাভ কি হবে? তাই গবেষণা চলছে কিভাবে সহজ পদ্ধতিতে আর সস্তায় জলকে ভাঙা যায়।

-কী হতে পারে সেই পদ্ধতি? কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া?

-রসায়নে অনুঘটক (catalyst) নামে একধরনের রাসায়নিক হয় যারা বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না কিন্তু বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
মানে ওই ‘লেগে যা নারদ নারদ’ টাইপের আর কি। নিজে ঝগড়া করবে না কিন্তু অন্যদের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দেবে।

-বাঃ। বেশ মজার ব্যাপার তো!

-হ্যাঁ, খুব মজার আর খুব দরকারী এই রাসায়নিক গুলো। গবেষণা টা চলছে মূলত এইরকম একটা উপযুক্ত অনুঘটকের সন্ধানে।
যে অনুঘটক টা জলকে সহজে ও নিয়ন্ত্রিত ভাবে ভেঙে তৈরি করবে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আর ওই হাইড্রোজেন আবার ওই অক্সিজেনের সাহায্যে জ্বলে গিয়ে উৎপন্ন করবে শক্তি আর পুনরায় ফিরে পাওয়া যাবে জল।

-বাঃ। ব্যাপারটা তো খুব একটা কঠিন বা জটিল নয়। তা কবে থেকে গবেষণা চলছে? কতদূরই বা সফল হয়েছে?

-এইখানেই তো ব্যাপারটা গোলমেলে হয়ে যায় বন্ধু! গবেষণা তো বেশ কয়েক দশক ধরেই চলছে, কিন্তু সফলতা আসছে কই?
শোনা যাচ্ছে ২০৩০ নাগাদ এই বিকল্প জ্বালানি আমাদের সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযুক্ত আকারে বাজারে চলে আসবে। কিন্তু ২০২০ তো হতেই চলল। আমাদের হাতে বেশী সময়ও নেই। বিশ্ব উষ্ণায়ন এর কুফল ইতিমধ্যেই আমরা অনুভব করতে পারছি।
অন্যান্য কত বিষয়ে মানুষ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। যেমন- মহাকাশ গবেষণা, কোয়ান্টাম ফিজিক্স, ইলেকট্রনিকস এন্ড টেলিকমিউনিকেশন, ন্যানোটেকনোলজি, জেনেটিক্স ইত্যাদি নানা বিষয়ে মানুষ গত কয়েক দশকে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সত্যিই অকল্পনীয়।
তাহলে শুধুমাত্র বিকল্প জ্বালানী অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেই এই বিলম্ব কেন? তাহলে কি কোথাও সদিচ্ছার অভাব রয়েছে? কোথাও কি ব্যক্তিস্বার্থ বা গোষ্ঠীস্বার্থ বাধা দিচ্ছে এই গবেষণায়? এ প্রশ্ন তো উঠে আসবেই।

-সর্বনাশ! তা যদি হয় তবে তো খুব ভয়ের ব্যাপার! তবে তো প্রলয় অনিবার্য!

-হ্যাঁ, সেই কথাই ভাবছি। যে দেশগুলো তেল উৎপাদন করে, বিকল্প জ্বালানি এসে গেলে তাদের অর্থনীতি একটা বড়সড় ধাক্কা খাবে। তারা কী সেটা হতে দেবে? তারা সরাসরি বাধা দিতে না পারলেও বানচাল করে দেবার ষড়যন্ত্র তো করতেই পারে। আর বিকল্প জ্বালানি এসে গেলে Global Economy Pattern টাই আমূল বদলে যাবে। সেটা কি কখনো চাইবে অমিত শক্তিধর দেশগুলো?

-তাহলে? আমরা কী করতে পারি?

-আমরা সচেতন হতে পারি, আর মানুষকে সচেতন করতে পারি। যথাসম্ভব শক্তি ব্যয় হ্রাস করা, মানে অনর্থক গাড়ি ব্যবহার না করা, বিনা কারনে বিদ্যুৎ খরচ না করা, গাছ না কাটা, সৌরশক্তি ব্যবহার করা ইত্যাদি ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে বিপর্যয় কে যথাসম্ভব দূরে ঠেলে রাখা আর অন্যদেরকে এগুলো বোঝানো, এছাড়া আর বিশেষ কিছু করার নেই।

-আচ্ছা, ওরা কেন এইটা বুঝছে না যে প্রলয় আসলে ওরাও বাঁচবে না। তখন টাকা নিয়ে কি করবে? টাকা খাবে?

-ঠিক বলেছেন বন্ধু। সবাই না হলেও ওদের কেউ কেউ ভাবছে। অন্তত ইয়াং জেনারেশন, যাদের আরো অনেকদিন বাঁচার আশা আছে, তারা ভাবছে, তারা এগিয়ে আসছে নানাভাবে। এটাই আশার, এটাই শেষ ভরসা।
আর ভাবছি আমরা, যারা নিজেদের নয় নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথাটা ভাবি।
প্রথম বিশ্বের অমিত ক্ষমতাধর মহান শাসকদের কাছে আমাদের সনির্বদ্ধ অনুরোধ, সমগ্র পৃথিবীর কথা না হয় নাই ভাবলেন, অন্তত নিজের সন্তানের মুখের দিকে তাকান, ওদের কথাটা একবার ভাবুন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচতে দিন। ওদের অন্তত একটা সুযোগ দিন। আমরা পারিনি, কিন্তু আমার বিশ্বাস ওরা পারবে, ওরা ঠিক পারবে একটা নতুন সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে, ওরা ঠিক পারবে দেখবেন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here