এবার ভিসা ছাড়াই পাকিস্তানের কর্তারপুর সাহেবে যেতে পারবেন ভারতের শিখ পুণ‍্যার্থীরা

0

Last Updated on

কর্তারপুর সাহেব জায়গাটা পাকিস্তানে হলেও ভারতের শিখ পুণ‍্যার্থীদের সেখানে যেতে আর কোনো ভিসা লাগছে না। আগামী নভেম্বর মাস থেকেই ভারত ও পাকিস্তান—দু’দেশের মধ্যে চালু হতে চলেছে কর্তারপুর করিডোর। শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। পাকিস্তানের কর্তারপুর শিখ দরবার সাহেবের সঙ্গে ভারতের গুরুদাসপুরের ডেরা বাবা নানক মন্দিরের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করবে এই করিডোর। আর এই কর্তারপুর সাহেব যেতে ভারতের শিখ পুণ‍্যার্থীদের কোনো ভিসা লাগবে না।
বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ মার্চ দু’দেশের মধ্যে এক প্রস্থ আলোচনা হয়েছিল। ফের গত ১৪ জুলাই, রবিবার এ বিষয়ে খসড়া চুক্তি নিয়ে ওয়াঘা সীমান্তে বসেছিলেন দু’দেশের প্রতিনিধিদল। এ দিন সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়েছিল বৈঠক। চলে প্রায় ৪ ঘণ্টা। ভারতের ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব এস.সি.এল দাস। অন‍্যদিকে, পাকিস্তানের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ফয়জল।
বৈঠকে ভারতের দাবিগুলি ছিল:
১) পুণ‍্যার্থীদের মধ্যে ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করা চলবে না।
২) ওসিআই পরিচয়পত্রধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদেরও এই সুযোগ দিতে হবে।
৩) কর্তারপুর যেতে কোনো ভিসা লাগবে না। কোনো রকম পারমিট ফিও লাগবে না।
৪) পুণ‍্যার্থীরা সারা বছর সপ্তাহে ৭ দিনই সেখানে যেতে পারবেন।
৫) একা একা, কিংবা দল বেঁধেও পুণ‍্যার্থীরা যেতে পারবেন।
৬) পুণ‍্যার্থীরা পায়ে হেঁটেও যেতে পারবেন।
৭) পুণ‍্যার্থীদের জন্য সেখানে লঙ্গরখানা বা প্রসাদের ব‍্যবস্থা থাকবে।
৮) ভারতীয় পুণ‍্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কর্তারপুরে থাকবে কনস‍্যুলার সুবিধা।
আলোচনা শেষে পাক প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র ফয়জুল জানান, আলোচনা ইতিবাচক। ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে সহমত হয়েছে দুই দেশ। বাকি ২০ শতাংশ পরবর্তী বৈঠকেই হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। পাক প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র আরও জানান, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চান, এই অঞ্চলে শান্তি বজায় থাক্। তাই আগামী নভেম্বরেই গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকীতে এই করিডোর চালু করতে চান তিনি।
অন্যদিকে, এই কর্তারপুর করিডোরে কোনো রকম ভারত বিরোধী কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে পাকিস্তান জানিয়েছে।
এদিকে প্রতিদিন ৫ হাজার এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে ১০ হাজার শিখ পুণ‍্যার্থীকে কর্তারপুর সাহেবে যাওয়ার অনুমতি দিতে পাকিস্তানকে বলেছে ভারত। তবে এ বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী নভেম্বরে ঠিক কত সংখ্যক শিখ পুণ‍্যার্থী কর্তারপুর সাহেবে যেতে পারবেন, এ বিষয়ে পাক প্রতিনিধিদলের মুখপাত্রের বক্তব্য, সংখ্যাটা ৫ থেকে ৮ হাজার হতে পারে।
এছাড়াও কর্তারপুর সাহেবে সব সময় ব‍্যবহারের জন্য সেখানে একটি সেতু তৈরিতেও ভারতের প্রস্তাবে রাজি পাকিস্তান। তবে সেখানে ব়াঁধ তৈরি হলে কর্তারপুর এলাকায় বন‍্যা দেখা দিতে পারে। তাই সেখানে ভারতের মতো সেতু তৈরির কথা বলেছে নয়া দিল্লি।
এছাড়াও ভারতের দাবি মেনে তাদের প্রতিনিধিদল থেকে খলিস্থানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গোপাল সিংকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান শিখ গুরুদ্বার প্রাবন্ধিক কমিটি।
সব মিলিয়ে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ, বাকি ২০ শতাংশ পরবর্তী বৈঠকে হয়ে গেলেই গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী নভেম্বর থেকেই চালু হয়ে যাবে কর্তারপুর করিডোর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here