পেশী শক্তির ব্যবহার করে আন্দোলন ওঠাতে চাইছে প্রশাসন , অভিযোগ আন্দোলনরত চিকিৎসকদের

0

Last Updated on

এনআরএস কান্ডের জেরে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাঁকুড়া সম্মেলনী ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর | এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তারদের দাবীকে নৈতিক সমর্থন জানিয়ে যে ১২ঘন্টার আউটডোর বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় জেলার সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিতসকেরা,তাতে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যার সম্মুখীন হয় মুমুর্ষ রোগীরা | তাতেই ক্ষোভ উগরে দেন রোগীর পরিজনেরা | কোথাও রাস্তা অবরোধ করে কোথাও বা জুনিয়র ডাক্তারদের উপর চড়াও হয়ে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে | বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রোগীর আত্মীয় পরিজনদের হামলায় রক্তাত্ত হয়ে ওঠে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তার | দুই তরফের পাথরবৃষ্টিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর| আহত জুনিয়র ডাক্তারদের ওখানেই ভর্তি করা হয় চিকিৎসার জন্য|

বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরি এই সামগ্রিক পরিস্থিতির নিন্দা করেন| গোটা ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দুষে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, দিনের পর দিন এই পরিস্থিতি কোনমতেই চলতে দেওয়া যায় না| একদিকে শত শত মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি,যারা এই পরিষেবা দেবেন তাঁদেরকে দেখা ,তাঁদের নিরাপত্তার কথা শোনাও প্রশাসনিক কর্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের| সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আবেদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন তিনি|

ঘটনার পর প্রায় ৪৮ ঘন্টা অতিক্রান্ত | সমাধান মূত্র সেই অধরাই | শুধু অধরাই নয় পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে বলছেন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারেরা | পেশী শক্তি ব্যবহার করে আন্দোলনকে কার্যত স্তব্ধ করতে চাইছে সরকার| এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছেন চিকিৎসকেরা | তাঁদের অভিযোগ ,বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে মেয়েদের হোস্টেলের কাঁচ বহিরাগতরা ইঁট মেরে ভেঙে ফেলেছে| গুন্ডাবাহিনী গোটা এলাকা টহল দিচ্ছে| তাদের সঙ্গে রয়েঠে গুলি বোমা| আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জোর করে এই আন্দোলনকে ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে এই গুন্ডারা | বহিরাগত দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এই হাসপাতাল| তাই পরিত্রাণ নেই কোথাও | ক্রমশ বাড়ছে আহত চিকিৎসকের সংখ্যা | পুলিশি সহায়তা নেই আগে থেকেই| অসহায় চিকিৎসকেরা জানেনা কীভাবে ফিরবেন এখান থেকে | সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো এই অভিযোগুলো নিয়ে সরব চিকিৎসক মহল | চুপ প্রশাসন | বিরোধী হিসেবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলিরও কি কোন দায়িত্ব থাকেনা এদের পাশে দাঁড়ানোর ? অভিযোগগুলো যদি সত্যি বলে মেনে নেওয়া হয়,তবে তাঁদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ কি শুধুই সরকারের? নাকি সমাজের প্রত্যেকটি নাগরিকের? তা ভেবে দেখার সময় বোধ হয় এসে গিয়েছে|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here