সদিচ্ছা থাকলেই পারে প্রশাসন, বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর বলছে বীরভূমবাসী

0

Last Updated on

লোকসভা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচারে হিংসার দিক থেকে সব চেয়ে এগিয়ে বীরভূম | নানুর থেকে ইলামবাজার, খয়রাশোল দুবরাজপুর সাঁইথিয়া ময়ূরেশ্বর মল্লারপুর সর্বত্র বোমাবাজিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে | প্রকাশ্য রাস্তায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গিয়েছে দুষ্কৃতীদের | তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ উঠেছে তো পাল্টা বিজেপির সমর্থকদের দিকে নজর ঘুরিয়েছেন কেউ | যে কোন রাজনৈতিক সংঘর্ষেই গুলি বা বোম পড়েছে মুড়ি মুড়কির মত | তাতে সাধারণ ভাবেই এলাকাবাসীর মনে হয়েছিল কোথা থেকে যোগান আসছে এই সব বোমা-গুলির ? প্রশাসনের কাছে কি কোন খবরই থাকেনা এ বিষয়ে ? প্রতিবারই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে | মজুত বোমা আগ্নেয়াস্ত্র কেন উদ্ধার করতে পারছেনা পুলিশ তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে ।

শনিবার রাতে গোটা জেলা জুড়ে বিশেষ অভিযান করে বীরভূম জেলা পুলিশ | তাতেই নানা প্রান্ত থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণে মজুত অস্ত্র-শস্ত্র | কোথাও ঝোপের মধ্যে নীল রঙের ড্রাম ভর্তি বোমা | আবার কোথাও কোন পরিত্যক্ত ঘরে রাখা ড্রামে ভর্তি বোমা | সেগুলো উদ্ধার করে তাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ | পুলিশ সূত্রের খবর, কমপক্ষে ১১২ টি তাজা ও সকেট বোমা উদ্ধার করা হয়েছে । যার মধ্যে নানুর থেকে পাওয়া যায় ৩২টি, লাভপুর থেকে ৪০ টি , কাঁকরতলা ৯টি সদাইপুর থানা এলাকা থেকে ৯টি বোমা উদ্ধার হয় । ১২টি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ । যার মধ্যে ৬টি দেশি বন্দুক ,কার্তুজ রয়েছে | এর সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ৯ জনকে । প্রাথমিকভাবে এই অভিযানের পর এই তথ্য পাওয়া গিয়েছিল | রবিবারও এই বিশেষ অভিযান চলে | তাতে শেষ পর্যন্ত ৩৯৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে | এদের মধ্যে ৬৫জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এবং বাকীদের সতর্কতামূলকভাবে গ্রেফতীার করা হয় |

পুলিশের এই বিশেষ অভিযান থেকে খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে বীরভূমবাসীদের | তবে প্রশাসনের সদিচ্ছে থাকলে যে সম্ভব সবই, তা বোধহয় আরও একবার প্রমাণ করল এই বিশেষ অভিযান |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here