অন্যের মুখে হাসি ফুটিয়েই নিজের জন্মদিন পালন করেন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রী সুলগ্না

0

Last Updated on

সমাজসেবা করতে কোন বয়স অবধি পৌঁছনোর অপেক্ষা করতে হয়না | প্রয়োজন নেই কোন বড় ভাবনাও | ছোট ছোট ইচ্ছাগুলিকে একত্রিত করে বাস্তবের রূপ দেওয়া ,তাই এক সময় মহীরূহ হবে কখন টের পাবেনা কেউ | নিজের প্রতিদিনের টিফিনের খরচ থেকে বাঁচিয়ে প্রতি বছর নিজের জন্মদিনে কিছু না কিছু করে থাকেন এই খুদে পড়ুয়া । অতীতে টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে বীরভূম জেলা শাসকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বেশ কিছু অর্থ | উত্তরবঙ্গের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই ভাবেই | আবার কয়েকদিন পরে তার সঞ্চিত রাশি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কেরলের বন্যার্তদের পাশে । আর এই বছর জন্মদিনে স্কুলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা বেশ কিছু পড়ুয়াদের পেন, খাতা, ব্যাগ দিয়ে খানিকটা এগিয়ে যেতে সাহায্য করল বীরভূমের কড়িধ্যা যদুরায় স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুলগ্না সেন |

নিজের স্কুলের উঁচু ক্লাসের দিদির কাছ থেকে এমন উপহার পেয়ে খুশি রিয়া সূত্রধরের মত পড়ুয়ারাও । রিয়া জানায়, “স্কুলের দিদির কাছ থেকে এমন উপহার পেয়ে খুব ভালো লাগছে । আগামী দিনে আমরাও দিদিকে অনুসরণ করে দিদির মতো হওয়ার চেষ্টা করবো ।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ ভট্টাচার্য জানান, “ছোট থেকেই মহান মনোভাবের মেয়ে সুলগ্না । এর আগেও সে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুজনের পাশে দাঁড়িয়েছে। আর এবছর তাঁর জন্মদিনে স্কুলের কিছু আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা ঠিক করি। সেইমতো আমরা একটা লিস্ট তৈরি করে দি। তারপরে সেই জিনিসপত্রগুলি ঐসকল পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেয়। পড়ুয়ারাও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে । আর একজন শিক্ষক হিসাবে স্কুলে এমন এক ছাত্রীকে পেয়ে গর্বিত ও আনন্দিত আমরা ।”

সুলগ্না জানাই, “এবছর স্কুলের মধ্যে জন্মদিনটিকে এই ভাবে কাটিয়ে জন্মদিন আলাদা মাত্রা পেয়েছে। আর আমি ওদের খাতা, পেন এবং ব্যাগ দিয়েছি ভালো করে পড়াশোনা করার জন্য । ”

সুলগ্নার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এও জানাই, আগামী দিনেও এই ভাবেই সে সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করবে, আর তাতেই তার আনন্দ।
সুলগ্না যে খুব একটা উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য নয সে । নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে রোজগেরে বলতে তার বাবা | তাও খুবই সামান্য রোজগার তার | আর মা গৃহবধূ । সুলগ্নার এই মানসিকতায় আরেকবার প্রমাণ করে দেয় কাউকে সাহায্য করতে চাই শুধু ‌ইচ্ছা,সামর্থও যেখানে ফিকে পড়ে যায় |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here