স্ট্যালিনগ্রাড-জার্মান বাহিনীর পতনের কারণ

0

Last Updated on

আগষ্ট ২৩,১৯৪২। পশ্চিম রাশিয়া সহ প্রায় গোটা ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার একটা বিরাট অংশ দখল করে নেওয়ার পর ওয়েরমাচট (Wehrmacht) বা জার্মান সেনাবাহিনী দক্ষিণ রাশিয়ার স্ট্যালিনগ্রাড শহর আক্রমণ করে বসে। একে মহামতি স্ট্যালিনের নামে শহর তারপর ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরই রেড আর্মিকে সরবরাহকারী অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদন সহ বড় বড় শিল্প কারখানায় ঠাসা। ফুয়েরারের কাছে এর গুরুত্ব তাই অপরিসীম। হিটলার এই শহর বিজয়ের লড়াইকে ব্যাক্তি বনাম ব্যাক্তি অর্থাৎ তিনি বনাম স্ট্যালিন হিসেবে নিয়েছেন। একে একে অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যাণ্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যাণ্ডস, বেলজিয়াম এবং পরিশেষে ফ্রান্সকে দখল করে ‘Lightening War’ স্ট্র্যাটেজি খ্যাত প্রবল পরাক্রমশালী, প্রবল আত্মবিশ্বাসী জার্মান বাহিনীর ক্ষেত্রে এখানেও তার ব্যাতিক্রম হল না। খুব সহজেই ভলগার পূর্বপারে শহরের অংশের দখল নিল তাঁরা। হিটলারের নির্দেশ, শীতের আগেই দখল করে ফেলতে হবে শহরের বাকি অংশও। কিন্তু বাদ সাধল সময়। প্রবল রাশিয়ান প্রতি আক্রমণের সামনে পড়ে ওয়েরমাচটের ‘Lightening War’ কোথাও যেন খেই হারিয়ে ফেলল। দেখতে দেখতে চলে এল শীত৷ প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জার্মান সিক্সথ আর্মির জুবুথুবু অবস্থা। এদিকে রাশিয়ানরা এ শীতের সঙ্গে পূর্ব পরিচিত। তাদের খুব একটা অসুবিধে হচ্ছে না। লড়তে এদিকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডাতে বরফ পড়া শুরু হয়ে গেছে। তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ৪০ ডিগ্রী। এই ঠাণ্ডাতে দুই বাহিনীরই অস্ত্রশস্ত্র ঠিকমত কাজ করছে না। কিন্তু রাশিয়ানরা এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে। তেলের বদলে গ্যাসোলিনের ব্যাবহার। গ্যাসোলিন যা সহজে জমে না ফলে বন্দুক বিশেষ করে স্ট্যালিনগ্রাডে ব্যাবহৃত রাশিয়ান মোসিন ন্যাগেন্ট এম ৯১/৩০ স্নাইপার রাইফেল রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উপযোগী। অথচ জার্মানরা সেই তেলেরই ব্যাবহার জারি রেখেছে। ফলে স্নাইপার দিয়ে গোরিলা যুদ্ধ,যা কিনা স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে তাতে জার্মানরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে জেনারেল যুকভের নেতৃত্বে রেড আর্মির সাইবেরিয়ান ডিভিশন এক বিশেষ ধরণের গরম জামা পড়ে মোকাবিলায় নেমেছে, যা শরীর গরম রাখতে বিশেষ সহায়তা করে। ফলে ঠাণ্ডার মোকাবিলাতেও জার্মানরা ক্রমশ রাশিয়ানদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। ফলে যা হওয়ার তাই হল। বিশাল সংখ্যক জার্মান সেনাকে জেনারেল যুকভ পিছনের দিক দিয়ে আক্রমণ শানিয়ে দুদিক থেকে ঘিরে ফেললেন। তাদের সাপ্লাই লাইন কাটা পড়ল। ফলে না আসতে পারল খাবার না অ্যামিউনিশন। বিরাট সংখ্যক জার্মান সেনা খাবারের অভাবে মারা পড়ল। আর যারা পড়ল না তারা আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হল।

২রা ফেব্রুয়ারী ১৯৪৩। প্রায় ৫ মাস চলা স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ শেষ হল জার্মান সিক্সথ আর্মির পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে। এবং এই যুদ্ধই গোটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিল।

শিবাজী প্রতিম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here