“উইঘুররা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়নি,” বলছে চীন

0

Last Updated on

আশুতোষ মন্ডল

চীন দেশের শিন্ জিয়াং প্রদেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ % উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলমান বসবাস করেন । এই প্রদেশটি আগে ছিল বৌদ্ধ প্রধান । আমাদের বাংলার অতীশ দীপংকর তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্মের উপর অধ্যাপনা করতেন । এখানে আছে ২৪,৪০০ মসজিদ ও ৪০০টি বৌদ্ধ মঠ ।

চীন দেশের সরকার বলছে, উইঘুররা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়নি । দশম শতকে তাদেরকে বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল । খৃষ্টীয় দশম শতকে যুদ্ধের সময় ঐ অ়ঞ্চলে আরব মুসলমানরা বলপূর্বক প্রবেশ করে । কাল ক্রমে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে । সেই থেকেই স্থানীয় বৌদ্ধরা হটে যেতে থাকে ও মুসলমান প্রভাব বাড়তে থাকে ।

উইঘুর নেতৃবৃন্দ দাবী করছেন,দশ লক্ষাধিক উইঘুর মুসলমানকে ধরে নিয়ে গিয়ে গোপন ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে । তাদেরকে বলপূর্বক মগজ ধোলাই করা হচ্ছে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে দাবী করছেন উইঘুর নেতৃবৃন্দ। শিশুদের তাদের মা বাবার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে অন্যত্র রাখা হচ্ছে বলেও দাবী করছেন তারা ।

মদ ও শুয়োরের মাংসের মতো হারাম খাবার জোরপূর্বক খেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ । নামাজ ও রোজার মতো ইসলামের অতি আবশ্যক ধার্মিক কার্যকলাপেও অংশ করতে বাধা দেওয়া হয় বলে বলা হচ্ছে । এটাও দাবী করা হচ্ছে যে — উইঘুরদের বলপূর্বক লিখিয়ে নেওয়া হচ্ছে যে, সে আর ইসলামে বিশ্বাস করেনা, এখন সে নাস্তিক্যবাদী কম্যুনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাস করে ।
চীনের সরকার বলতে চান যে, ডিটেনশন ক্যাম্পে উগ্রপন্থা, কট্টরপন্থা ও মৌলবাদী প্রবণতা দূর করে সমাজের মূল স্রোতে উইঘুর মুসলমানদের ফেরানোর লক্ষ্যে এবং তাদের নৈতিক সংস্কার ও সংশোধনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে । সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর জন্য়ই তাদের এই উদ্যোগ বলে মন্তব্য চিন প্রশাসকদের |

চীন দেশের তথ্য মন্ত্রক থেকে প্রকাশিত এক নথিতে সম্প্রতি বলা হয়েছে, শিন্ জিয়াং প্রদেশে সব ধর্মের মানুষ কয়েকশ বছর ধরে সহাবস্থান করে । কারোর ধর্মে হস্তক্ষেপ করা হয়না । খৃষ্টীয় দশম শতকে যুদ্ধের সময় ঐ প্রদেশে আরব মুসলমানরা অনুপ্রবেশ করে । কালক্রমে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বৌদ্ধধর্মের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধিপত্য ক্ষুণ্ন হতে শুরু করে। আর এই কারনেই ইসলামিক উগ্রপন্থা, সাম্প্রদায়িকতা, ও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিতে থাকে।

উইঘুর নেতৃত্বের দাবী, চীন সরকার মুসলিম, ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি মুছে দেবার চেষ্টা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here