ঝাড়ফুঁকের কথা স্বীকার করায় প্রথাগত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী রুহি

1

Last Updated on

বাবা-মা মাত্রই সর্বদা নিজেদের সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে শশব্যস্ত থাকেন | তা সে যদি স্বাভাবিক বাচ্চাদের থেকে কিছুটা আলাদা হয়, তাহলে তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয় । সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের কুকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক মিদ্দা এবং তার স্ত্রী রহিমাও এর ব্যতিক্রম নন । তাঁদের মেয়ে ১৭ বছরের রুহি পারভীন মানসিক ভারসাম্যহীন । তাঁদের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার হলেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছুমাত্র চেষ্টার ত্রুটি করেননি রুহির বাবা এবং মা । সিউড়ি সদর হাসপাতালে ডাক্তার জিষ্ণু ভট্টাচার্যের কাছে নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিল রুহি পারভীন ।

কিন্তু অপত্য স্নেহ বড় বিষম বস্তু তাই প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি মেয়েকে সুস্থ করতে রুহির মা ও বাবা ওঝা গুণিন এদের কাছেও নিয়ম করে মেয়েকে নিয়ে যেতেন । এই কঠিন পরিস্থিতিতেও যারা মনের জোর হারান নি । গত জুলাই মাসের ২৬ তারিখ ডাক্তার জিষ্ণু ভট্টাচার্যকে দেখাতে এসে এই অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা অর্থাৎ কিনা ঝাড়ফুঁক তুকতাক এই বিষয়টা নিয়ে খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন রুহির মা রহিমা । আর এতেই চূড়ান্তভাবে অপদস্থ করা হয় রুহি এবং তার মা রহিমাকে । শুধুমাত্র অপদস্থ করে থেমে থাকেননি সরকারি হাসপাতালের ঐ চিকিৎসক ! তিনি হাসপাতালের প্রেসক্রিপশনে যে ওষুধ লিখেছিলেন রুহির জন্য তা কেটে রুহির মায়ের বলা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার কথা লিখে ওই চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন ।

একজন চিকিৎসক কি করে যথাযথ চিকিৎসা না করে রুগী এবং তার বাড়ির লোককে অপদস্থ করে তাদের অবৈজ্ঞানিক অপচিকিৎসার পরামর্শ দেন এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । প্রতি মাসেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দিষ্ট দিন ধার্য করে দেওয়া হয় সেই মতো ৩০ শে আগস্ট ওই অভিযুক্ত ডাক্তার জিষ্ণু ভট্টাচার্যকে দেখানোর কথা ছিল রুহির । কিন্তু গত মাসের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার উপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন তাঁরা ।

গোটা বিষয়টি চাউর হতেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে । রুহির বাবা এই পুরো বিষয়টি জানিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বুঝে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের যথাযথ চিকিৎসার আয়োজন করতে তৎপর হন । কিন্তু রুহির বাবা হক এনামুল হক মিদ্দা কোনভাবেই মেয়েকে ওই অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে নারাজ । তিনি ওই অভিযুক্ত চিকিৎসকের যথাযোগ্য শাস্তির দাবি জানান একজন সরকারি চিকিৎসক কি করে একজন অসুস্থ মানুষকে অপচিকিৎসা করানোর জন্য লিখিত নির্দেশ দেন এটাই বড় প্রশ্ন | ঈশ্বরের রূপ তো দূরের কথা সরকারি চিকিৎসকের এই অমানবিক রূপ অবাক করেছে রূহির পারিপার্শ্বিককেও |

1 COMMENT

  1. একটু সহানুভূতিশীল হলে ক্ষতি কী?
    মানুষ বিশাল চাপে পড়েই যায়। বুঝিয়ে কাজ করাই ভাল। আমার আত্মীয় ক্যান্সার রুগী ছিলেন। তার স্ত্রী, মাকে নিয়ে দরগা আর “তন্ত্রদাধকের” কাছে গেছি। দ্বিতীয় জন একেবারেই বুজরুক। বুঝেছি। কিন্তু ওই অবস্থায় সেই টুকু লাইসেন্স দিলে ক্ষতি নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here