চায়ের কেজি ১লক্ষ সত্তর হাজার সাতশো একাত্তর টাকা!

0

Last Updated on

একটুকরো পাহাড় নিয়ে রাজনৈতিক হানাহানি যখন তুঙ্গে,তখনও কেউ খবর রাখেননি ওঁদের|দু-টাকা কেজি চাল তাঁদের শিশুর মুখে উঠল কিনা,সে প্রশ্ন করেননি কোনও রাজনৈতিক দলগুলি|একে একে বন্ধ হয়েছে চা-বাগান,কোনোটা আবার ধুঁকছে|এক সময় বাংলার চায়ের বিশ্বজোড়া খ্যাতি যখন প্রায় তলানিতে,তখন এক তরুণ আশায় বুক বেঁধে পাশে দাঁড়ান অসহায় মানুষগুলির পাশে|জনৈক রাজা ব্যানার্জির ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে শুরু হয় অর্গানিক টি কাল্টিভেশন|কোমর বেঁধে নামেন ফুল মুন টি প্লাকিং-এ আদৰ্শ মুনা চা বাগানের শ্রমিকেরা|

দার্জিলিং-য়ের বড় বড় চা-বাগান গুলি যখন বিভিন্ন সমস্যায় জেরবার হয়ে ধুঁকছে,ঠিক তখনই কালিম্পং জেলার গরুবাথন ব্লকের তুমলাবুঙ্গ গ্রামের চা-শ্রমিকদের হাতে তৈরি হচ্ছে ফুল মুন টি|বর্তমানে এই চায়ের দর বিশ্বের দরবারে সর্বাধিক|এক কেজি ফুল মুন টি সর্বাধিক ১৭০৭৭১ টাকায় নিলাম করা হয়েছে|কিন্তু কেন এত মহার্ঘ্য এই চা?পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর সব উদ্ভিদে জলের অভাব থাকে|আর সেই সময় চাঁদ থেকে যে আলো বের হয়(লুনার রে),তা অতি শীঘ্রই এই অর্গানিক চা-পাতা শুষে নিতে সক্ষম হয়|আর তাতেই বিশেষ স্বাদযুক্ত হয় এই চা|এই বিশেষ মুহূর্তই এই চা-পাতাকে জগত জোড়া স্বীকৃতি দিয়েছে|পূর্ণিমার রাত শেষের আগেই মশাল জ্বালিয়ে চলে এই চা-পাতা তোলার কাজ|সঙ্গে পাহাড়ি সুরের তালে তালে দুলতে থাকেন শ্রমিক যুবতী-রমণীরা|এই ফুল মুন টি-র বিপুল চাহিদা বিদেশি পর্যটকদের কাছে|জার্মান,ফ্রান্স থেকে আগত বহু পর্যটকই এই বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী থেকেছেন|শোনা যায়,ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে তাঁর ইংল্যান্ড সফরের সময়,এই লুনার টি ইংল্যান্ডের রানীকে উপহার দেন|শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই নয়,এই চা-শ্রমিকদের অন্যতম স্লোগান ‘Our future with the rhythm of nature’|আর এর মাধ্যমেই পাহাড়ের চায়ের হৃত গৌরবে লেগে পড়েছেন তুমলাবুঙ্গ গ্রামের চা-শ্রমিকেরা|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here