দুর্গাপুরে শাসকের উস্কানিতে পুলিশ জনতা খন্ডযুদ্ধের অভিযোগ , প্রশ্ন বৈদ্যুতিন মাধ্যমের ভুমিকা নিয়েও

0

Last Updated on

ঝামেলার সূত্রপাত অনেক দিন আগে থেকেই | এলাকার শাসকদলের সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন গ্রামের মানুষ | কিন্তু লাভ হয়নি কিছুই | সংখ্যায় কম হওয়ায় কেউই ক্রণপাত করেননি তাঁদের কথা বলে অভিযোগ দুর্গাপুরের ফরিদপুর থানার পাঠ শ্যাওড়া গ্রামের বাসিন্দাদের | এরপর শিবির বদল করে বিজেপিতে যোগ দেন তাঁরা | তারপরই এলাকার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়ে দেন সিন্ডিকেটরাজ বন্ধের জন্য |

দিন দুয়েক আগে তৃণমূলের সিন্ডিকেট অফিসে বিজেপির কর্মীরা তালা ঝুলিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা যায় এই এলাকায় । সেই সময় বোমাবাজিও চলে বলে অভিযোগ । সেই ঘটনায় জড়িত বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতারের জন্য ওইদিন ফরিদপুর থানা ঘেরাও করে তৃণমূল । এই থানার অফিসার-ইন-চার্জ অনির্বান বসু বিজেপির হয়ে কাজ করছে অভিযোগ তুলে ফরিদপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান | বিজেপির অভিযোগ, তারপরেই সোমবার রাতে ফরিদপুর থানার পাঠশাওড়া গ্রামে রাতে অভিযান চালাতে আসে পুলিশ । সূত্রের খবর, তখনই তাঁদের উপর এলোপাথাড়ি ইঁট বৃষ্টি করে গ্রামবাসীরা | চড়াও হন বাঁশ, লাঠি নিয়ে | তাতে গুরুতর জখম হন পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর সহ তিন কর্মী | তল্লাশি অভিযানকে ঘিরে ব্যপক বোমাবাজিও চলে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর| আহত হন অনির্বান বাসু(ওসি ফরিদপুর) ও বুদ্ধদেব গায়েন নামে এক কন্সটেবল | তাঁদের রাতেই দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । সি আই অমিতাভ সেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ।

মঙ্গলবার সকালে ফের পুলিশের বিশাল বাহিনী পাঠ শ্যাওড়া গ্রামে ঢোকে | সকাল থেকেই ওই গ্রামে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি(পুর্ব) অভিষেক মোদীর নেতৃত্বে। বহু পুলিশ কর্মী,সিভিক ভলেন্টিয়ার ছাড়াও র‍্যাফ নামানো হয় এই গ্রামে । রাতেই অজয় বাউরী ও চিরঞ্জিত বাউরী নামে দুই বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পরে গোটা গ্রামের পুরুষেরা গ্রাম ছেড়েছেন| গ্রামে রয়েছে উত্তেজনা,রয়েছে পুলিশ পিকেটও ।
যদিও বিজেপি সমর্থক গ্রামবাসীরা পুলিশকে মারার কথা অস্বীকার করেছে ।

শাসকদলের আস্ফালন ও ইন্ধন না থাকলে এত বড় ঘটনা ঘটত না বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য | এই বিষয়ে যদিও মুখ খোলেননি পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র প্রসাদ তিওয়ারি |

এলাকার সিন্ডিকেটরাজের বিরোধীতার জেরে যে ঘটনার সূত্রপাত সেই ঘটনাকে নিছকই বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল বলে চালাতে চাইছে রাজ্যের দুই জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম | তাতে যথেষ্ট অখুশী গ্রামবাসীরা | যেখানে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব প্রকৃত ঘটনাটির কথা ঠারেঠোরে স্বীকার করেই নিচ্ছেন যে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ইত্যাদির জন্য তারা পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন, তখন এই দুই সংবাদ মাধ্যম ঠিক কী কারণে বিজেপির কোন্দল বলে প্রকৃত খবরের উপর প্রলেপ দিতে চাইছেন , তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here