দুর্গাপুরের হোটেলে অস্বাভাবিক মৃত্যু শিক্ষাবিদের, এক নারীর উপস্থিতিতে ক্রমেই ঘনীভূত রহস্য

0

Last Updated on

১৯শে আগষ্ট সকাল ৮টা নাগাদ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে একটি তিনতারা হোটেলে চেক ইন করেন আসানসোলের বাসিন্দা রাজর্ষি চ্যাটার্জী (৪৫) । সঙ্গে ছিলেন বছর তিরিশের এক মহিলা । হোটেলের ২০৮ নম্বর ঘরটি তারা বুক করেছিলেন অনলাইন বুকিং সংস্থার মাধ্যমে । দুজনের পরিচয়পত্র জমা রেখে হোটেল কতৃপক্ষ তাদের রুম দেন । বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ সঙ্গী মহিলা রুম সার্ভিসকে জানান যে রাজর্ষিবাবু অসুস্থ ,তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে । হোটেল কর্তৃপক্ষ নিকটস্থ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনিয়ে তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে পাঠালে ডাক্তাররা রাজর্ষিবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করে ।

হোটেল ম্যানেজার শান্তনু রঞ্জন পাল জানান যে হোটেল থেকে রাজর্ষিবাবুকে বের করার সময় তিনি জীবিতই ছিলেন । হোটেলের হাউসকিপিং কর্মী মুদাসসার নজর জানান যে ওই মহিলাই তাদের বলেন যে নিকটস্থ বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে ।

বেসরকারি হাসপাতালের এমডি ড: জয়দীপ ভাদুড়ি জানান যে রাজর্ষিবাবুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল হাসপাতালে । হাসপাতাল কতৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী পুলিশ ডেকে মৃতদেহ তাদের হাতে তুলে দেয় । বেলা এগারটা নাগাদ রাজর্ষিবাবুকে হাসপাতালে আনা হয় , বেলা তিনটে নাগাদ পুলিশের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয় । গতকাল বিকেলেই মহকুমা হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত হয় ।

হোটেলের পরিচয়পত্র থেকে জানা যায় রাজর্ষিবাবুর বাড়ি আসানসোলে ও সঙ্গিনী মহিলার বাড়ী ডিপিএল কলোনীতে । যদিও পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে যে ঠিকানার উল্লেখ রয়েছে হোটেলের খাতায়,সেই ঠিকানা অনুযায়ী ডিপিএল কলোনীর ওই আবাসনে বর্তমানে কেউই থাকে না । হোটেল সুত্রে জানা যায় মৃত রাজর্ষি চ্যাটার্জী দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন । ২০১১ সালে তাঁর এখান থেকে বদলি হয়ে যায় । তবে বর্তমানে তিনি কোথায় কর্মরত ছিলেন,তা জানা যায়নি ।

হোটেল সুত্রে এও জানা যায় যে সঙ্গিনী মহিলা দুর্গাপুরে একটি সংস্থায় ট্রেনিংয়ে এসেছে । তারা দুজনেই একটিই রুম বুক করেছিল দুদিনের জন্য । ওই মহিলার নামেই রুম বুক করা হয়েছিল । হোটেল কতৃপক্ষ জানায় যে ওই মহিলা এদিনও ট্রেনিংএর জন্য কর্মস্থলে গিয়েছেন । বিকেলের দিকে তার ফেরার কথা বলে জানায় হোটেল কতৃপক্ষ । দুদিনের জন্য রুম বুক থাকলেও এদিন বিকেলেই ওই মহিলা হোটেল থেকে চেক আউট করে যান । অন্যদিকে রাজর্ষিবাবুর পরিচয়পত্রতে আসানসোলের যে ঠিকানা দেওয়া রয়েছে , সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে ওই নামের ওখানে কেউ থাকে না ।

অন্যদিকে যেখানে রাজর্ষি বাবুর ময়নাতদন্ত হয়েছে , সেই মহকুমা হাসপাতালের সুপার ড: দেবব্রত দাস জানান যে হৃদযন্ত্র বিকল হয়েই মৃত্যু হয়েছে তার ।

গোটা ঘটনায় দানা বেঁধেছে রহস্য । উঠছে একাধিক প্রশ্ন । হোটেল থেকে হাসপাতাল ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে । হোটেল ম্যানেজার জানান যে অসুস্থ রাজর্ষিবাবু হেঁটেই অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন । অন্যদিকে হাউসকিপিং কর্মী জানান যে উনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন , কোন কথা বলছিলেন না , স্ট্রেচারে করে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় । হোটেলের পিছনেই হাসপাতাল , সেখানে পৌছনর আগেই তাঁর মৃত্যু হয় । এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে কে এই রহস্যময়ী সঙ্গিনী ? কি তার পরিচয় ? কেনই বা তড়িঘড়ি তিনি হোটেল ছাড়লেন ? কেন হোটেলে দুজনেই ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে উঠলেন ?

অন্যদিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের মধ্যেই বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি সন্দেহের উর্ধে নয় । তাহলে কি দেহ ব্যবসার কোন চক্র সক্রিয় এই হোটেলে ? হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে জনৈক এ.দে রাজর্ষি বাবুর মৃতদেহ গ্রহণ করেন । কে এই ব্যক্তি ? তারই সঙ্গে কি সম্পর্ক রাজর্ষিবাবুর ? গোটা ঘটনাক্রম যে এক গভীর রহস্যেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে , তা বলাই বাহুল্য ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here