শুধুই প্রতিশ্রুতি,সরকারি স্বীকৃতি মিলল না আজও কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্পীদের

0

Last Updated on

বীরভূম: সস্তায় লভ্য প্লাস্টিকের সঙ্গে মাটির সংঘাত বহুদিন ধরেই| আর সেই অসম যুদ্ধে পূর্বপুরুষদের শেখানো পেশা আঁকড়েই বেঁচে রয়েছে রাজনগরের কুমোর পাড়া। ফি বছরই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে সরকারি উদ্যোগে হস্ত ও কারিগরী মেলার সংখ্যা| তেমনই এক মেলায় ডাকও পেয়েছিলেন কুমোরপাড়ার বাসিন্দারা| বছর তিনেক আগে শিল্পমেলায় কলকাতায় গিয়েছিলেন তাঁরা। আশ্বাস মিলেছিল মৃৎশিল্পী হিসেবে সরকারি পরিচয়পত্র পাবেন। কিন্তু না, বছর ঘুরতে থাকলেও কোন সরকারি আধিকারিকের দেখা পাননি। ফলে মেলেনি স্বীকৃতিও| অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে ব‍্যবসা বাড়ানোর ইচ্ছে থাকলেও মিলছে না কোনো ব‍্যাঙ্ক ঋণ। তাই প্লাস্টিকের সঙ্গে মাটি নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ করেই বেঁচে রয়েছেন জেলা বীরভূমের ঝাড়খণ্ড লাগোয়া প্রান্তিক অঞ্চল রাজনগর থানার আড়ালী গ্রামের কুমোর পাড়ার হাঁড়ি-কলসির কারিগররা। শীতের সময় মাটির তৈরি চায়ের ভাঁড়ের চাহিদা কিছুটা বাড়ে, কিন্তু গরম পড়লে তা কমে যায়। তাই বিয়ের মরসুমে রঙিন হাঁড়ি, বিভিন্ন লোকদেবতার পুজোর সময় মাটির ঘোড়া, সরা, কলসি, ধূপুসি আর লক্ষ্মীর ভাঁড় তৈরি করে ছা-পোষা সংসারে কোনোরকমে টিকে থাকেন শ্রীকান্ত পাল, কল‍্যাণী পালদের মতো মাটির কারিগররা। আগে দশ-বারো ঘর এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল, এখন কমে তা তিন-চার ঘরে দাঁড়িয়েছে। খাটুনির তুলনায় লাভ কম, তাই নতুন প্রজন্ম আর এ পেশায় আসতে চাইছে না,জানান মৃৎশিল্পী শ্রীকান্ত পা| বাইরে যে কোথাও কাজের সন্ধানে যাবেন তাও সম্ভব নয়|অভাবের সংসারে তাই নিত্যনতুন যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকছেন এই দম্পতির মত অন্য মৃৎশিল্পীদের পরিবার|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here