ঝুঁকির কাঞ্চনজঙ্ঘা কেড়ে নিল বাঙালি পর্বতারোহী কুন্তল কারারের প্রাণ

0

Last Updated on

কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করে আর ঘরে ফেরা হল না হাওড়ার কুন্তল কারারের। অভিযানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এই বাঙালি পর্বতারোহীর। এই খবর পেতেই হাওড়ার ব্যাঁটরার কারারপুকুর লেনে কুন্তলের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া| সেই বাড়িতে থাকেন কুন্তলের বাবা, মা ও দাদা-বৌদিরা। বুধবার রাত থেকেই এজেন্সি মারফত পরিবারটি খবর পেয়েছিলেন কিন্তু ভালো নেই| পর্বত শিখরে ওঠার আগেই ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল কুন্তল| সেই অসুস্থতার খবরে হাওড়ায় বিনিদ্র রাত্রি যাপন করেছেন উদ্বিগ্ন পরিবারটি। চিন্তিত ছিলেন এলাকার ক্লাবের সদস্যরা| যাদের হাত ধরে প্রথম পাহাড়ে উঠেছিলেন কুন্তল| বৃহস্পতিবার সকালে কুন্তলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তে পরিবারের পাশাপাশি গোটা এলাকাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। কুন্তলের বাবা চন্ডীচরণ কারার অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী। একসময় পাহাড়ে ওঠার নেশা ছিল তাঁরও। তাঁর সঙ্গেই প্রথম পাহাড়ে চড়েন কুন্তল| এমনকি একটি সামিটে যাওয়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে কুন্তলের মনোমালিন্যের কথাও উঠে আসছিল স্মৃতিচারণায়| তবে আট হাজার ফুট উপরে অসুস্থ ছেলের বাড়ি ফিরে আসার সম্ভাবনা যে খুব ক্ষীণ তা বোধ হয় টের পাচ্ছিলেন তিনি| মনে করছিলেন পর্বতারোহণের নানা ঝুঁকির কথাও| হিমাচলপ্রদেশের আপার ধর্মশালায় মুন পিক জয় করেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ২১ মে বাঙালি হিসেবে হাওড়ার ছেলে কুন্তল যখন জয় করেন ৮,৮৪৮ মিটার উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্ট,গর্বিত বাবা বাহবা কুড়িয়েছিলেন রাজ্যবাসীর| এবারের সামিটে তাই চারজন সঙ্গী নিয়ে কুন্তল পাড়ি দিয়েছিলেন কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ জয় করতে| এই পাঁচ পর্বতারোহীর মধ্যে সোনারপুরের বিপ্লব বৈদ্যের অসুস্থ হওয়ার খবরও পাওয়া যায়|
বাংলা থেকে যাওয়া বহু পর্বরোহীর বিপদের মুখে পড়েছেন| সে অভিজ্ঞতার কথা পরে তারা বলেছেন| তেমনই সামিট করতে গিয়ে
২০১৪ সালের ২০মে একইভাবে কুন্তল কারারের মতই অভিযানে গিয়েই দুই শেরপা-সহ চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান হাওড়ার পর্বতারোহী ছন্দা গায়েন। তারপর রাজ্য সরকার নানা গাইডলাইন ও বেঁধে দেন সামিটে যাওয়া পর্বতারোহীদের জন্য| ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা যেসব এজেন্সিগুলি সামিটের দায়িত্বের থাকেন আদৌ কি তাদের সঙ্গে থাকছেন দক্ষ শেরপারা? রাজ্যের প্রশাসনও কি খবর রাখেন কারা কখন কোথায় সামিটে যাচ্ছেন? অভিজ্ঞ প্রবতারোহীরা জানান,হিমালয়ের আট হাজারি শৃঙ্গগুলির মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে গিয়ে বড়সড় কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তার দায় তবে কে নেবে,প্রশ্ন করছেন সাধারণ মানুষ|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here