রাজ্যে চিকিৎসকদের গণইস্তফা , পথে আইএমএও , দেশ জোড়া ঘর্মঘটের ডাক ১৭ই জুন

0

Last Updated on

রাজ্য জুড়ে চিকিৎসকদের গণ-ইস্তফার হিড়িক | এনআরএস কান্ডে চারদিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় জুনিয়র ডাক্তারেরা | এবার আর শুধু তাঁরা নন | তাঁদের সঙ্গে এলেন তাঁদের স্যারেরাও | শুরু হয়েছিল সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ থেকে | তারপর একে একে এনআরএস,আরজিকর,সিউড়ি,ন্যাশনাল মেডিক্যাল, মু্র্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেডের প্রায় ১০০এর ও বেশি চিকিৎসক ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছেন তাঁদের উর্ধ্বতনের কাছে|

প্রতিবাদের ঝড় রাজ্য ছাড়িয়ে পৌঁছেছে মহারাষ্ট্র,ত্রিবান্দাম,দিল্লি | বৃহস্পতিবারই ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে প্রতিবাদ দিবস হিসেবে চিহ্ণিত করে ধরনায় বসে নিজেদের দাবির কথা ডেপুটেশনের মাধ্যমে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল | তাতেও ক্ষোভ প্রশমিত করতে না পারায় এবার ইন্ডিয়ান মেডক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ১৭ই জুন এনআরএসে চিকিৎসক নিগ্রহকে সামনে রেখে দেশব্যপী স্বাস্থ্য পরিষেবা ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হল | যদিও জরুরি বিভাগকে এর বাইরে রেখে ২৪ ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে আউটডোরও | ১৪ই জুন থেকে ১৬ই জুন দেশ ব্যাপী ধরনা,শান্তি মিছিল বা ঘটনার প্রতিবাদে প্রতীকী কালো ব্যাজ পড়ে চিকিৎসকেরা পরিষেবা দেবেন | একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয় আইএমএর তরফে |

রাজ্যের পাশাপাশি দেশব্যাপী চিকিৎসকেরা এই ঘটনায় জুনিয়রদের পাশে দাঁড়ানোয় কার্যত অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়লেন রাজ্যের মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | দলের অন্দরেই এ নিয়ে বিভেদ প্রকাশ্যে এসেছে | তাঁর দলেরই রাজ্যসভার সাংসদ আইএমএর সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এই অস্বস্তি আরও খানিকটা বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা | যদিও সরাসরি এ নিয়ে কোন রাজনৈতিক দল পথে নামেননি | তবে বাংলার বুদ্ধিজীবীদের একাংশ যার মধ্যে নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন,সমাজসেবিকা ও লেখিকা বোলান গঙ্গোপাধ্যায় এনআরএসে অবস্থানরত জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে গিয়ে তাঁদের নৈতিক সমর্থন করেন |

যত সময় এগোচ্ছে পরিস্থিতি ততই ঘোরালো হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে | অনেকেই প্রশ্ন করছেন, প্রশাসন ও জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে এই বিবাদে পরিষেবা না পাওয়া সহায় মানুষগুলির কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী কি একবারও পারছেন না জুনিয়র ডাক্তারদের কাছে টেনে নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ? চিকিৎসক নিগ্রহের মত ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্যাকে রাজনৈতিক মোড়কে না দেখে সামাজিক সমস্যা বলে মানতে পারছেন না কেন তিনি ? প্রতিনিধি না পাঠিয়ে এনআরএসে তিনি নিজে গেলে, প্রথম দিনই হয়তো মিটে যেত জুনিয়রদের অভাব-অভিযোগ , কেউ কেউ বলছেন সেকথাও | তবে এক যে জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে এই আন্দোলন তাতে হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদেরই নৈতিক জয় দেখছেন নাগরিক সমাজ| বিশেষত হাসপাতালের পদাধিকারীরা ইস্তফা পাঠিয়ে যে জোর বাড়িয়েছেন উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগানের , সেকথা বলাইবাহুল্য |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here