রফির সমর্থনে বাংলাদেশের পথে নামলেন ১০হাজার মানুষ

0

Last Updated on

দিল্লি হোক বা বাংলাদেশের ফেনি| নারী নির্যাতনের ছবিটা কিন্তু একই| বাংলাদেশের আঠারো বছরের নুসরত জাহান রফির শেষযাত্রায় দশ হাজার লোকের মিছিল| তাঁরা হাঁটছেন রফির হয়ে বিচার চাইতে| তাঁর মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন রফি| তার জেরে গ্রেফতার হতে হয় সেই প্রিন্সিপালকে| আর তারপরই বাড়ে উপদ্রব| নিয়মিত ফোনে হুমকি দেওয়ার পরও থানার অভিযোগ না তোলায়,স্কুলের মধ্যেই হাত-পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে রফিকে জ্যান্ত জ্বালানোর তোড়জোড় করে পাঁচ ব্যক্তি| নিজেদের বোরখার আড়ালে রেখে এই কাজ করেছিল তারা,অ্যাম্বুলেন্সে যেতে যেতে রফি জানিয়েছিল তাঁর ভাইকে| এই পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিল জেলের ভিতর থাকা অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল| দেহের প্রায় ৮০শতাংশ পোড়া নিয়ে চারদিন লড়াই করে মেয়েটি| তারপর হার মানে এই পড়ুয়া| তাঁরই শেষ যাত্রায় বারবার আওয়াজ ওঠে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে| প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাধ্য হন রফির পরিবারের সঙ্গে দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিতে| জানা যায়,দোষীদের মধ্যে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন| প্রিন্সিপাল তাঁদের জোরেই এতদিন ধরে কুকর্মের বিষয়টি চেপে রেখে রফির পরিবারকে অভিযোগ ফিরিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছিল| যদিও তদন্তে নেমে তাদেরকেও গ্রেফতার করে পুলিশ| ২৭শে মার্চ প্রথম ঘটনার অভিযোগ করতে গেলে থানার তদানীন্তন পুলিশ আধিকারিক অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন| তেমন গুরুত্বই দেয়নি বলে জানান রফির পরিবারের লোকজন| বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনের দাবি,সেদেশে এই ধরনের অভিযোগ নিয়ে নারীরা সচরাচর এগিয়ে আসেন না|তার কারণ দেশের আইনী দীর্ঘসূত্রীতা| বেশিরভাগ অভিযোগ দাখিল না হয়েই থাকে| তাছাড়া ইসলামীয় দেশে কোন নারীর পক্ষে এই ধরনের অভিযোগ জনসমক্ষে আনা খুবই সাহসের পরিচয় বলে মনে করেন তাঁরা| রফির ক্ষেত্রে কাজটি সহজ হয়েছে তাঁর পরিবারের জন্য| তাঁরাও মেয়ের প্রতি হওয়া এই অন্যায়ের সুবিচার চেয়েছেন| দশহাজার মানুষের মিছিল ছাড়াও এই ঘটনায় রফির পরিবারকে বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন| আভ্যন্তরীণ সাঁড়াশি চাপে কত তাড়াতাড়ি সুবিচার মেলে এখন তাঁরই অপেক্ষা বাংলাদেশের তামাম জনতার|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here