জিয়াগঞ্জে শিক্ষক খুনের কিনারা পুলিশের,আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণেই খুন,স্বীকার অভিযুক্তের

0

Last Updated on

সাম্প্রতিক কালের চাঞ্চল্যকর খুনের কিনারা ঘটল ঘটনার ছয় দিন পর | মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তৎপরতায় জিয়াগঞ্জে শিক্ষক-পরিবার হত্যার দায়ে সাগরদিঘী থানার অন্তর্গত সাহাপুর গ্রামের উৎপল বেহারাকে অভিযুক্ত করে | ঘটনা ঘটার পরই শুরু হয়েছিল জেরা করা | পুলিশের সন্দেহের তালিকায় উঠে এসছিল ওই মৃত শিক্ষকের ব্যবসার পার্টনার সৌভিক বণিক থেকে বাবাকেও | জেরা করা হয়েছিলওই বাড়তে নিয়মিত যাতায়াত আছে এমন লোকদেরও | যাদের মধ্যে ‌ছিল দুধওয়ালা,বাড়ির কাজের মহিলা । কিন্তু কারো থেকেই খুনে অভিযুক্ত করার মত কিছু সূত্র মিলছিল না তাদের | ফোনের সূত্র ধরেই এই জটিল কেসের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশি সূত্রে খবর |

ঘটনার তদন্তের গভীরে গিয়ে জানা গিয়েছে বন্ধু প্রকাশ পাল সাগরদিঘী থানার অন্তর্গত বারালা সাহাপুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হলেও পাশাপাশি এস বি আই লাইফ, পি এন বি মেট লাইফের মত একাধিক বিমা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন | কিছুদিন আগে শেয়ার মার্কেট এবং মিউচুয়াল ফান্ডেও উনি যুক্ত হয়েছিলেন বলে পুলিশের অনুমান | টাকা জমা নিলেও তার রসিদ সময়মত গ্রাহকেরা পেতেন না বলে পুলিশের কাছে জেরায় প্রকাশ করেন অনেকে | এই নিয়ে নানা জনের মধ্যে ক্ষোভও ছিল ।

অভিযুক্ত উৎপল বেহেরা এগরাতে রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও তার বাবা মাধব বেহেরা সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা । বন্ধু প্রকাশের কাছে তারাো একটি পলিসি করে বলে জানা যায় | তবে তার কাগজপত্র মেলেনি বলে স্কুলে গিয়ে বারংবার বন্ধু প্রকাশকে তাদের জমা টাকার রসিদ চাইতেন উৎপল । কিন্তু অভিযোগ বন্ধু প্রকাশ বারবারই তাকে কটূকথা বলে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন । সেই ক্ষোভেই খুন বলে পুলিশ একপ্রকার নিশ্চিত | উৎপলকে জেরা করে ঘটনার পুনর্নিমানের কাজ সারছেন তারা |
উৎপল জানায়,পুজোর মরসুমে মাধবের ছেলে উৎপল বেহেরা গত ৩রা অক্টোবর বাড়ি ফেরেন । জিয়াগঞ্জের সদরঘাটে নিজের বোনের বাড়ি যান ৫ অক্টোবর । ৭ অক্টোবর বন্ধু প্রকাশের বাড়ি কোন জায়গায় সেটাও দেখে যান | পুজো চলাকালীন দশমীর দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ উৎপল বন্ধুপ্রকাশকে অন্য পরিচয়ে ফোন করে এই এলাকা থেকেই | তখনও তাদের মধ্যে একপ্রস্ত রাগারাগি ও কথাকাটাকাটি হয় ওদের মধ্যে বলে জানিয়েছে উৎপল |রাগ সংবরণ করতে না পেরে উৎপল বন্ধুপ্রকাশের বাড়িতে উপস্থিত হয় | প্রথমে বাড়ির দরজা খুলতেই সামনে প্রকাশকে পায় এবং তাকে অস্ত্র দিয়ে প্রথমে আঘাত করে। তারপর ঘরের ভিতরে ঢুকে তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এবং তারপর তার ছোট্ট সন্তান আর্য পালকে নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জামা কাপড় পাল্টে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন এবং সদরঘাট পেরিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ১২ঃ৩০ নাগাদ দুধওয়ালা এসে প্রথমে দরজা ধাক্কায় তারপর ফোন করে কোন আওয়াজ না পেয়ে জানালা দিয়ে দেখেন তিনজনই রক্তাত্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে । স্থানীয়রা ছুটে আসার পর কাউকেই জীবীত অবস্থায় পাওয়া যায়নি বলে পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে |

মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বেশকিছু পলিশির কাগজপত্র, বিউটির লেখা চিঠি পাওয়া গিয়েছে । তার মধ্যে উৎপলেরও পলিসি বন্ডটিও রয়েছে । সামান্য গালিগালাজ থেকে শুরু করে যে এই ঘটনা নৃশংস হত্যায় পরিণত হবে ,তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারছেন না বন্ধু প্রকাশের পরিবার থেকে শুরু করে তামাম জিয়াগঞ্জের মানুষ |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here