ইউক্রেনীয় বিমানের ১৭৬ জনের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুই কি বিশ্বকে বাঁচিয়ে দিল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে

0
Death of 176 People of Ukrainian Plane saved world from WWIII

Last Updated on

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে সামরিক বাহিনী ‘ভ্রমবশত’ ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে ধ্বংস করেছে। ওই বিমানে ১৭৬ জন যাত্রী ছিলেন। ইরানের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে এটিকে ‘মনুষ্যকৃত ভুল’ বলা হয়েছে । এই স্বীকারোক্তি থেকে কী বলা যায় না যে এই মানবিক ত্রুটির কারণে বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে বেঁচে গেল?

আরো পড়ুন :ভারতের সীমান্তবর্তী তিব্বতে বিশাল সামরিক মহড়া আরম্ভ করেছে চীন

২০২০ সালের ৮ ই জানুয়ারী ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের বিমানটি ধ্বংস হয় এবং এতে সওয়ার সমস্ত যাত্রী এবং ক্রুরা নিহত হন। বিমানটি ছিল একটি বোয়িং ৭৩৭ , যেটি টেক অফের তিন মিনিটের মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি হয় ।

কানাডার পিস টাওয়ারের পতাকা অর্ধনমিত

রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটে। উক্ত বিমানটি ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগেই ইরান, ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে নিশানা করে মিসাইল হানা ঘটায় ।

ইরাকি মিসাইলের অংশ

৮ ই জানুয়ারী থেকে ইরান ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছিল যে তারাই বিমানটি ধ্বংসের জন্য দায়ী । তবে ইরান সরকার যখন বিমানের ব্ল্যাক বক্স ইউক্রেন বা বোয়িংকেও দিতে অস্বীকার করে, তখন সর্বস্তরে সন্দেহ দৃঢ় হয় যে এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয় ।

সর্বোপরি ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি স্বীকার করেছেন যে তাঁর সেনাবাহিনী একটি ভুল করেছে। তবে এই ভুল বিশ্বকে যুদ্ধ থেকেও বাঁচিয়ে দিয়েছে ।

উদ্ধারকারী দল

এর কারণ হিসেবে বলা যায় , বিমানের যাত্রীদের মধ্যে ইরানী নাগরিকদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। দুই নম্বরে ছিল কানাডার নাগরিকদের সংখ্যা ।

কাসিম সুলেইমানি হত্যার আগে ইরান বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যাতে জর্জরিত ছিল । দেশের নাগরিকরা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রমাগত সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন ।

এদিকে, সুলেইমানির মৃত্যুর দিকে জনসাধারণের নজর ঘুরিয়ে দিয়ে সমস্যাগুলিকে ঠান্ডা ঘরে থেকে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল রুহানির সরকার । সুলেইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ চেয়ে ইরানী জনগণের মনোযোগ জাতীয়তাবাদের দিকে চলে গেছে ।

তাঁদের প্রিয় জেনারেলের মৃত্যুতে ইরানের সমস্ত শ্রেণীর মানুষের ভিতর দিয়েই উঠে আসছিল যুদ্ধের দাবী । এই পরিস্থিতিতে নিরীহ যাত্রীদের মৃত্যু বিশ্বকে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে দিল ।

ইরান সরকার ইরানের সেই সমস্ত নাগরিকদের তরফ থেকেও চাপে ছিল, যাদের আত্মীয়রা বিমানটির যাত্রী হয়ে দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর শিকার হন। আন্তর্জাতিক স্তরেও ইরানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ বিমানটিতে অন্যান্য দেশের যাত্রীরাও ছিলেন ।

আরো পড়ুন :ইরাকের মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল ছোঁড়ার পর ট্রাম্পের ট্যুইট,অল ইজ ওয়েল

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধজ্ঞাপন

এতদিন ইরান কাঁদুনি গাইতে পারছিল, আমেরিকা বিনা প্ররোচনাতে তাঁদের জেনারেল কে হত্যা করেছে। কিন্তু ১৭৬ জন নিরীহ মানুষের মৃতদেহের ভার এখন ইরানের কাঁধে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন যে তার প্রতিশোধ নেওয়া শেষ হয়েছে। এখন ইরান সরকার যদি যুদ্ধের পথে অগ্রসর হয়, তবে দেশের ভিতরে ও আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো দিক থেকেই কোনো সহানুভূতি পাবে না ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here