“রাজনীতিতে আসতে চাই”, বললেন সোনার মেয়ে স্বপ্না বর্মন

0

Last Updated on

জলপাইগুড়ি: সম্প্রতি দোহায় আন্তর্জাতিক হেপটাথলন চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জিতে দেশে ফিরেছেন| স্বপ্না বর্মন| ২২বছর বয়সী এই হেপ্টাথালিটের বাড়ি জলপাইগুড়ির ঘোষপাড়া গ্রামে| স্বপ্না বর্মনকে বাংলার মানুষ চিনতে শিখল এশিয়াডে ২০১৮ তে সোনা জয়ের পর| দেশের প্রথম মেয়ে যে এই ইভেন্টে ব্যাক্তিগত সোনা জয় করে পাকাপাকি নাম লিখে ফেলে ইতিহাসে| সেই সোনার মেয়ে স্বপ্না বাড়িতে এলেন| জলপাইগুড়ি পাতকাটা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় ঘোষ পাড়ার শুধু পরিবার নয়,পড়শিরাও এখন ব্যস্ত স্বপ্নাকে নিয়ে| ২০ মে কলকাতার সাইতে নতুন স্বপ্নের উড়ানে পাড়ি দেওয়ার আগে খানিক সময়ের জন্য উঁকি দিলেন তাঁর শৈশবে| পেশায় রিক্সাচালক বাবা ২০১৩ সাল থেকে অসুস্থ হয়ে কার্যত বিছানায়| চার সন্তান নিয়ে স্বপ্নার মায়ের চা-বাগানের রোজগারের উপর তখন দাঁড়িয়ে গোটা পরিবারটি| দুমুঠো ভাত তরকারি ডাল যোগাড় করাই যেখানে দায়, সেখান থেকে এশিয়াডে সোনা জয় যেন রূপকথার কাহিনী| শুধুই আর্থিক অনটন নয়, স্বপ্নার পায়ে ছটি করে আঙুল থাকায় সাধারণ জুতে পড়ে দিনের পর দিন প্র্যাক্টিসে ব্যাথায় কুঁকড়ে থাকত সে| কিন্তু সব কিছুকেই অগ্রাহ্য করে জারি ছিল তাঁর স্বপ্নের দৌড়|

সেইদিনগুলি ভোলেননি তিনি| ভোলা হয়তেো যায়না| তাই স্বপ্না জানায়, গরীব অ্যাথলিটদের সাহায্য করার জন্য রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চায় সে| প্রান্তিক ঘরের বহু ছেলেমেয়েরা শুধুই সাহায্যের অভাবে কিছু করতে পারেননা| কিন্তু প্রতিভা রয়েছে এদের মধ্যে| এদের দরকার একটা প্লাটফর্ম। আর তাঁর জন্যই ২৫ বছরের পরে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখাতে চান বছর ২২এর স্বপ্না| তবে কোন রাজনৈতিক শিবির পছন্দ তাঁর? সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে হেসে এড়িয়ে যান তিনি| প্র্যাকটিস ও আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়ানশিপের চাপে তাঁর পায়ে রয়েছে অনেক ক্ষত| সেগুলি নিয়ে অসুবিধে হয়না? স্বপ্না নিজের মনেই বলেন,ভারতীয় সেনা জওয়ানেরা তো কত কষ্ট প্রতি নিয়ত সহ্য করছেন দেশকে রক্ষা করতে,তিনি না হয় এইটুকু কষ্ট করলেন| সাক্ষাৎকার শেষে দু-চোখে প্রত্যয় আর স্বপ্ন নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন সোনার মেয়ে|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here