সেন্টারে নেই খাবার,পাঁচদিন অভূক্ত থেকে ১৪দিনের আগেই বাড়ির দিকে হাঁটা মারলেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভিন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকেরা

0
Migrant workers started walking home without food or medical treatment

Last Updated on

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সংবামাধ্যমের সামনে মঙ্গলবার বলেছিলেন যে রাজ্যের ছেলেরা নিশ্চয়ই বাড়ি ফিরবেন। তবে কোভিডিস্থিতির দিকেও ত নজর রাখতে হবে। রাজ্য প্রশিসন তার এক মধ্যপন্থা বের করছেন। সেই মধ্যপন্থা বের করার আগেই যারা এসে পড়েছেন তারা কেমন আছে এই রাজ্যে তা নিয়ে বিস্তর শাসক বিরোধী চাপান উতর হয়েছে। যে সকল প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে তাদের পাঠানো হয়েছে সেখানে তাদের একরাশ ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে প্রশাসনিক কর্তাদের। এবার নানা অভিযোগ কর্ণপার না করায় সটান সেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে হাঁটা লাগানোর অভিযোগ উঠল একদল পরিযায়ীর বিরুদ্ধে। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ছেড়ে বাড়ির পথে পরিযায়ী শ্রমিকরা । তাদের অভিযোগ, যে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তাদের রাখা হয়েছিল তাতে খাবার ও চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ির পথে হাঁটা শুরু করে।

আরো পড়ুন :রেশনের সরকারি গম পৌরপিতার সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগে উত্তাল দুর্গাপুরের পলাশডিহা

মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা এই কান্ড ঘটান বুধবার। মঙ্গলবার প্রথমে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ব্লক অফিসে। সেখানে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা ওই সেন্টার ছেড়ে বাড়ির পথে হাঁটা দেন। জানা যায় ওই সেন্টারে পাঁচদিন থাকলেও তারা জানান সেখানে আসা পর্যন্ত স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে কোন রকম খাবার ব্যবস্থা তাদের জন্য করা হয়নি। বারবার প্রশাসনকে বলেও এ ব্যাপারে কোন সুরাহা হয়নি বলে জানাচ্ছেন ওই সেন্টারে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা ।

সেন্টারে থাকা এক শ্রমিক সুরোজ সাহা জানান, ” আমরা সেন্টারে পাঁচ দিন থেকে আছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের জন্য কোন খাবার দাবারের ব্যাবস্থা করা হয়নি। এখানে শৌচালয়ের অনেক অসুবিধা আছে। আমরা এ ব্যাপারে থানায় জানিয়েছিলাম। খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় আজ আমরা বাড়ি ফিরে চললাম।”
এদিকে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইন এ না থেকেই এলাকায় ফিরতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এলাকায় ফিরে ওই পরিচয় শ্রমিকরা যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এর বিভিন্ন এলাকা থেকে। এতে আরো সংক্রমণের ভয় বাড়বে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ।

এলাকার বাসিন্দা চন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর হাই স্কুলে যে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারটি খোলা হয়েছিল সেখানে আমরা শুনেছিলাম ৫০জন মত শ্রমিক রয়েছে। প্রশাসনের উচিত ছিল ওই সমস্ত শ্রমিকদের থাকা আর সঙ্গে সঙ্গে খাবারের দায়িত্ব নেওয়া। সমস্ত শ্রমিক খাবার না পেয়ে সেন্টার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এর ফলে এলাকায় সংক্রমনের আশঙ্কা কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে। এতদিন লকডাউন করে আর কোনো লাভ হবে না যদি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রন করতে না পারা যায়।
হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রিসবা খাতুনের স্বামী আফজাল হোসেনকে ফোন এ ধরা হলে তিনি জানান, “খাবার দাবারের ব্যবস্থা আমাদের পঞ্চায়েত থেকে দিতে হবে এমন কোন সরকারি নির্দেশ নেই।

আরো পড়ুন :মেয়াদ উত্তীর্ণ ইসলামপুর পৌরসভাতে বিদায়ী চেয়ারম্যানকে প্রশাসক পদে বসানোয় ধিক্কার বিজেপির

আমরা মাস্ক সাবান প্রভৃতি ওই সেন্টারে দিয়েছিলাম। পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবো যাতে পুনরায় শ্রমিকদের ওখানে আনা যায়।” এদিকে সেন্টার থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে যাওয়ার পরে গ্রামে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন।বাড়িতে এসে বাড়ির লোকদের সঙ্গে একই ঘরে থাকছেন। এমন চিত্র ধরা পড়েছে আমাদের ক্যামেরায়। প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ ও মালদহে ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকেরা রাজ্যে প্রবেশের পরেই ক্রমশ বাড়ছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা,কয়েকদিনের সরকারি পরিসংখ্যান অন্ততঃ তেমনই ইঙ্গিত করছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here