শুধু ভারতই নয়, ১৮ টি দেশের সঙ্গে রয়েছে চীনের সীমানা সংঘাত, চীনের দাদাগিরির শিকার এই ১৮টি দেশই

0
China border disputes with 18 countries

Last Updated on

ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) মধ্যে সীমান্ত সংঘাত দেশে চীনবিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তুলেছে। চীনা পণ্য বর্জন করার জন্য এবং চীন থেকে আমদানি হ্রাস করার আহ্বান দেশে উচ্চস্বরে শোনা যাচ্ছে। ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ বহু পুরনো। তবে চীনের যে একমাত্র সীমান্ত বিরোধ ভারতের সঙ্গে তা নয়। চীনকে চারদিক থেকে ঘিরে থাকা ১৮ টি দেশের সঙ্গে চীনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ভারত থেকে জাপান হয়ে ফিলিপিন্স পর্যন্ত চীন বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সম্প্রসারণবাদী নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার শিকার হয়ে এসেছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে তাঁর নেই কোনও হেলদোল। আসুন দেখে নেওয়া যাক কোন কোন দেশের সঙ্গে চীনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে তাঁর একটি তালিকা ।

আরো পড়ুন :গিলগিট-বালটিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের দিন ঘোষনার পাক চালের তীব্র বিরোধিতা ভারতের

১) জাপান – দক্ষিণ চীন সাগরের অংশ বিশেষত সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ, রিউক্যু দ্বীপপুঞ্জ জাপান এবং চীন উভয়েই দাবি করে এবং উভয় দেশ এই সীমানা ইস্যু নিয়ে পরস্পর বিরোধিতার সূর চড়ায়।

২) ভিয়েতনাম – চীন ভিয়েতনামের বৃহত অংশকে ঐতিহাসিকভাবে দাবি করে। (মিং রাজবংশ)। এছাড়াও, ম্যাকসফিল্ড ব্যাংক, প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ চীন সাগরের কিছু অংশ এবং স্প্রেটলি দ্বীপপুঞ্জ যেগুলির উপর আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে ভিয়েতনামের উত্তরাধিকার, তা দীর্ঘদিন ধরে দাবী করে আসছে চীন।

৩) ভারত – চীন ৩৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার ভারতীয় অঞ্চল দখল করে ১৯৬২ সালে, যা আকসাই চিন নামে চেনে সবাই। তার সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের উপরেও দাবি রয়েছে চীনের। এই সম্প্রসারণবাদী নীতিই পিএলএ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণ।

৪) নেপাল – চীন নেপালের কিছু অংশ ১৭৭৮-৯২-এ চীন-নেপাল যুদ্ধের পূর্বের বলে দাবি করেছে। চীন দাবি করেছে নেপালের ঐ অঞ্চলগুলি তিব্বতের অংশ, তাই তা চীনেরও অংশ।

৫) উত্তর কোরিয়া – বাইকদু পর্বত এবং জিয়াংও যা বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার অংশ তাকে চীন তাদের ঐতিহাসিক ভিত্তিতে দাবি করেছে।

৬) ফিলিপিন্স – দক্ষিণ চীন সাগরের অংশগ নিয়ে এই দুটি দেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। ফিলিপিন্স এটিকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে নিয়ে যায়, যেখানে তারা মামলাটি জিতেছিল তবে চীনারা আইসিজে-র আদেশ মানেনি।

৭) রাশিয়া- ১,৬০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জায়গাকে চীন রাশিয়ার সঙ্গে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেও একতরফা দাবি করে থাকে।

৮) সিঙ্গাপুর – দক্ষিণ চীন সাগরের কিছু অংশ নিয়ে উভয় দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে অনেকদিন ধরে।

৯) দক্ষিণ কোরিয়া – পূর্ব চীন সাগরের কিছু অংশ নিয়ে চীন দক্ষিন কোরিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘাত রয়েছে।

১০) ভুটান – তিব্বত-ভুটানের মধ্যে ছিটমহল, যেমন চেরকিপ গোপা, ধো, ডুঙ্গমার, গেসুর, গিজোন, ইত্তে গোপা, খোচর, নায়ানরি, রিংং, সানমার, তারচেন এবং জুথুলফুককে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবী করে থাকে। এছাড়াও কুলা কংগ্রি এবং এই শিখরের পশ্চিমে পার্বত্য অঞ্চল, এবং ভুটানের পশ্চিম হা জেলা প্রভৃতি অংশও নিজেদের বলে বেআইনি দাবী করে থাকে চীন।

১১) তাইওয়ান – চীন সমস্ত তাইওয়ানকে দাবি করে, তবে বিশেষভাবে তারা বড় ব্যাংক, প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ, স্কার্বরো শোল, দক্ষিণ চীন সাগরের কিছু অংশ এবং স্প্রেটলি দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের বলে থাকে। ভিয়েতনামীদের জিশা দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত পার্সেল দ্বীপপুঞ্জ হ’ল দক্ষিণ চীন সাগরের একাধিক দ্বীপ যাঁর সার্বভৌমত্ব চীন, তাইওয়ান এবং ভিয়েতনাম তিনজনই দাবী করে থাকে।

১২). লাওস – চীনের ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে লাওসের বৃহৎ অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে থাকে।

১৩) ব্রুনেই – স্প্রেটলি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীনের সঙ্গে বিবাদ রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগর স্থিত এই ছোট্ট দেশটির।

১৪) তাজিকিস্তান – ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে চীনা দাবি রয়েছে মধ্য এশিয়ার এই মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির কিছু অংশের উপর।

১৫) কম্বোডিয়া – মিং রাজবংশের সময়কালের যুক্তি দেখিয়ে চীন কম্বোডিয়ার কিছু অংশকে নিজেদের বলে দাবী করে থাকে।

আরো পড়ুন :সঙ্কটে নেপালী প্রধানমন্ত্রী ওলির কুর্সি, এর পিছনে ভারতের হাত বলে ইশারা ওলির

১৬) ইন্দোনেশিয়া – দক্ষিণ চীন সাগরের কিছু অংশ নিয়ে এই দেশটির সঙ্গে চীনের বিবাদ ভীষণ সুবিদিত।

১৭) মালয়েশিয়া – দক্ষিণ চীন সাগরের অংশ, বিশেষত স্প্রেটলি দ্বীপপুঞ্জের উত্তরাধিকার নিয়ে এই অঞ্চলের অন্য সব দেশের মতই মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে রয়েছে চীন।

১৮) মঙ্গোলিয়া – চীন সমস্ত মঙ্গোলিয়াকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেদের বলে দাবী করে। ইউয়ান রাজবংশ যা ১২৭১ থেকে ১৩৬৮ সাল অবধি চিনে স্থায়ী হয়, তাদের সময়কালের উদাহরণ দেখিয়ে চীন মঙ্গোলিয়াকে নিজেদের অংশ বলে দাবী করে থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মঙ্গোলিয়ার শাসক চেঙ্গিস খান তাঁর সময়কালে চীনকে দখল করেছিলেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here