বিজেপি কর্মীর নৃশংস খুনে উত্তপ্ত নদীয়ার ভীমপুর, অভিযোগের তীর শাসকের দিকে

0

Last Updated on

এক বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে| এই ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নদীয়ার ভীমপুর থানা এলাকা| নিহত কর্মীর মৃতদেহ নিয়ে রাস্তায় বসা বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইটপাটকেল, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাত অবধি উত্তেজনা ছিল ভীমপুর থানা এলাকায়| অভিযোগ উঠেছে ,ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে জখম হয়েছেন তিন পুলিশকর্মী| যদিও দলীয় কর্মীকে খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে বিজেপির নেতা কর্মী ও সমর্থকরা দীর্ঘক্ষণ ধরে ভীমপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান| এরপর সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগর শক্তিনগরের জেলা হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করে জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়েও বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় মানুষেরা| যদিও কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনের কাছে রাস্তায় ব্যারিকেড করে পুলিশ কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়| বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানাতে থাকেন| যদিও অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত রাস্তার ওপরেই বসে পড়ে তারা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন| বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বিজেপির কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কল্যাণ চৌবে ও নদিয়া উত্তর জেলার সাংগঠনিক সভাপতি মহাদেব সরকার| দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়|

বিজেপির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে নিহত বিজেপি কর্মীর খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি সহ কয়েকটি দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন| বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল , নিহত বিজেপি কর্মীর খুনের সঙ্গে জড়িত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে| পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ,নিহত ওই বিজেপি কর্মীর নাম হারাধন মৃধা| বছর পঞ্চাশের হারাধন বাবুর বাড়ি ভীমপুর থানার মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাঙ্গী নতুনপাড়া এলাকায়| অভিযোগ, পেশায় কৃষক হারাধন মৃধা বুধবার রাতে গরমের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির কাছেই একটি মাঠে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন| ওই বিজেপি কর্মীর ছেলে স্মরজিত বিশ্বাস অভিযোগ, সেই সময় পাশের বিশ্বাসপাড়া থেকে একদল লোক এসে হারাধনবাবুকে অতর্কিতে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারতে থাকে| ঘটনাস্থলে তাঁর ছেলে পৌঁছল ওই লোকেরা স্মরিজিতকেও কিল ,চড় ,ঘুষি মেরে তাড়িয়ে দেয়| এরপর স্থানীয় কিছু মানুষকে জুটিয়ে হারাধনবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়|
রাতেই কৃষ্ণগঞ্জ হাসপাতালে হারাধনবাবুর শারীরীক অবস্থার অবনতি হলে কৃষ্ণনগর শক্তিনগর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়| বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান|

বিজেপির নদিয়ার উত্তর জেলার সাংগঠনিক সভাপতি মহাদেব সরকার অভিযোগ করেছেন,’ বিজেপির শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তৃণমূল তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার ভয় পাচ্ছে শাসক দল| আর সেই কারণেই বারবার বিজেপি কর্মীদের আক্রমণ করা হচ্ছে| অবিলম্বে পুলিশ সুপার প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার না করলে ২৪ঘন্টার পর বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকিও দেন মহাদেববাবু|

প্রসঙ্গত পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন নিয়েও ব্যাপক বোমাবাজি হয় শাসক-বিরোধী দুই পক্ষের মধ্যে| লোকসভা ভোটে তেমন কোন গন্ডগোল বা অশান্তি না হলেও ভোটের পর থেকেই আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওই গ্রামগুলি| তাদের কর্মীর মৃত্যুর পরও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব| অন্যদিকে বিজেপি কর্মী হারাধন মৃধাকে খুনের ঘটনায় তৃণমূলের জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃনমূলের কৃষ্ণনগর ১ নং ব্লকের সভাপতি শৈলেন ঘোষ| তার বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই | তৃণমূলের কেউ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়| বিজেপির সব অভিযোগই ভিত্তিহীন|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here