রাম মন্দির গড়ার সঞ্চয়ের ইঁট, নিয়ে পৌঁছানো হলো না অযোধ্যায়, তাই গ্রামেই গড়া হলো রাম মন্দির

0
establishment of Ram Mandir with bricks of Bangladesh

Last Updated on

ভারতে কোনদিন রামন্দির হলে তবে বাংলাদেশের পৈতৃক ভিটের ইট অন্তত একটা ইট সেই রামমন্দির নির্মাণে তৈরিতে ব্যবহার করবে | এমন আশা বুকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন অধুনা শান্তিপুর নিবাসী ক্ষিতীশ সরকারের | কিন্তু সেই স্বপ্ন সাকার করার আগেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন তিনি | তবে দশ বছর আগে তিনি যখন ইহলোক ত্যাগ করেন তখন তার নাতিকে বলেছিলেন এই ইচ্ছের কথা | সত্যি সত্যিই রামমন্দিরের ভিত্ত প্রস্তর স্থাপনের দিন নাতি ভেবে ছিলেন পৌঁছবেন | সেটা করোনা পরিস্থিতিতে না হওয়ায় স্বপ্ন পূরণ করলেন থার্মোকলের একটি রাম মন্দির নিজে হাতে তৈরি করে | থার্মোকলের এই রামমন্দির নদীয়া শান্তিপুর হরিপুর নীলকুঠি দক্ষিণ পাড়ায় পীযূষ সরকারের বাড়িতে | দাদু ক্ষিতীশ সরকারের সম্পূর্ণ ইচ্ছাপূরণ না করতে পারলেও, আত্মার শান্তি দিয়েছেন রাম মন্দির গড়ে ।

আরো পড়ুন :ভয়কে জয় করে করোনা রোগীর সেবায় করোনা থেকে সদ্য সুস্থ হওয়া সন্তোষ মন্ডল

পীযুষের দাদু ক্ষিতীশ বাবু যখন ৩০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আসেন, ফেলে এসেছিলেন স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির সবকিছু। শুধু পরিবারের মানুষগুলিকে সঙ্গে নিয়ে সমস্ত স্মৃতি ফেলে নতুন আশায় বুক বেঁধেছিলেন হরিপুর নীলকুঠি পাড়ায়। গোঁড়া হিন্দু ক্ষিতীশ বাবুর একটিই ইচ্ছে ছিল | ওদেশের বাড়ির ভিতের একটা ইঁট বয়ে নিয়ে এসেছিলেন ভারতে রাম মন্দির গড়ার কাজে লাগাবেন বলে। কিন্তু ইন্ডিয়াতে এসে বুঝলেন রাজনৈতিক বিভিন্ন বাধা কাটিয়ে হয়তো তাঁর বা তাঁর ছেলের জীবনে হয়তো হয়ে উঠবে না । তবে তিনি বিশ্বাস করতেন সত্যের জয় একদিন হবেই। তাই সেদিনের ক্লাস সিক্সে পড়া নাতি কে জানিয়ে গিয়েছিলেন মনের সুপ্ত বাসনার কথা। দাদু গত হয়েছে ১০ বছর আগে | নাতির উপযুক্ত বয়সও হয়েছে অযোধ্যায় যাওয়ার মত ।

আরো পড়ুন :আসানসোলে লকডাউনের তোয়াক্কা না করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

কিন্তু এবারও লকডাউন এ বন্ধ সমস্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা, নেই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বিশেষ পরিচয় । তাই দাদুর দেওয়া সেই একখণ্ড ইট মাটিতে পুঁতে রাজা, চৈতন্য, গৌরব, রাকেশ, সুরজিৎ, অমিত দের মত বন্ধুদের নিয়ে থার্মোকল, পিন পেরেক, রং, আঠা দিয়ে চারদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে বানিয়ে ফেললেন আস্ত একটি রাম মন্দির। এলাকার সমস্ত মহিলারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজো দিয়ে গেলেন এই অস্থায়ী মন্দিরে। তবে পীযুষের বন্ধুরা সকলেই এখন বেকার, সকার হলে শুধু দাদুর নয়! এলাকার সমস্ত বয়সজ্যেষ্ঠদের মনোবাঞ্ছা পূরণে গড়লেন “রাম মন্দির” |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here