পুজোর আনন্দ ম্লান হুগলির মানুষের,ছাদ হারানোর আশঙ্কা বানভাসিদের

0

Last Updated on

রাইজিং বেঙ্গল ডেস্ক : উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বন্যার প্রবল আশঙ্কা একেবারে পুজোর দোরগোড়ায় | প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গেও | যদি বৃষ্টি লাগাতার হয় তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে | যদিও আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মত মঙ্গলবার টানা বৃষ্টিপাতের খবর মেলেনি কোথাও | তবে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলি চিন্তা বাড়িয়েছে গ্রামবাসীর পাশাপাশি প্রশাসনের |

বিগত কয়েকদিন নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিপাত চলেছে রাজ্যজুড়ে । কয়েক দিনের এই টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের আরামবাগ মহকুমার বেশ কয়েকটি এলাকা । লাগাতার বৃষ্টিতে মুন্ডেশ্বরী নদী, দামোদর ও রূপনারায়ণ নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় ফলে পুরশুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এবং এরফলে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে । জানা গেছে নদীর জল বেড়ে যাওয়ার ফলে পুড়শুড়া থানার অন্তর্গত শ্যামপুর, শ্রীরামপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে জল ঢুকে পড়ে ।

পুড়শুড়া,আখেরি,শ্রীরামপুরের বহু এলাকায় দামোদর নদের জল ঢুকতে শুরু করেছে । ইতিমধ্যে বাঁধ মেরামতির কাজে নেমে পড়েছে স্থানীয় মানুষ সহ প্রশাসনিক আধিকারিকেরা । এদিকে খানাকুলে সেচের খাল গুলিতে জল বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে পরেছে । স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে ভুগছেন খানাকুলের বহু মানুষ । খানাকুলের নতিবপুর এলাকায় বাঁশের নির্মিত সেতু জলের তোড়ে ভেসে গেছে । ফলে বহু এলাকায় যাতায়াত করতে সমস্যা দেখা দিয়েছে । এমনকি মুন্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণ নদীর পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের কপালেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ ।

আরও পড়ুন: জাতীয় সড়কে বাড়ছে বেপরোয়া যান ও অবৈধ পার্কিংয়ের বলি https://risingbengal.in/jatiyo-soroke-barche-oboidho-parking-er-boli/

নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারি কয়েকশো পরিবার ইতিমধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অসহায় মানুষগুলোর বর্তমান ঠিকানা খোলা আকাশের নীচে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ,পুড়শুড়া এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এইমর্মে কোনও আগাম সতর্কবার্তাও জারি করা হয়নি। এইকারণে তাদের আরো বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় বহু জিনিসপত্র জলে ভেসে গেছে এবং গৃহহীন হয়ে পরেছে বহু পরিবার । আতঙ্কে প্রহর গুনছেন এলাকার প্রতিটি মানুষ । এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা আরামবাগ মহকুমা জুড়ে । তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সমস্ত বিষয়টির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে । এই সূত্রে আরও জানা গেছে, লাগাতার বৃষ্টিতে জল বিপদসীমা অতিক্রম করার ফলে কয়েকদিন আগে ডিভিসি থেকে ৫৬ হাজার কিউসেক, পাঞ্চেত থেকে ২০ হাজার ও মাইথন থেকে ৪৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয় । বিভিন্ন জায়গায় এই মর্মে আগাম সতর্কবার্তা জারি করে প্রশাসন এবং সেইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেরিঘাট ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here